ইতিহাসকে স্মরণ না করলে যারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছিলেন তাদের কোন ক্ষতি হয় না। ইতিহাস তার নিজস্ব নিয়মে ওই ইতিহাস স্রষ্টাদের অমরস্থান নির্ধারণ করে দেয় ইতিহাস সৃষ্টির লগ্নে।

১৭ এপ্রিল স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের প্রথম ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীপরিষদের শপথের দিন। এ দিনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ করতে হয় রাষ্ট্রের প্রকৃত চরিত্রের প্রতি যাতে ভবিষ্যৎ নাগরিকরা অনুগত হয় সেই মহৎ লক্ষ্যে। কারণ রাষ্ট্র কখনই শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, রাষ্ট্র মূলত রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য, শ্রদ্ধাবোধ সম্পন্ন ও সুশৃঙ্খল একটি জনগোষ্ঠীর আকাঙ্ক্ষার ফসল। তাই যখনই কোন রাষ্ট্রের জনগোষ্ঠীর কিছু অংশ বা রাষ্ট্র পরিচালকরা ইতিহাস সৃষ্টিকারীদের প্রতি অশ্রদ্ধা দেখায় বা শ্রদ্ধাবোধ প্রকাশ করতে কুণ্ঠাবোধ করে তখনই ধরে নিতে হয় ওই রাষ্ট্র তার আকাঙ্ক্ষা থেকে সরে গেছে। ১৭ এপ্রিল রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ না করার ভেতর দিয়ে সেই সত্যই প্রমাণিত হয়।
১৭ এপ্রিল আধুনিক রাষ্ট্রের জন্যে যুদ্ধরত একটি জাতির সরকারের ও রাষ্ট্রের প্রধান ও নির্বাহীরা শপথ নিয়েছিলেন। সেদিনের পঠিত স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রই বাংলাদেশের সংবিধানের মাতৃজননী কোষ। অর্থাৎ সংবিধানের ভিত্তি। তাই ১৭ এপ্রিলকে স্মরণ করার অর্থই হলো আধুনিক সাংবিধানিক রাষ্ট্রের একটি স্মারক দিনকে স্মরণ করা। আর স্মরণ না করলে যে অস্বীকারের মধ্যে ঢুকে যাওয়া হয় তা ক্রমেই রাষ্ট্রকে লক্ষ্যচ্যুত করার দিকে ঠেলে দেবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের একটি অংশ মিথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে নষ্ট মানুষ হবে।

রাষ্ট্র যদি কোন কারণে বা কোন উদ্দেশ্যে এমন অবস্থানে চলে যায়— তখন দেশের সচেতন মানুষেরই দায়িত্ব পড়ে রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ ও জনগোষ্ঠীর ভবিষ্যতের স্বার্থে ১৭ এপ্রিলকে স্মরণ করা।
সম্পাদকের টেবিল 


















