পিলখানায় ২০০৯ সালে সংঘটিত বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনা পুনঃতদন্তের জন্য সরকার নতুন কমিশন গঠন করতে যাচ্ছে। সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ তথ্য একটি ব্রিফিংয়ে জানিয়েছেন।
নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের পরিকল্পনা
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমরা এই ঘটনার জন্য একটি নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের পরিকল্পনা করেছি। এটি আমাদের প্রতিশ্রুতি এবং নির্বাচনী ইশতেহারেও অন্তর্ভুক্ত। কমিশন গঠনের পর তার রিপোর্ট অনুযায়ী কাজ করা হবে। আমরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
৫ আগস্টের মামলার পুনঃপরীক্ষা
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর বেশ কিছু গণহারে হয়রানিমূলক মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলার প্রভাবিত ব্যক্তিদের ভোগান্তি কমাতে পুলিশকে তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, “অনেক ব্যবসায়ী ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এই মামলার শিকার হয়েছেন। আমরা চাই তাদের ভোগান্তি যেন না হয়।”
আইন-শৃঙ্খলা ও জনমনে শান্তি
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার হলো দেশের আইন-শৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং জনমনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরিয়ে আনা।
মব কালচারের অবসান
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশে মব কালচারের সময় শেষ। যদি কোথাও এটি দেখা দেয়, আমরা কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেব। এখন থেকে মিছিল বা সমাবেশের মাধ্যমে বৈধ পদ্ধতিতে দাবিপত্র জমা দিতে হবে। রাস্তায় দাঁড়িয়ে সহিংসতা করে দাবি আদায়ের যুগ শেষ।” তিনি পুলিশ সুপারদেরকে রাজনৈতিক কারণে কোন ব্যক্তিকে প্রোটোকল না দেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ ও নিয়োগ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত
বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২৭০১ শূন্য কনস্টেবল পদে নতুন নিয়োগ।
- পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবলদের নাম ঠিকানার জালিয়াতি পরীক্ষা।
- নির্বাচনের আগে লটারির মাধ্যমে ওসিদের বদলির প্রক্রিয়া নতুন করে যোগ্যতা-দক্ষতা অনুযায়ী করা।
- পাসপোর্ট অফিসে ভোগান্তি কমাতে পরীক্ষামূলকভাবে সহায়তাকারীদের নিবন্ধন।
- পুলিশের কাজে কারো অবৈধ হস্তক্ষেপ রোধ। পুলিশ যেন জনভোগান্তির কারণ না হয়, তার জবাবদিহি নিশ্চিত।
অস্ত্র লাইসেন্স যাচাই
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিগত সরকারের সময় দেওয়া অস্ত্রের লাইসেন্স পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।
এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে সরকার দেশের নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও জনমনে শান্তি পুনঃস্থাপনের লক্ষ্য অর্জন করতে চাচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















