০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬
রাশিয়া ইউক্রেনে ২০২৬ সালের ভয়াবহতম হামলা চালাল — ১৮ জন নিহত, নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের শিশু ট্রাম্প বললেন “ইরান সবকিছুতে রাজি হয়েছে” — পারমাণবিক অস্ত্র থেকে হরমুজ, সব দাবি মেনেছে তেহরান? ইসরায়েল-লেবানন ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর, হিজবুল্লাহ হামলা বন্ধ করেছে — বাড়ি ফিরছেন বাস্তুচ্যুতরা হরমুজ প্রণালী “সম্পূর্ণ উন্মুক্ত” ঘোষণা ইরানের, তেলের দাম পড়ল ১১% — বিশ্ব শেয়ারবাজারে রেকর্ড উচ্চতা গঙ্গার পানিচুক্তি নবায়ন: বাংলাদেশের পানি নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ হবে এই আলোচনাতেই মব সহিংসতায় কাবু বাংলাদেশ: ২০২৬-এর মাত্র তিন মাসেই ৪৯ প্রাণ গেছে ৮৮টি হামলায় শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাইলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, ভারত নীরব — সম্পর্কোন্নয়নে “সতর্ক আশাবাদী” ঢাকা রানা প্লাজা ধসের ১৩ বছর: এখনো অসম্পূর্ণ বিচার, স্মৃতি যেন এখন “অস্বস্তি” ব্যাংক রেজোলিউশন আইন ২০২৬: সহজ শর্তে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফেরত পাবেন সাবেক মালিকরা, সংস্কারের বিপরীতে হাঁটছে সরকার? ইরান যুদ্ধে বাংলাদেশে এলপিজির দাম দ্বিগুণ, চার সার কারখানা বন্ধ — জ্বালানি সংকট গভীর হচ্ছে

জ্বালানি তেলের গুজবে পাম্পে হুড়োহুড়ি, ডিপো ও ফিলিং স্টেশনে অস্বাভাবিক ভিড়

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্প ও তেল ডিপোতে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা দিয়েছে। অনেকেই আগেভাগে তেল মজুতের আশঙ্কায় গাড়ির ট্যাঙ্ক পুরোপুরি ভরে নিচ্ছেন। এতে কোথাও কোথাও মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে তেল ডিপোগুলোতে শত শত ট্যাঙ্ক লরির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন করে তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাজধানীর পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক চাপ

রাজধানীর মালিবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেট, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক একসঙ্গে ট্যাঙ্ক ভরে তেল নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

UK petrol and diesel prices jump following Houthi attacks | Petrol prices |  The Guardian

একজন রাইড শেয়ারিং চালক জানান, সাধারণত দিনে কয়েকবার অকটেন নেন। কিন্তু তেল না পাওয়ার গুজব ছড়ানোয় তিনি এবার পুরো ট্যাঙ্ক ভরে নিয়েছেন। পাম্প পরিচালকদের ভাষ্য, সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ তেল মজুত থাকে, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা দ্রুত কমে গেছে। তাই কিছু ক্ষেত্রে শুধু গাড়িতে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কিছু পাম্পে বিক্রি বন্ধ

কয়েকটি পাম্পের কর্মীরা জানান, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত গাড়ির চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

একটি পাম্পের কর্মী বলেন, ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ না আসায় মজুত কমে গেছে। এ কারণে বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ

জ্বালানি সংকটের গুজবকে ঘিরে কিছু এলাকায় অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কোথাও কোথাও প্রতি লিটারে কয়েক টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে ডিজেল-পেট্রোল কিনতে ডিপো ও পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড়

কৃষক, সেচযন্ত্র মালিক এবং যানবাহন শ্রমিকরা আগেভাগে ডিজেল কিনছেন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের প্রয়োজন থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা যাচ্ছে।

ডিপো এলাকায় ট্যাঙ্ক লরির দীর্ঘ সারি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তেল ডিপোগুলোর সামনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শত শত ট্যাঙ্ক লরির সারি দেখা গেছে। সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় ডিপোর ভেতর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লরির লাইন ছড়িয়ে পড়ে।

ডিপোর কর্মকর্তারা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সাময়িকভাবে সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ডিপোতে তেলের মজুত স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

লাইনে অপেক্ষমাণ চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না বলে জানান।

Fuel crisis hits five northern districts as Rangpur depots run dry | The  Business Standard

দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত

তথ্য অনুযায়ী দেশে ডিজেলের মজুত বর্তমানে মোট সংরক্ষণ সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি রয়েছে। এই মজুত দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ সরবরাহ চালানো সম্ভব। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত তুলনামূলক বেশি, যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখা যেতে পারে।

এদিকে নতুন করে তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাস্তবে নেই। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।

মার্চের প্রথম কয়েক দিনে জ্বালানি তেলের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বাজারে চাপ তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

রাশিয়া ইউক্রেনে ২০২৬ সালের ভয়াবহতম হামলা চালাল — ১৮ জন নিহত, নিহতদের মধ্যে ১২ বছরের শিশু

জ্বালানি তেলের গুজবে পাম্পে হুড়োহুড়ি, ডিপো ও ফিলিং স্টেশনে অস্বাভাবিক ভিড়

০৫:১৬:০৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের গুজব ছড়িয়ে পড়তেই রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্প ও তেল ডিপোতে অস্বাভাবিক ভিড় দেখা দিয়েছে। অনেকেই আগেভাগে তেল মজুতের আশঙ্কায় গাড়ির ট্যাঙ্ক পুরোপুরি ভরে নিচ্ছেন। এতে কোথাও কোথাও মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় সাময়িকভাবে তেল বিক্রি বন্ধ রাখার ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে তেল ডিপোগুলোতে শত শত ট্যাঙ্ক লরির দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং নতুন করে তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে। তাই আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

রাজধানীর পাম্পগুলোতে অস্বাভাবিক চাপ

রাজধানীর মালিবাগ, তেজগাঁও, আসাদগেট, নিউমার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় বৃহস্পতিবার পেট্রোল পাম্পে যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। অনেক চালক একসঙ্গে ট্যাঙ্ক ভরে তেল নিচ্ছেন। ফলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চাহিদা অনেক বেড়ে গেছে।

UK petrol and diesel prices jump following Houthi attacks | Petrol prices |  The Guardian

একজন রাইড শেয়ারিং চালক জানান, সাধারণত দিনে কয়েকবার অকটেন নেন। কিন্তু তেল না পাওয়ার গুজব ছড়ানোয় তিনি এবার পুরো ট্যাঙ্ক ভরে নিয়েছেন। পাম্প পরিচালকদের ভাষ্য, সাধারণ সময়ে যে পরিমাণ তেল মজুত থাকে, অতিরিক্ত চাহিদার কারণে তা দ্রুত কমে গেছে। তাই কিছু ক্ষেত্রে শুধু গাড়িতে তেল দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কিছু পাম্পে বিক্রি বন্ধ

কয়েকটি পাম্পের কর্মীরা জানান, রাত থেকে সকাল পর্যন্ত গাড়ির চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ছিল। মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক জায়গায় তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে।

একটি পাম্পের কর্মী বলেন, ডিপো থেকে নতুন সরবরাহ না আসায় মজুত কমে গেছে। এ কারণে বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন তারা।

বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ

জ্বালানি সংকটের গুজবকে ঘিরে কিছু এলাকায় অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। কোথাও কোথাও প্রতি লিটারে কয়েক টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে ডিজেল-পেট্রোল কিনতে ডিপো ও পাম্পে অস্বাভাবিক ভিড়

কৃষক, সেচযন্ত্র মালিক এবং যানবাহন শ্রমিকরা আগেভাগে ডিজেল কিনছেন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে সেচের জন্য ডিজেলের প্রয়োজন থাকায় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বেশি দেখা যাচ্ছে।

ডিপো এলাকায় ট্যাঙ্ক লরির দীর্ঘ সারি

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে তেল ডিপোগুলোর সামনে বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই শত শত ট্যাঙ্ক লরির সারি দেখা গেছে। সরবরাহে বিলম্ব হওয়ায় ডিপোর ভেতর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূর পর্যন্ত লরির লাইন ছড়িয়ে পড়ে।

ডিপোর কর্মকর্তারা জানান, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সাময়িকভাবে সরবরাহ কিছুটা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ডিপোতে তেলের মজুত স্বাভাবিক রয়েছে এবং সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

লাইনে অপেক্ষমাণ চালকদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অনেক চালক কয়েক ঘণ্টা ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছেন না বলে জানান।

Fuel crisis hits five northern districts as Rangpur depots run dry | The  Business Standard

দেশে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত

তথ্য অনুযায়ী দেশে ডিজেলের মজুত বর্তমানে মোট সংরক্ষণ সক্ষমতার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের কাছাকাছি রয়েছে। এই মজুত দিয়ে প্রায় এক সপ্তাহ সরবরাহ চালানো সম্ভব। অন্যদিকে অকটেন ও পেট্রোলের মজুত তুলনামূলক বেশি, যা দিয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সরবরাহ বজায় রাখা যেতে পারে।

এদিকে নতুন করে তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও কয়েকটি জাহাজ আসার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক থাকায় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বাস্তবে নেই। তবে যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে।

মার্চের প্রথম কয়েক দিনে জ্বালানি তেলের বিক্রি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে বাজারে চাপ তৈরি হলেও কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।