০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প চট্টগ্রামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, ব্যবসায়ীকে ‘ছেলেমেয়ের লাশ ফেলে রাখার’ হুমকি

হিউএনচাঙ (শেষ পর্ব)

পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না।

‘হিউএনচাঙ’ নামের বানান 

পৃথিবীতে প্রথম তিনজনের কাল অতীত হয়েছে। বর্তমান কালের ধ্যানীবুদ্ধ হচ্ছেন অমিতাভ, বোধিসত্ত্ব হচ্ছেন অবলোকিতেশ্বর, মানুষী বুদ্ধ গৌতম। ভবিষ্যৎ কালের ধ্যানীবুদ্ধ হবেন অমোঘসিদ্ধি, বোধিসত্ত্ব বিশ্বপাণি ও মানুষীবুদ্ধ মৈত্রেয়।

এরাই প্রধান। তাছাড়া বহু বোধিসত্ত্ব, স্ত্রীদেবতা (তারা), তার নীচের পদবীর দেবতারা (হেবজ্র, হারিতী, ধর্মপালগণ ইত্যাদি), ক্রমশঃ বৌদ্ধ স্বর্গে স্থান পেয়েছেন। স্বর্গও নানা স্তরের কল্পিত হয়েছে। বৌদ্ধ পণ্ডিত (যথা নাগার্জুন) ও সাধু ব্যক্তিগণ বোধিসত্ত্বরূপে পূজিত হন। (এঁদের দেখাদেখি খৃস্টানরাও সাধু খৃস্টানদের ‘সেন্ট’ রূপে পূজা করেন)।

মোটামুটি বলতে গেলে, ‘মহাযানী’ ও ‘হীনযানী’র প্রভেদ হচ্ছে যে যাঁরা বোধিসত্ত্ব ইত্যাদির পূজা করেন আর মহাযানী শাস্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁরাই মহাযানী, অন্য বৌদ্ধরা হীনযানী। এই দুই যানেরই আবার বহু শাখা আছে, আর প্রত্যেক শাখারই (বিশেষত মহাযানীদের) অসংখ্য ‘শাস্ত্র’ ও ‘সূত্র’ আছে। (সূত্রগুলি মৌলিক গ্রন্থ আর শাস্ত্রগুলি হচ্ছে ভাষ্য)।

অবশ্য ‘হীনযানীরা’ নিজেদের হীনযানী বলেন না। তাঁদের মতে তাঁরাই প্রকৃত বৌদ্ধ, অপররা ‘আকাশকুসুমবাদী’।

পরিব্রাজকের নামের বানান রোমান অক্ষরে নানাভাবে লেখা
হয়েছে, যথা-
Hiouen Thsang (Julien)
Huen Tsiang (Beal)
Huan Chwang (Mayers)
Yuen Chwang (Wylie)
Hhuen Kisan (Bunyiu Nanjio)
Hsuan Chuang (Giles)
Hsuan Tsang (Grousset)
Hiuen Tsang (V. A. Smith)
Yuan Chwang (Watters ও পরে V. A. Smith)

এ বিভিন্নতার কারণ কতকগুলি। প্রথমত, চীন ভাষায় ভাবাঙ্কন লিপি প্রচলিত থাকায়, একই লেখা ভিন্ন ভিন্নভাবে উচ্চারিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না। en-এর উচ্চারণ আঁ। অতএব ফরাসী ভাষায় লেখা Hiouen-ইউআঁ। তৃতীয়ত, চীন ভাষায় দুই রকম চ আছে; তার একটা রোমান অক্ষরে ts লেখা হয়। বাঙলায় ৎস না বলে সোজাসুজি চ বলাই ভাল। আর রোমান হরফে যা Hs লেখা হয় তার চীন উচ্চারণ ‘শ’ এরই মতন। (এই দুই বিষয়ে আমার প্রমাণ-Lin Yutang-এর My Country and My People Appendix II)1 Grousset লিখিত বানানই এখন চলিত, অর্থাৎ Hsuan Tsang-শৃআন্ চাঙ। কিন্তু এ নামটা আমাদের ইতিহাসে অপ্রচলিত বলে Smithএর Hiuen Tsang-হিউএনচাঙ-ই আমি গ্রহণ করেছি।

পরিচয় জানা থাকলে নামের বানানে কী আসে যায়? শেক্সপীয়ার নিজের নামই তিন চার রকম করে বানান করতেন। কিন্তু ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম এক রকম বানান না করলে, ইতিহাসের বইতে তাঁদের বিষয় খুজে পাওয়া কঠিন হয়।

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)

জনপ্রিয় সংবাদ

নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন

হিউএনচাঙ (শেষ পর্ব)

০৯:০০:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৫ অগাস্ট ২০২৫

পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না।

‘হিউএনচাঙ’ নামের বানান 

পৃথিবীতে প্রথম তিনজনের কাল অতীত হয়েছে। বর্তমান কালের ধ্যানীবুদ্ধ হচ্ছেন অমিতাভ, বোধিসত্ত্ব হচ্ছেন অবলোকিতেশ্বর, মানুষী বুদ্ধ গৌতম। ভবিষ্যৎ কালের ধ্যানীবুদ্ধ হবেন অমোঘসিদ্ধি, বোধিসত্ত্ব বিশ্বপাণি ও মানুষীবুদ্ধ মৈত্রেয়।

এরাই প্রধান। তাছাড়া বহু বোধিসত্ত্ব, স্ত্রীদেবতা (তারা), তার নীচের পদবীর দেবতারা (হেবজ্র, হারিতী, ধর্মপালগণ ইত্যাদি), ক্রমশঃ বৌদ্ধ স্বর্গে স্থান পেয়েছেন। স্বর্গও নানা স্তরের কল্পিত হয়েছে। বৌদ্ধ পণ্ডিত (যথা নাগার্জুন) ও সাধু ব্যক্তিগণ বোধিসত্ত্বরূপে পূজিত হন। (এঁদের দেখাদেখি খৃস্টানরাও সাধু খৃস্টানদের ‘সেন্ট’ রূপে পূজা করেন)।

মোটামুটি বলতে গেলে, ‘মহাযানী’ ও ‘হীনযানী’র প্রভেদ হচ্ছে যে যাঁরা বোধিসত্ত্ব ইত্যাদির পূজা করেন আর মহাযানী শাস্ত্রে বিশ্বাস করেন, তাঁরাই মহাযানী, অন্য বৌদ্ধরা হীনযানী। এই দুই যানেরই আবার বহু শাখা আছে, আর প্রত্যেক শাখারই (বিশেষত মহাযানীদের) অসংখ্য ‘শাস্ত্র’ ও ‘সূত্র’ আছে। (সূত্রগুলি মৌলিক গ্রন্থ আর শাস্ত্রগুলি হচ্ছে ভাষ্য)।

অবশ্য ‘হীনযানীরা’ নিজেদের হীনযানী বলেন না। তাঁদের মতে তাঁরাই প্রকৃত বৌদ্ধ, অপররা ‘আকাশকুসুমবাদী’।

পরিব্রাজকের নামের বানান রোমান অক্ষরে নানাভাবে লেখা
হয়েছে, যথা-
Hiouen Thsang (Julien)
Huen Tsiang (Beal)
Huan Chwang (Mayers)
Yuen Chwang (Wylie)
Hhuen Kisan (Bunyiu Nanjio)
Hsuan Chuang (Giles)
Hsuan Tsang (Grousset)
Hiuen Tsang (V. A. Smith)
Yuan Chwang (Watters ও পরে V. A. Smith)

এ বিভিন্নতার কারণ কতকগুলি। প্রথমত, চীন ভাষায় ভাবাঙ্কন লিপি প্রচলিত থাকায়, একই লেখা ভিন্ন ভিন্নভাবে উচ্চারিত হতে পারে। দ্বিতীয়ত, পরিব্রাজকের প্রথম অনুবাদক ছিলেন Julien নামক ফরাসী পণ্ডিত। ফরাসী ভাষায় H উচ্চারিত হয় না। en-এর উচ্চারণ আঁ। অতএব ফরাসী ভাষায় লেখা Hiouen-ইউআঁ। তৃতীয়ত, চীন ভাষায় দুই রকম চ আছে; তার একটা রোমান অক্ষরে ts লেখা হয়। বাঙলায় ৎস না বলে সোজাসুজি চ বলাই ভাল। আর রোমান হরফে যা Hs লেখা হয় তার চীন উচ্চারণ ‘শ’ এরই মতন। (এই দুই বিষয়ে আমার প্রমাণ-Lin Yutang-এর My Country and My People Appendix II)1 Grousset লিখিত বানানই এখন চলিত, অর্থাৎ Hsuan Tsang-শৃআন্ চাঙ। কিন্তু এ নামটা আমাদের ইতিহাসে অপ্রচলিত বলে Smithএর Hiuen Tsang-হিউএনচাঙ-ই আমি গ্রহণ করেছি।

পরিচয় জানা থাকলে নামের বানানে কী আসে যায়? শেক্সপীয়ার নিজের নামই তিন চার রকম করে বানান করতেন। কিন্তু ঐতিহাসিক ব্যক্তিদের নাম এক রকম বানান না করলে, ইতিহাসের বইতে তাঁদের বিষয় খুজে পাওয়া কঠিন হয়।

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)

হিউএনচাঙ (পর্ব-১৬৩)