ঢাকা-৯ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা অভিযোগ করেছেন, মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যত নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের সুযোগ তৈরি করছে।
ফেসবুক পোস্টে সিদ্ধান্তের সমালোচনা
সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ভোটকেন্দ্রের চারশ গজের মধ্যে হঠাৎ করে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, জনবিরোধী এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিপন্থী। তিনি অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
ভোটার উপস্থিতি নিরুৎসাহিত হওয়ার আশঙ্কা
তিনি বলেন, নির্বাচনের দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকবে, ফলে ভোটারদের দূরদূরান্ত থেকে হেঁটে বা রিকশায় করে কেন্দ্রে যেতে হবে। এ অবস্থায় কেউ ভুলবশত মোবাইল ফোন নিয়ে এলে চারশ গজ দূর থেকেই তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, ফলে ফোন রেখে আবার কেন্দ্রে ফেরা অনেকের জন্যই অসম্ভব হয়ে পড়বে। তার মতে, এটি ভোটার উপস্থিতি কমানোর কৌশল হতে পারে।
নিরাপত্তা ও অনিয়মের ঝুঁকি
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাধারণ মানুষের জন্য মোবাইল ফোন এক ধরনের নিরাপত্তা হিসেবে কাজ করে বলে উল্লেখ করেন তিনি। ভোটকেন্দ্রের আশপাশে অনিয়ম বা হয়রানির ঘটনা ঘটলে ছবি বা ভিডিও ধারণের একমাত্র মাধ্যম মোবাইল ফোন। ফোন নিষিদ্ধ করা হলে অনিয়মের সুযোগ বাড়বে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
নারী ভোটারদের জন্য বাড়তি ঝুঁকি
তিনি আরও বলেন, একা ভোট দিতে আসা নারী ভোটারদের জন্য মোবাইল ফোন ছাড়া বাইরে যাওয়া নিরাপত্তাহীনতার কারণ হতে পারে। ফলে নিরাপত্তা উদ্বেগে অনেক নারী ভোটার ভোটদান থেকে বিরত থাকতে পারেন।
সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অপ্রয়োজনীয়
ব্যালটের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য ভোটকক্ষের ভেতরে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করাই যথেষ্ট ছিল বলে মত দেন তিনি। চারশ গজ এলাকাজুড়ে পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা অপ্রয়োজনীয় বলেও মন্তব্য করেন।
হয়রানির আশঙ্কা ও সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি
তার অভিযোগ, ফোন তল্লাশির অজুহাতে সাধারণ ভোটার ও পোলিং এজেন্টদের হয়রানির সুযোগ তৈরি হতে পারে। ভোটের ঠিক আগে কোনো ধরনের পরামর্শ ছাড়াই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়াকে তিনি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন। সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনের স্বার্থে তিনি দ্রুত এই সিদ্ধান্ত বাতিলের জোর দাবি জানিয়ে বলেন, ভোটারদের ভয় ও বাধাহীনভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















