০৬:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বাকবিতণ্ডা, এজলাস ছাড়লেন পুরো আপিল বিভাগ ধ্বংসস্তূপের নিচে ৯ দিন, তারপর অলৌকিক উদ্ধার—নেপালের বন্যায় দুই শ্রমিকের বেঁচে থাকার গল্প যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে মুসলিম ইস্যু, বাড়ছে ইসলামবিদ্বেষী রাজনীতি ৯/১১-এর ২৫ বছর পর বিদেশি হামলার চেয়ে নিজ দেশের উগ্রপন্থীদের ভয় বেশি মার্কিনদের ডনবাসে রাশিয়ার অগ্রযাত্রা, ইউক্রেনের নতুন সামরিক নেতৃত্বের বড় পরীক্ষা কারাগারে বসেই আইনজীবী হওয়ার স্বপ্ন, এবার বার পরীক্ষার কঠিন চ্যালেঞ্জ কানাডার পাল্টা শুল্কে নতুন উত্তেজনা, থমকে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা ট্রাম্পের কড়া বার্তা: যুক্তরাষ্ট্রে বিমান বিক্রি করতে হলে আমেরিকাতেই উৎপাদন করতে হবে বোম্বার্ডিয়ারকে সরবরাহ সংকটের পরও কেন ১০০ ডলার ছাড়াচ্ছে না তেলের দাম?

ভারতজুড়ে ফেব্রুয়ারিতে বাড়ছে তাপ ও খরা, শীতকালীন ফসল নিয়ে গভীর শঙ্কা

জানুয়ারির অস্বাভাবিক উষ্ণতার পর ফেব্রুয়ারিতেও ভারতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং বৃষ্টিপাত কম থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে গম, সরিষা ও ছোলাসহ শীতকালীন প্রধান ফসলের উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গড়ের ওপরে থাকবে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
দেশের আবহাওয়া দপ্তরের মহাপরিচালক মৃৎ্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম ভারতের গম উৎপাদনকারী অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় এক চতুর্থাংশ কম বৃষ্টি হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহের দিনও কম থাকবে। এর অর্থ হলো, শীতকালীন ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় ঠান্ডা পরিবেশ ঠিকভাবে পাওয়া নাও যেতে পারে।

গম ও অন্যান্য শস্যে ফলনের ঝুঁকি
গম ও যবের মতো শস্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটিয়ে দেয়। এতে শস্যের বেড়ে ওঠার সময়কাল ছোট হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি হলো দানার গঠন ও পরিপক্বতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে কৃষকের প্রত্যাশিত উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

Image

প্রধান উৎপাদন অঞ্চলের চিত্র
উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ এবং মধ্য ভারতের মধ্য প্রদেশ দেশের প্রধান গম উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকাতেই এবারের আবহাওয়ার পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বপন করা গম, সরিষা ও ছোলা স্বাভাবিক ফলনের জন্য ঠান্ডা ও স্থিতিশীল আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

জানুয়ারির অভিজ্ঞতা ও বর্তমান চাষাবাদ
গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে গড়ের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়েছে এবং তাপমাত্রাও ছিল বেশি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকেরা এ বছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গম ও সরিষার চাষ করেছেন। তবে আবহাওয়ার বিরূপ ধারা অব্যাহত থাকলে এই বাড়তি আবাদ থেকেও প্রত্যাশিত লাভ নাও মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তেলবীজ ও আমদানির সম্ভাব্য প্রভাব
সরিষার ফলন কমে গেলে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ভারতকে আমদানির ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও দেশের খাদ্যব্যয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।

জনপ্রিয় সংবাদ

শার্শায় বেওয়ারিশ কুকুরের আতঙ্ক, এক সপ্তাহে আক্রান্ত ১১০ জন

ভারতজুড়ে ফেব্রুয়ারিতে বাড়ছে তাপ ও খরা, শীতকালীন ফসল নিয়ে গভীর শঙ্কা

০৮:২৬:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জানুয়ারির অস্বাভাবিক উষ্ণতার পর ফেব্রুয়ারিতেও ভারতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি এবং বৃষ্টিপাত কম থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে গম, সরিষা ও ছোলাসহ শীতকালীন প্রধান ফসলের উৎপাদন ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী চলতি মাসে দেশের বেশিরভাগ অঞ্চলে সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা গড়ের ওপরে থাকবে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বাড়ছে দুশ্চিন্তা
দেশের আবহাওয়া দপ্তরের মহাপরিচালক মৃৎ্যুঞ্জয় মহাপাত্র জানিয়েছেন, উত্তর-পশ্চিম ভারতের গম উৎপাদনকারী অঞ্চলে দীর্ঘমেয়াদি গড় বৃষ্টিপাতের তুলনায় প্রায় এক চতুর্থাংশ কম বৃষ্টি হতে পারে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে শৈত্যপ্রবাহের দিনও কম থাকবে। এর অর্থ হলো, শীতকালীন ফসলের জন্য প্রয়োজনীয় ঠান্ডা পরিবেশ ঠিকভাবে পাওয়া নাও যেতে পারে।

গম ও অন্যান্য শস্যে ফলনের ঝুঁকি
গম ও যবের মতো শস্যের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাপমাত্রা ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি দ্রুত ঘটিয়ে দেয়। এতে শস্যের বেড়ে ওঠার সময়কাল ছোট হয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফেব্রুয়ারি হলো দানার গঠন ও পরিপক্বতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময় তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে গেলে কৃষকের প্রত্যাশিত উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে।

Image

প্রধান উৎপাদন অঞ্চলের চিত্র
উত্তর ভারতের পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশ এবং মধ্য ভারতের মধ্য প্রদেশ দেশের প্রধান গম উৎপাদন অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। এসব এলাকাতেই এবারের আবহাওয়ার পরিবর্তন সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলতে পারে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বপন করা গম, সরিষা ও ছোলা স্বাভাবিক ফলনের জন্য ঠান্ডা ও স্থিতিশীল আবহাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

জানুয়ারির অভিজ্ঞতা ও বর্তমান চাষাবাদ
গত জানুয়ারিতে দেশজুড়ে গড়ের তুলনায় কম বৃষ্টি হয়েছে এবং তাপমাত্রাও ছিল বেশি। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কৃষকেরা এ বছর রেকর্ড পরিমাণ জমিতে গম ও সরিষার চাষ করেছেন। তবে আবহাওয়ার বিরূপ ধারা অব্যাহত থাকলে এই বাড়তি আবাদ থেকেও প্রত্যাশিত লাভ নাও মিলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাজার সংশ্লিষ্টরা।

তেলবীজ ও আমদানির সম্ভাব্য প্রভাব
সরিষার ফলন কমে গেলে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে ভারতকে আমদানির ওপর আরও বেশি নির্ভর করতে হতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও দেশের খাদ্যব্যয়ের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।