০৬:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
ড্রোনে অঙ্গ পরিবহন: কিডনি পৌঁছাবে আরও দ্রুত, আশাব্যঞ্জক গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা হলিউডের পর্দায় আমেরিকার ২৫০ বছরের গল্প: যে চলচ্চিত্রগুলো গড়ে তুলেছে একটি জাতির আত্মপরিচয় ইরানের দাবি: মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অবসান চুক্তি ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের ঘোষণা’ নিউইয়র্কের রাজনীতি, ইসরায়েল বিতর্ক ও নতুন নাগরিক অধিকার সংকট সিঙ্গাপুরের নতুন অর্থনৈতিক রূপরেখা: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে দ্রুত অভিযোজনের আহ্বান মার্কিন জাতীয় উদ্যানে মৃত্যু-দুর্ঘটনার তথ্য প্রকাশে নতুন বিধিনিষেধ, নিরাপত্তা নিয়ে বাড়ছে বিতর্ক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিলেই কি বদলে যাবে ইরানের অর্থনীতি? ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় আমিরাতে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ভাটা শুধু খাবার নয়, মানুষকে দেখার এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গির নাম অ্যান্থনি বোর্দেইন ঔপনিবেশিক শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জাতীয় সম্মাননা ফিরিয়ে দিলেন চলচ্চিত্রকার

ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ, আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কয়েক দিন পরও পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) নিয়ে বিক্ষোভ থামছে না। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তেজনা

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি এলাকায় রফিক আলি গাজী নামে এক যুবকের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। তার স্ত্রীর দাবি, খসড়া ভোটার তালিকার বিচারাধীন তালিকায় নিজের নাম দেখতে পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শাসকদলের দাবি, বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও রফিক আলি গাজীর নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ষড়যন্ত্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের আন্দোলন ও প্রতিরোধ চলবে।

অন্যান্য এলাকাতেও বিক্ষোভ

উত্তর ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। একটি ভোটকেন্দ্রের ৮০ শতাংশের বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

চার মাসব্যাপী বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

মমতার ধর্না ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ৬ মার্চ কলকাতায় ধর্নায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার কলকাতায় এক জনসভায় তিনি বলেন, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণ এর উপযুক্ত জবাব দেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সিপিআই(এম)-এর প্রতিবাদ

বুধবার রাজ্যের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিআই(এম)। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন দলের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন নির্বাচন মানুষের জন্য যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্রোনে অঙ্গ পরিবহন: কিডনি পৌঁছাবে আরও দ্রুত, আশাব্যঞ্জক গবেষণায় নতুন সম্ভাবনা

ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ, আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ

০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কয়েক দিন পরও পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) নিয়ে বিক্ষোভ থামছে না। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তেজনা

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি এলাকায় রফিক আলি গাজী নামে এক যুবকের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। তার স্ত্রীর দাবি, খসড়া ভোটার তালিকার বিচারাধীন তালিকায় নিজের নাম দেখতে পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শাসকদলের দাবি, বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও রফিক আলি গাজীর নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ষড়যন্ত্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের আন্দোলন ও প্রতিরোধ চলবে।

অন্যান্য এলাকাতেও বিক্ষোভ

উত্তর ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। একটি ভোটকেন্দ্রের ৮০ শতাংশের বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

চার মাসব্যাপী বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

মমতার ধর্না ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ৬ মার্চ কলকাতায় ধর্নায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার কলকাতায় এক জনসভায় তিনি বলেন, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণ এর উপযুক্ত জবাব দেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সিপিআই(এম)-এর প্রতিবাদ

বুধবার রাজ্যের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিআই(এম)। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন দলের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন নির্বাচন মানুষের জন্য যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।