০৪:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ সিনেমা হলকে নতুনভাবে সাজাচ্ছে সাংহাই মেলনের বৈশ্বিক কে-পপ তালিকায় আলোচনায় রাইজ ও বয় নেক্সট ডোর হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্টকে অপসারণে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ, রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে ট্রাম্পের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের রায়, যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্তে আশ্রয়প্রার্থীদের ফেরানোর পথ খুলল রাশিয়ার যুব ফুটবল দলের ফেরার ইঙ্গিত, নতুন টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের পথ খুলছে ফিফা ডা. এ বি এম আবদুল্লাহর ইমেরিটাস অধ্যাপক পদ বাতিল, বেতন-ভাতা ফেরতের নির্দেশ সিরাজগঞ্জে যমুনার স্রোতে ভেসে প্রাণ গেল দুই মাদ্রাসাছাত্রের খেলাপি ঋণের চাপে ‘মোট শকে’ ব্যাংকিং খাত, সংসদে রেজা কিবরিয়ার কঠোর সমালোচনা ৪৩তম বিসিএসের নন-ক্যাডার মেধাতালিকা ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশের নির্দেশ হাইকোর্টের

মঞ্চে ঝড় তোলেন, তবু বুকের ভেতর কাঁপন—জুডি লাভের অজানা লড়াই

মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের হাসিতে ভাসিয়ে দেন তিনি। লন্ডনের বিখ্যাত প্যালাডিয়াম ভরে ফেলেছেন একাধিকবার। কিন্তু সেই জুডি লাভের জীবনেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব—অভিনয়ের আগে এখনও তাকে গ্রাস করে তীব্র মঞ্চভীতি। জনপ্রিয় এই কৌতুকশিল্পী ও উপস্থাপক নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলছেন, সাফল্যের শীর্ষেও ভয় কখনও পুরোপুরি দূর হয় না।

স্বাভাবিক জীবনের সরলতা
ব্যস্ততার ভিড়ে জুডির ব্যক্তিগত জীবন বেশ সহজ-সরল। বাড়িতে সময় কাটাতে তিনি পছন্দ করেন নরম আলো, নিরিবিলি পরিবেশ আর কোনো বাধা ছাড়া টেলিভিশন দেখা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই তার কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি। সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে অনুষ্ঠান দেখা তার কাছে বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত।

পেশা বদলের সাহসী সিদ্ধান্ত
জুডির পথচলা শুরু হয়েছিল সমাজকর্মী হিসেবে। কিন্তু ৩০ বছর বয়সে তিনি হঠাৎই কমেডির জগতে পা রাখেন। সেই সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু তার কাছে তা একদম সঠিক মনে হয়েছিল। তিনি মনে করেন, মানুষের মন বোঝার অভিজ্ঞতা তার হাস্যরসকে আরও গভীর ও বাস্তব করে তুলেছে। ভবিষ্যতে মনোবিশ্লেষণ নিয়েও পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

Comedian Judi Love: 'I'm a big girl, the boss, and you love it' | Comedy |  The Guardian

পরিবার আগে, তারপর ক্যারিয়ার
একজন ব্যস্ত শিল্পী হিসেবে সময় ব্যবস্থাপনাই তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জুডি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার জীবনে সন্তানরাই প্রথম অগ্রাধিকার। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি চেষ্টা করেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে হলেও তিনি চান দিনের শেষে নিজের বাড়িতেই ফিরতে।

কমেডির পরিবর্তনশীল ভাষা
বর্তমান সময়ে কমেডির ভাষা অনেকটাই বদলে গেছে। সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর প্রতি এখন বেশি সতর্কতা দেখা যায়। জুডির মতে, এই পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক। তবে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই গল্প বলেন, আর সেই সত্যতাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

মঞ্চভীতি—অদৃশ্য শত্রু
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, এত বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও জুডি এখনও মঞ্চে ওঠার আগে ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, তার পেট যেন গিঁট বেঁধে যায়। এই ভয় কাটাতে তিনি একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলেন—বিশেষ একটি গান শোনা এবং প্রথম রসিকতাটি পরিষ্কারভাবে মাথায় রাখা। শুরুটা ঠিক হলে ধীরে ধীরে তিনি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসেন।

চ্যালেঞ্জের মাঝেও আত্মবিশ্বাস
জুডি ডিসলেক্সিয়ায় ভোগেন, যা তার কাজের ক্ষেত্রে কখনও কখনও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষ করে লাইভ অনুষ্ঠান বা স্ক্রিপ্ট পড়ার সময়। তবে তিনি এখন এ নিয়ে খোলামেলা। সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি এই বাধাগুলো সামলে নেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন
আগামী দিনে আরও বড় টেলিভিশন অনুষ্ঠান, অভিনয় এবং নতুন ধরনের শো করার ইচ্ছা রয়েছে তার। এমনকি সম্পর্কভিত্তিক ইতিবাচক অনুষ্ঠান তৈরির স্বপ্নও দেখছেন তিনি, যেখানে ভালোবাসা ও বাস্তব জীবনের গল্প তুলে ধরা হবে।

মঞ্চে হাসির ঝড় তোলা এই শিল্পীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভয় আর সংগ্রামই তাকে আরও মানবিক করে তোলে। তার গল্প মনে করিয়ে দেয়—সাফল্যের আড়ালেও থাকে ব্যক্তিগত লড়াই।

জনপ্রিয় সংবাদ

বার্নিং ম্যান উৎসবের ইতিহাস নিয়ে আসছে এইচবিও ডকুসিরিজ

মঞ্চে ঝড় তোলেন, তবু বুকের ভেতর কাঁপন—জুডি লাভের অজানা লড়াই

০৯:০০:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মঞ্চে দাঁড়িয়ে দর্শকদের হাসিতে ভাসিয়ে দেন তিনি। লন্ডনের বিখ্যাত প্যালাডিয়াম ভরে ফেলেছেন একাধিকবার। কিন্তু সেই জুডি লাভের জীবনেই লুকিয়ে আছে এক অদ্ভুত দ্বন্দ্ব—অভিনয়ের আগে এখনও তাকে গ্রাস করে তীব্র মঞ্চভীতি। জনপ্রিয় এই কৌতুকশিল্পী ও উপস্থাপক নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলছেন, সাফল্যের শীর্ষেও ভয় কখনও পুরোপুরি দূর হয় না।

স্বাভাবিক জীবনের সরলতা
ব্যস্ততার ভিড়ে জুডির ব্যক্তিগত জীবন বেশ সহজ-সরল। বাড়িতে সময় কাটাতে তিনি পছন্দ করেন নরম আলো, নিরিবিলি পরিবেশ আর কোনো বাধা ছাড়া টেলিভিশন দেখা। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোই তার কাছে সবচেয়ে বড় স্বস্তি। সন্তানদের সঙ্গে একসঙ্গে বসে অনুষ্ঠান দেখা তার কাছে বিশেষ আনন্দের মুহূর্ত।

পেশা বদলের সাহসী সিদ্ধান্ত
জুডির পথচলা শুরু হয়েছিল সমাজকর্মী হিসেবে। কিন্তু ৩০ বছর বয়সে তিনি হঠাৎই কমেডির জগতে পা রাখেন। সেই সিদ্ধান্ত ছিল ঝুঁকিপূর্ণ, কিন্তু তার কাছে তা একদম সঠিক মনে হয়েছিল। তিনি মনে করেন, মানুষের মন বোঝার অভিজ্ঞতা তার হাস্যরসকে আরও গভীর ও বাস্তব করে তুলেছে। ভবিষ্যতে মনোবিশ্লেষণ নিয়েও পড়াশোনা করার ইচ্ছা রয়েছে তার।

Comedian Judi Love: 'I'm a big girl, the boss, and you love it' | Comedy |  The Guardian

পরিবার আগে, তারপর ক্যারিয়ার
একজন ব্যস্ত শিল্পী হিসেবে সময় ব্যবস্থাপনাই তার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। জুডি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার জীবনে সন্তানরাই প্রথম অগ্রাধিকার। কাজের ব্যস্ততার মাঝেও তিনি চেষ্টা করেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। দীর্ঘ ভ্রমণ শেষে হলেও তিনি চান দিনের শেষে নিজের বাড়িতেই ফিরতে।

কমেডির পরিবর্তনশীল ভাষা
বর্তমান সময়ে কমেডির ভাষা অনেকটাই বদলে গেছে। সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়গুলোর প্রতি এখন বেশি সতর্কতা দেখা যায়। জুডির মতে, এই পরিবর্তন অনেক ক্ষেত্রে ইতিবাচক। তবে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা থেকেই গল্প বলেন, আর সেই সত্যতাকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।

মঞ্চভীতি—অদৃশ্য শত্রু
সবচেয়ে অবাক করার বিষয়, এত বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও জুডি এখনও মঞ্চে ওঠার আগে ভীষণ নার্ভাস হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, তার পেট যেন গিঁট বেঁধে যায়। এই ভয় কাটাতে তিনি একটি নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলেন—বিশেষ একটি গান শোনা এবং প্রথম রসিকতাটি পরিষ্কারভাবে মাথায় রাখা। শুরুটা ঠিক হলে ধীরে ধীরে তিনি স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসেন।

চ্যালেঞ্জের মাঝেও আত্মবিশ্বাস
জুডি ডিসলেক্সিয়ায় ভোগেন, যা তার কাজের ক্ষেত্রে কখনও কখনও চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিশেষ করে লাইভ অনুষ্ঠান বা স্ক্রিপ্ট পড়ার সময়। তবে তিনি এখন এ নিয়ে খোলামেলা। সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি এই বাধাগুলো সামলে নেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন
আগামী দিনে আরও বড় টেলিভিশন অনুষ্ঠান, অভিনয় এবং নতুন ধরনের শো করার ইচ্ছা রয়েছে তার। এমনকি সম্পর্কভিত্তিক ইতিবাচক অনুষ্ঠান তৈরির স্বপ্নও দেখছেন তিনি, যেখানে ভালোবাসা ও বাস্তব জীবনের গল্প তুলে ধরা হবে।

মঞ্চে হাসির ঝড় তোলা এই শিল্পীর ভেতরে লুকিয়ে থাকা ভয় আর সংগ্রামই তাকে আরও মানবিক করে তোলে। তার গল্প মনে করিয়ে দেয়—সাফল্যের আড়ালেও থাকে ব্যক্তিগত লড়াই।