০৫:২৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

হোটেল ভাড়ার ১২ লাখ টাকা বকেয়া, এনসিপির কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ

রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান, ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং সেখানে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে হোটেল কর্তৃপক্ষ দলটির আহ্বায়কের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও দিয়েছে।

প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে প্রায় আট মাস ধরে এনসিপির কয়েকজন নেতা দুটি কক্ষ ব্যবহার করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষগুলোতে দলটির আরও কয়েক ডজন নেতার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। পাশাপাশি নারীদের অবাধ আনাগোনা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে যাদের নাম

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে নাম এসেছে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপের। তাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব। অন্যরাও একই শাখার বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। এছাড়া তার বাবা যাত্রাবাড়ী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বকেয়া প্রায় ১২ লাখ টাকা

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, উল্লিখিত পাঁচ নেতার কাছে হোটেলটির মোট ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ছেড়ে যান।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কক্ষ ব্যবহারের সময় সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন, বহিরাগতদের যাতায়াত এবং নারীদের অবাধ উপস্থিতি ছিল। এসব কর্মকাণ্ডকে হোটেল কর্তৃপক্ষ অনৈতিক ও প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবিরোধী বলে উল্লেখ করেছে।

দলের আহ্বায়কের কাছে অভিযোগ

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া আদায় এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগগুলো হোটেল কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের বক্তব্য বা দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

হোটেল ভাড়ার প্রায় ১২ লাখ টাকা বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এনসিপির পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে দলীয় আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

হোটেল ভাড়ার ১২ লাখ টাকা বকেয়া, এনসিপির কয়েক নেতার বিরুদ্ধে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগ

০৫:২৮:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬

রাজধানীর একটি আবাসিক হোটেলে দীর্ঘ সময় ধরে কক্ষ ভাড়া নিয়ে অবস্থান, ভাড়া বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং সেখানে নানা ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে। এ অভিযোগে হোটেল কর্তৃপক্ষ দলটির আহ্বায়কের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগও দিয়েছে।

প্রকাশিত একটি সংবাদে বলা হয়েছে, রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ এলাকার আবাসিক হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডে প্রায় আট মাস ধরে এনসিপির কয়েকজন নেতা দুটি কক্ষ ব্যবহার করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই কক্ষগুলোতে দলটির আরও কয়েক ডজন নেতার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। পাশাপাশি নারীদের অবাধ আনাগোনা এবং বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

অভিযোগে যাদের নাম

হোটেল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগে নাম এসেছে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার, সাদেক মির্জা, মিরাসাত হোসেন হিমেল, শাখাওয়াত হোসেন ও তাওসীপের। তাদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার এস এম শাহরিয়ার এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখার সদস্যসচিব। অন্যরাও একই শাখার বিভিন্ন সাংগঠনিক পদে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শাহরিয়ারের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্থানীয় এক সংসদ সদস্যের ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। পরে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে এনসিপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিবের দায়িত্ব পান। এছাড়া তার বাবা যাত্রাবাড়ী এলাকার সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনুর বিশেষ সহকারী ছিলেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বকেয়া প্রায় ১২ লাখ টাকা

হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, উল্লিখিত পাঁচ নেতার কাছে হোটেলটির মোট ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২০০ টাকা ভাড়া বকেয়া রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে, তারা নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ না করেই হোটেল ছেড়ে যান।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়েছে, কক্ষ ব্যবহারের সময় সেখানে নিয়মিত রাত্রিযাপন, বহিরাগতদের যাতায়াত এবং নারীদের অবাধ উপস্থিতি ছিল। এসব কর্মকাণ্ডকে হোটেল কর্তৃপক্ষ অনৈতিক ও প্রতিষ্ঠানের পরিবেশবিরোধী বলে উল্লেখ করেছে।

দলের আহ্বায়কের কাছে অভিযোগ

হোটেল ইয়ামেনী ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খন্দকার রুহুল আমিনের স্বাক্ষরিত লিখিত অভিযোগ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযোগপত্রে সংশ্লিষ্ট পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে বকেয়া ভাড়া আদায় এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগগুলো হোটেল কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের বক্তব্য বা দলের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সেখানে উল্লেখ করা হয়নি।

হোটেল ভাড়ার প্রায় ১২ লাখ টাকা বকেয়া রেখে চলে যাওয়া এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এনসিপির পাঁচ নেতার বিরুদ্ধে দলীয় আহ্বায়কের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে হোটেল কর্তৃপক্ষ।