০৮:০২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত? জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে

ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ, আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কয়েক দিন পরও পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) নিয়ে বিক্ষোভ থামছে না। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তেজনা

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি এলাকায় রফিক আলি গাজী নামে এক যুবকের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। তার স্ত্রীর দাবি, খসড়া ভোটার তালিকার বিচারাধীন তালিকায় নিজের নাম দেখতে পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শাসকদলের দাবি, বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও রফিক আলি গাজীর নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ষড়যন্ত্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের আন্দোলন ও প্রতিরোধ চলবে।

অন্যান্য এলাকাতেও বিক্ষোভ

উত্তর ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। একটি ভোটকেন্দ্রের ৮০ শতাংশের বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

চার মাসব্যাপী বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

মমতার ধর্না ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ৬ মার্চ কলকাতায় ধর্নায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার কলকাতায় এক জনসভায় তিনি বলেন, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণ এর উপযুক্ত জবাব দেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সিপিআই(এম)-এর প্রতিবাদ

বুধবার রাজ্যের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিআই(এম)। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন দলের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন নির্বাচন মানুষের জন্য যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূরাজনীতির ঝুঁকি: কোম্পানি কি প্রস্তুত?

ভোটার তালিকা নিয়ে উত্তাল পশ্চিমবঙ্গ, আত্মহত্যার ঘটনায় নতুন করে ক্ষোভ

০৬:০১:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের কয়েক দিন পরও পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (এসআইআর) নিয়ে বিক্ষোভ থামছে না। নতুন করে উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তিতে এক যুবকের আত্মহত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে।

আত্মহত্যার ঘটনায় উত্তেজনা

বুধবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার উস্তি এলাকায় রফিক আলি গাজী নামে এক যুবকের আত্মহত্যার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় বিক্ষোভ শুরু হয়। তার স্ত্রীর দাবি, খসড়া ভোটার তালিকার বিচারাধীন তালিকায় নিজের নাম দেখতে পেয়ে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।

এই ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা মৃতদেহ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন। শাসকদলের দাবি, বৈধ নথি জমা দেওয়ার পরও রফিক আলি গাজীর নাম চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার এই ষড়যন্ত্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাদের আন্দোলন ও প্রতিরোধ চলবে।

অন্যান্য এলাকাতেও বিক্ষোভ

উত্তর ২৪ পরগনাতেও একই ধরনের অসন্তোষ দেখা গেছে। একটি ভোটকেন্দ্রের ৮০ শতাংশের বেশি ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় চলে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

চার মাসব্যাপী বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা প্রক্রিয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৪ লাখ। এর মধ্যে প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম এখনও যাচাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

মমতার ধর্না ঘোষণা

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে ৬ মার্চ কলকাতায় ধর্নায় বসার ঘোষণা দিয়েছেন।

মঙ্গলবার কলকাতায় এক জনসভায় তিনি বলেন, রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ তাদের ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে জনগণ এর উপযুক্ত জবাব দেবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।

সিপিআই(এম)-এর প্রতিবাদ

বুধবার রাজ্যের প্রধান নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ দেখায় সিপিআই(এম)। এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন দলের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম।

তিনি অভিযোগ করেন, প্রায় ৬০ লাখ ভোটারের নাম বিচারাধীন তালিকায় রাখার মাধ্যমে রাজ্য প্রশাসন মানুষের প্রতি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এখন নির্বাচন মানুষের জন্য যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।