০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা উপেক্ষা নয়, সময়মতো চিকিৎসাই বাঁচাতে পারে প্রাণ

হঠাৎ মনে হয় বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা খুব দ্রুত বা এলোমেলোভাবে কাঁপছে। কিছুক্ষণ পর সেই অনুভূতি থেমে গেলে আমরা বিষয়টি আর গুরুত্ব দিই না। চাপ, ক্লান্তি কিংবা সাময়িক অস্বস্তি ভেবে আবার দৈনন্দিন জীবনে ফিরে যাই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অনিয়মিত হৃদস্পন্দন কখনোই অবহেলা করার মতো নয়। এটি হতে পারে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন নামে এক গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণ, যা স্ট্রোক ও হৃদযন্ত্র বিকলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন কী

স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে। সাইনোএট্রিয়াল নোড থেকে সংকেত শুরু হয়ে নিয়মিতভাবে হৃদপিণ্ডের নিচের অংশে পৌঁছে যায়। এতে হৃদস্পন্দন থাকে স্থির ও নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে এই ছন্দ ভেঙে যায়। হৃদপিণ্ডের ওপরের অংশে অগোছালো বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়, যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে হৃদস্পন্দন হয়ে ওঠে অনিয়মিত ও অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত, যা রোগীরা বুক ধড়ফড় করা হিসেবে অনুভব করেন।

Jaw Pain Heart Attack Symptom in Women - Liv Hospital

এই অবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দুটি। দীর্ঘদিন দ্রুত ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আবার হৃদপিণ্ডের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে সেই জমাট রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছালে স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

শুরুর ধাপ ও দেরি হলে কী হয়

যদি অনিয়মিত হৃদস্পন্দন সাত দিনের মধ্যে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে, তাহলে সেটিকে প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বলা হয়। এই ধাপে চিকিৎসার সাফল্যের হার অনেক বেশি। কিন্তু সাত দিনের বেশি সময় ধরে যদি এই সমস্যা চলতে থাকে, তখন সেটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছায়। এ অবস্থায় হৃদপিণ্ডের গঠনেও পরিবর্তন দেখা যায় এবং চিকিৎসা হয়ে ওঠে তুলনামূলক কঠিন। এ কারণেই চিকিৎসকেরা বারবার জোর দিচ্ছেন সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও দ্রুত চিকিৎসার ওপর।

নতুন চিকিৎসায় আশার আলো

জোহরের গ্লেনইগলস হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুয়েক চু ঝেন জানান, অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন অনেক সময় ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং রোগী নিজেও বুঝতে পারেন না। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন, ক্রায়োবেলুন অ্যাবলেশন এবং সর্বাধুনিক পালসড ফিল্ড অ্যাবলেশন।

পালসড ফিল্ড অ্যাবলেশন পদ্ধতিতে তাপ বা শীতলতা ব্যবহার না করে বিশেষ বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের অসংগত টিস্যু লক্ষ্য করে চিকিৎসা করা হয়। এতে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন খাদ্যনালি ও স্নায়ু তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এটি বর্তমানে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি।

সময়ে ধরা পড়লেই জীবন স্বাভাবিক

ডা. কুয়েকের ভাষায়, রোগীদের ভয় পাওয়ার আর কারণ নেই। একসময় যে রোগকে প্রায় অচিকিৎসাযোগ্য মনে করা হতো, এখন তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন আক্রান্ত রোগীরাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে পারেন।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা উপেক্ষা নয়, সময়মতো চিকিৎসাই বাঁচাতে পারে প্রাণ

০৫:৫৫:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

হঠাৎ মনে হয় বুকের ভেতর হৃদপিণ্ডটা খুব দ্রুত বা এলোমেলোভাবে কাঁপছে। কিছুক্ষণ পর সেই অনুভূতি থেমে গেলে আমরা বিষয়টি আর গুরুত্ব দিই না। চাপ, ক্লান্তি কিংবা সাময়িক অস্বস্তি ভেবে আবার দৈনন্দিন জীবনে ফিরে যাই। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, এই অনিয়মিত হৃদস্পন্দন কখনোই অবহেলা করার মতো নয়। এটি হতে পারে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন নামে এক গুরুতর হৃদরোগের লক্ষণ, যা স্ট্রোক ও হৃদযন্ত্র বিকলের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন কী

স্বাভাবিক অবস্থায় হৃদপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত একটি নির্দিষ্ট ছন্দে কাজ করে। সাইনোএট্রিয়াল নোড থেকে সংকেত শুরু হয়ে নিয়মিতভাবে হৃদপিণ্ডের নিচের অংশে পৌঁছে যায়। এতে হৃদস্পন্দন থাকে স্থির ও নিয়ন্ত্রিত। কিন্তু অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশনে এই ছন্দ ভেঙে যায়। হৃদপিণ্ডের ওপরের অংশে অগোছালো বৈদ্যুতিক সংকেত তৈরি হয়, যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে হৃদস্পন্দন হয়ে ওঠে অনিয়মিত ও অনেক সময় অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত, যা রোগীরা বুক ধড়ফড় করা হিসেবে অনুভব করেন।

Jaw Pain Heart Attack Symptom in Women - Liv Hospital

এই অবস্থার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি দুটি। দীর্ঘদিন দ্রুত ও অনিয়মিত হৃদস্পন্দনের কারণে হৃদযন্ত্র দুর্বল হয়ে যেতে পারে। আবার হৃদপিণ্ডের ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে সেই জমাট রক্ত মস্তিষ্কে পৌঁছালে স্ট্রোকের আশঙ্কা তৈরি হয়।

শুরুর ধাপ ও দেরি হলে কী হয়

যদি অনিয়মিত হৃদস্পন্দন সাত দিনের মধ্যে আবার স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসে, তাহলে সেটিকে প্রাথমিক পর্যায়ের অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন বলা হয়। এই ধাপে চিকিৎসার সাফল্যের হার অনেক বেশি। কিন্তু সাত দিনের বেশি সময় ধরে যদি এই সমস্যা চলতে থাকে, তখন সেটি জটিল পর্যায়ে পৌঁছায়। এ অবস্থায় হৃদপিণ্ডের গঠনেও পরিবর্তন দেখা যায় এবং চিকিৎসা হয়ে ওঠে তুলনামূলক কঠিন। এ কারণেই চিকিৎসকেরা বারবার জোর দিচ্ছেন সচেতনতা, নিয়মিত পরীক্ষা ও দ্রুত চিকিৎসার ওপর।

নতুন চিকিৎসায় আশার আলো

জোহরের গ্লেনইগলস হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. কুয়েক চু ঝেন জানান, অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন অনেক সময় ধীরে ধীরে শুরু হয় এবং রোগী নিজেও বুঝতে পারেন না। তাই প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে এই রোগের চিকিৎসায় বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে রেডিওফ্রিকোয়েন্সি অ্যাবলেশন, ক্রায়োবেলুন অ্যাবলেশন এবং সর্বাধুনিক পালসড ফিল্ড অ্যাবলেশন।

পালসড ফিল্ড অ্যাবলেশন পদ্ধতিতে তাপ বা শীতলতা ব্যবহার না করে বিশেষ বৈদ্যুতিক তরঙ্গের মাধ্যমে হৃদপিণ্ডের অসংগত টিস্যু লক্ষ্য করে চিকিৎসা করা হয়। এতে আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন খাদ্যনালি ও স্নায়ু তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। চিকিৎসকদের মতে, এটি বর্তমানে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন নিয়ন্ত্রণে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি।

সময়ে ধরা পড়লেই জীবন স্বাভাবিক

ডা. কুয়েকের ভাষায়, রোগীদের ভয় পাওয়ার আর কারণ নেই। একসময় যে রোগকে প্রায় অচিকিৎসাযোগ্য মনে করা হতো, এখন তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সঠিক সময়ে রোগ শনাক্ত হলে এবং উপযুক্ত চিকিৎসা পেলে অ্যাট্রিয়াল ফিব্রিলেশন আক্রান্ত রোগীরাও সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও কর্মক্ষম জীবনযাপন করতে পারেন।