১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত? নিশ্চিতভাবে যুদ্ধ শেষ হবে না, বদলে যাবে যুদ্ধের ধরন রপ্তানি বাড়ছে, অর্ডার কমছে—বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের মুনাফা যাচ্ছে কোথায়? ‘Belonging: A Journey of Love’: সোনিয়া গান্ধীর বহুল আলোচিত স্মৃতিকথা ১০ নভেম্বর ভারতে প্রকাশ সিলেটে প্রতিমন্ত্রীর অনুষ্ঠান বয়কট সাংবাদিকদের, বিএনপির বিরুদ্ধেও হয়রানির অভিযোগ বিএনপির মন্ত্রীদের মান্নার কড়া বার্তা: ‘সত্য বলুন, দম্ভ দেখাবেন না’ ভারী বৃষ্টিতে দিল্লি অচল, কনট প্লেস থেকে বিমানবন্দর পানির নিচে বিশ্বে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ, বাড়ছে সরবরাহ ঝুঁকি বেলুচিস্তানে ৭২ ঘণ্টার অভিযানে ৪৮ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত, দাবি পাকিস্তানের হৃদয় থেকে রান্না, স্বাস্থ্য থেকে মানুষের পাশে: উদ্ভিদভিত্তিক খাবারে বদলের গল্প

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনে প্রস্তুত দেশ

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের নির্মম হত্যাযজ্ঞ স্মরণে বুধবার সারা দেশে পালিত হবে গণহত্যা দিবস। এদিন পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর ভয়াবহতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

২৫ মার্চের কালরাত্রির প্রেক্ষাপট
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ছিল বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এক পরিকল্পিত অভিযানে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকানো এবং বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমন করা।

নির্মমতা ও ধ্বংসযজ্ঞ
এই অভিযানে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস, পুলিশ সদস্য, ছাত্র, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাট এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এক ভয়াল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। একই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, এরপর পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

সারা দেশে কর্মসূচি
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মুক্তিযোদ্ধারা।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে গণহত্যা বিষয়ক বিরল ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতীকী ব্ল্যাকআউট ও সেমিনার
দিনটি স্মরণে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

সাংস্কৃতিক আয়োজন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্য পরিবেশনার আয়োজন করেছে।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলোও দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

ধর্মীয় কর্মসূচি
শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তার বার্তায় বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি বৈষম্যহীন, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র—যেখানে থাকবে না শোষণ, অবিচার বা দুর্নীতি।

তিনি ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য ও গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২৫ মার্চের গণহত্যার ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গণহত্যা দিবসের সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

সমাপনী কথা
গণহত্যা দিবস শুধু শোকের নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মারক। এই দিনটি জাতিকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়।

জনপ্রিয় সংবাদ

আমেরিকা আসলে কতটা সমাজতন্ত্র গ্রহণ করতে প্রস্তুত?

২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালনে প্রস্তুত দেশ

০৮:৫৪:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের নির্মম হত্যাযজ্ঞ স্মরণে বুধবার সারা দেশে পালিত হবে গণহত্যা দিবস। এদিন পাকিস্তানি বাহিনীর ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর ভয়াবহতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।

২৫ মার্চের কালরাত্রির প্রেক্ষাপট
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাত ছিল বাঙালির ইতিহাসে এক বিভীষিকাময় অধ্যায়। পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে এক পরিকল্পিত অভিযানে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। মূল উদ্দেশ্য ছিল ১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিজয়ী আওয়ামী লীগের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর ঠেকানো এবং বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা দমন করা।

নির্মমতা ও ধ্বংসযজ্ঞ
এই অভিযানে ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস, পুলিশ সদস্য, ছাত্র, শিক্ষকসহ সাধারণ মানুষকে নির্বিচারে হত্যা করা হয়। ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়া, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাট এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে এক ভয়াল পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। একই রাতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দেন, এরপর পাকিস্তানি বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করে পশ্চিম পাকিস্তানে নিয়ে যায়।

সারা দেশে কর্মসূচি
গণহত্যা দিবস উপলক্ষে দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে অংশ নেবেন বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও মুক্তিযোদ্ধারা।
এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে, বিশেষ করে সিটি করপোরেশন এলাকাগুলোতে ২৫ মার্চ দুপুর ১২টা থেকে গণহত্যা বিষয়ক বিরল ছবি ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের আয়োজন করা হয়েছে।

প্রতীকী ব্ল্যাকআউট ও সেমিনার
দিনটি স্মরণে রাত ১০টা ৩০ মিনিট থেকে ১০টা ৩১ মিনিট পর্যন্ত এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট পালন করা হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের উদ্যোগে সেমিনারের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে গণহত্যা ও মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য তুলে ধরা হবে।

সাংস্কৃতিক আয়োজন ও গণমাধ্যমের ভূমিকা
বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সেমিনার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নাট্য পরিবেশনার আয়োজন করেছে।
বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশনসহ বেসরকারি টিভি ও রেডিও চ্যানেলগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করছে। জাতীয় দৈনিকগুলোও দিবসটি উপলক্ষে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে।

ধর্মীয় কর্মসূচি
শহীদদের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় সংগঠন বিশেষ প্রার্থনা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।

রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বার্তা
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন তার বার্তায় বলেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং জনগণের ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে গণতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়েছে। তিনি বৈষম্যহীন, মানবিক ও আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যমুক্ত রাষ্ট্র—যেখানে থাকবে না শোষণ, অবিচার বা দুর্নীতি।

তিনি ধর্ম, বর্ণ, দলমত নির্বিশেষে সবাইকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত মূল্য ও গুরুত্ব নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২৫ মার্চের গণহত্যার ইতিহাস জানা অত্যন্ত জরুরি। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনা—সমতা, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার—রাষ্ট্র ও সমাজে প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে গণহত্যা দিবসের সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।

সমাপনী কথা
গণহত্যা দিবস শুধু শোকের নয়, এটি বাঙালির ইতিহাস, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের স্মারক। এই দিনটি জাতিকে নতুন করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার প্রেরণা জোগায়।