০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি জেন জি-র ‘ফ্রেন্ডস’ বানানোর চেষ্টা চলছে, কিন্তু কেন তা অসম্ভব সঙ্কুচিত পোশাক কি নষ্ট না করেই আগের মাপে ফেরানো সম্ভব? ডায়মন্ড লিগের ফাইনালে তৃতীয় অ্যামি হান্ট, দুর্দান্ত ছন্দে ছুটছেন ব্রিটিশ তারকা মারাঠি না জানলে ঝুঁকিতে লাইসেন্স, মহারাষ্ট্রে ট্যাক্সি ও অটোরিকশাচালকদের মিলল আরও এক বছর বয়স বাড়লেই জীবন থেমে যায় না, বরং আসে নিজের মতো বাঁচার স্বাধীনতা: প্রু লেইথ দাঁতের চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে আহত, ‘ভয়াবহ’ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন নিউইয়র্কের যুবক পেন্টাগনের নিয়ন্ত্রণ কি হারাচ্ছেন পিট হেগসেথ? আফ্রিকার প্রকৃত আয়তন তুলে ধরা মানচিত্রের পক্ষে জাতিসংঘের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত সন্তান হত্যার মামলায় রায় হয়নি, লিন্ডসে ক্ল্যান্সিকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র বিতর্ক

১৭ দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উধাও ৩ যুবক, তাদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ১৭ দিন অবস্থানের পর তিন যুবক হঠাৎ উধাও হয়ে গেছেন। বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে সীমান্তের ওই স্থানে তাদের আর দেখা যায়নি। তবে তারা কখন, কীভাবে এবং কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজিবি কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। ফলে তিন যুবকের অবস্থান নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শূন্যরেখায় ১৭ দিনের অবস্থান

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত ১৪ জুন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। গয়টাপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্তে তিন যুবককে কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ অংশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ। এরপর তিন যুবক ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে থাকেন। পুরো সময়জুড়ে তারা বিএসএফ ও বিজিবির নজরদারির মধ্যে ছিলেন।

পরিচয় নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা

স্থানীয়দের কাছে তিন যুবক নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা হলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২), সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬) এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১)।

তবে বিজিবি তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

১৬ দিন ধরে শূন্যরেখায় ৩ যুবক, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

সকালে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি

রৌমারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকালে তিনি ভুন্দুরচর সীমান্তে গিয়ে দেখেন, সেখানে তিন যুবকের কেউ নেই। এলাকাটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল এবং বিএসএফ সদস্যদেরও সেখানে দেখা যায়নি।

এদিকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ভোর থেকেই তারা ওই তিন যুবককে আর দেখতে পাচ্ছেন না।

আগেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল অন্যদের

এর আগে একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যমে মা ও শিশুর মানবিক সংকটের খবর প্রকাশের পর গত ১৮ জুন ভোরে দুই শিশুসহ এক দম্পতিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে ২৩ জুন একই সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুই যুবককে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইজলামারী সীমান্তের ওই তিন যুবক টানা ১৭ দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।

বুধবার সকাল থেকে তাদের আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না। তবে তারা কোথায় গেছেন বা কীভাবে ওই স্থান ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৭ দিন শূন্যরেখায় থাকার পর কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত থেকে তিন যুবকের হঠাৎ উধাও হওয়ায় তাদের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

স্কুলে সহিংসতা ঠেকাতে আগে বদলাতে হবে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি

১৭ দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উধাও ৩ যুবক, তাদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা

০৮:১৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ইজলামারী ভুন্দুরচর সীমান্তের শূন্যরেখায় টানা ১৭ দিন অবস্থানের পর তিন যুবক হঠাৎ উধাও হয়ে গেছেন। বুধবার (১ জুলাই) সকাল থেকে সীমান্তের ওই স্থানে তাদের আর দেখা যায়নি। তবে তারা কখন, কীভাবে এবং কোথায় গেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজিবি কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের কেউই এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করতে পারেননি। ফলে তিন যুবকের অবস্থান নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

শূন্যরেখায় ১৭ দিনের অবস্থান

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গত ১৪ জুন কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। গয়টাপাড়া সীমান্তে নারী ও শিশুসহ ছয়জন এবং ইজলামারী সীমান্তে তিন যুবককে কাঁটাতারের এপারে বাংলাদেশ অংশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

তবে বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বাধার মুখে তাদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করাতে পারেনি বিএসএফ। এরপর তিন যুবক ইজলামারী সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে থাকেন। পুরো সময়জুড়ে তারা বিএসএফ ও বিজিবির নজরদারির মধ্যে ছিলেন।

পরিচয় নিয়ে ছিল অনিশ্চয়তা

স্থানীয়দের কাছে তিন যুবক নিজেদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে দাবি করেছিলেন। তাদের দাবি অনুযায়ী, তারা হলেন ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট উপজেলার নাঈম মিয়া (২২), সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার জহিরুল ইসলাম (২৬) এবং নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার পারভেজ (২১)।

তবে বিজিবি তাদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

১৬ দিন ধরে শূন্যরেখায় ৩ যুবক, সতর্ক অবস্থানে বিজিবি

সকালে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি

রৌমারী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য এবং সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা রুহুল আমিন জানান, বুধবার সকালে তিনি ভুন্দুরচর সীমান্তে গিয়ে দেখেন, সেখানে তিন যুবকের কেউ নেই। এলাকাটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল এবং বিএসএফ সদস্যদেরও সেখানে দেখা যায়নি।

এদিকে জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান বলেন, ভোর থেকেই তারা ওই তিন যুবককে আর দেখতে পাচ্ছেন না।

আগেও সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল অন্যদের

এর আগে একই ঘটনার ধারাবাহিকতায় গণমাধ্যমে মা ও শিশুর মানবিক সংকটের খবর প্রকাশের পর গত ১৮ জুন ভোরে দুই শিশুসহ এক দম্পতিকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।

পরে ২৩ জুন একই সীমান্ত এলাকা থেকে আরও দুই যুবককে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে ইজলামারী সীমান্তের ওই তিন যুবক টানা ১৭ দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করছিলেন।

বুধবার সকাল থেকে তাদের আর সেখানে দেখা যাচ্ছে না। তবে তারা কোথায় গেছেন বা কীভাবে ওই স্থান ত্যাগ করেছেন, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

১৭ দিন শূন্যরেখায় থাকার পর কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্ত থেকে তিন যুবকের হঠাৎ উধাও হওয়ায় তাদের অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।