০৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ দৃশ্য যোগের খবর বলছে, এখন ব্লকবাস্টারের ভাগ্য অনেকটাই ঠিক হয় টোন আর ভিলেন নির্মাণে সিজন ৩ আসছে, তবু ‘ইউফোরিয়া’ সিজন ৪-এর পরিকল্পনা নেই—এতে আজকের প্রেস্টিজ টিভির বাস্তবতাই স্পষ্ট চীনের ‘ওপেনক্ল’ উন্মাদনা: অদ্ভুত মিম কীভাবে হঠাৎ পূর্ণাঙ্গ সামাজিক ট্রেন্ডে পরিণত হয় ডায়াবেটিস না থাকলেও সিজিএম ব্যবহারের ট্রেন্ড বাড়ছে, সঙ্গে বাড়ছে সংখ্যা-নির্ভর উদ্বেগও পুরোনো রাউটারই এখন বৈশ্বিক সাইবার দুর্বলতা, রাশিয়া-সংযুক্ত হ্যাকিং অভিযানে নতুন সতর্কতা তিন বছরে আরও ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে, মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দারিদ্র্য থেকে বেরোতে না-ও পারে আরও ১২ লাখ – বিশ্বব্যাংক ময়মনসিংহ মেডিকেলে হামে আক্রান্ত শিশুর মৃত্যু, ওয়ার্ড সয়লাব খুলনায় হামের বিস্তার ও তাপপ্রবাহ একযোগে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে রাজশাহী মেডিকেলে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, মোট সংখ্যা ৪৬-এ দাঁড়াল সিলেটে হামের বিস্তার অব্যাহত, হাসপাতালে একটি মৃত্যু নিশ্চিত

চাঁদের অদেখা পাশের নতুন ছবি প্রকাশ করল নাসা

চাঁদের এমন কিছু দৃশ্য, যা আগে কখনও মানুষের চোখে ধরা পড়েনি, সেগুলো এবার সামনে আনল নাসা। আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যে অভিজ্ঞতা ও ছবি সংগ্রহ করেছেন, তা চাঁদের ভূতাত্ত্বিক রহস্য বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

চাঁদের অজানা রূপ

৬ এপ্রিল চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশে নজর দেন। সেখানে তারা দেখেন আঘাতের ফলে তৈরি বিশাল গহ্বরগুলোর চারপাশে বাদামি ও সবুজের ভিন্ন ভিন্ন ছায়া, অসমান ভূখণ্ড এবং দীর্ঘ ছায়া। পাশাপাশি তারা দেখতে পান চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর উদয় এবং ভাসমান ধুলোর আলো।

মারে ওরিয়েন্টালে গহ্বরের সম্পূর্ণ দৃশ্য

নভোচারীরা প্রথমবারের মতো মারে ওরিয়েন্টালে নামের প্রায় ৬০০ মাইল বিস্তৃত এক বিশাল গহ্বরের সম্পূর্ণ রূপ দেখতে সক্ষম হন। এই গহ্বরটি চাঁদের কাছের এবং দূরের দুই অংশ জুড়েই বিস্তৃত। অতীতে অ্যাপোলো মিশনের সময় এই অঞ্চলটি অন্ধকারে ঢাকা থাকায় সম্পূর্ণভাবে দেখা সম্ভব হয়নি।

চাঁদের যে অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায় না

গহ্বরটির বাম পাশের পুরো অঞ্চলটি চাঁদের সেই অংশ, যা পৃথিবী থেকে কখনও দেখা যায় না। কারণ চাঁদ নিজের অক্ষের উপর যত দ্রুত ঘোরে, পৃথিবীকে প্রদক্ষিণও করে ঠিক একই গতিতে, ফলে একই অংশ সবসময় পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে।

ভূখণ্ডের রঙ ও গঠনের পার্থক্য

নভোচারীরা লক্ষ্য করেন যে গহ্বরের ভেতরের অংশে মসৃণ সমতল ভূমি রয়েছে, তবে কেন্দ্রে বাদামি রঙের উপস্থিতি বেশি। খালি চোখে এই অঞ্চলটি সমতল বা মালভূমির মতো মনে হলেও ক্যামেরার মাধ্যমে রঙ ও ছায়ার সূক্ষ্ম পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে।

NASA releases first images from far side of moon taken by Artemis II

ভাভিলভ ও হার্টস্প্রুং গহ্বর

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল ভাভিলভ গহ্বর, যা বড় ও প্রাচীন হার্টস্প্রুং গহ্বরের কিনারায় অবস্থিত। এখানে নভোচারীরা দেখেন, গহ্বরের ভেতরের অংশ তুলনামূলকভাবে মসৃণ হলেও বাইরের প্রান্ত অনেক বেশি খসখসে ও অমসৃণ।

দক্ষিণ মেরু-এইটকেন অববাহিকা

উড়ানের প্রায় ২৪ মিনিট পর তারা দক্ষিণ মেরু-এইটকেন অববাহিকা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ১,৬০০ মাইল বিস্তৃত এই অঞ্চলটি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় পরিচিত আঘাতজনিত গহ্বর। এই বিশাল কাঠামো চাঁদের ইতিহাস ও গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

সূর্যগ্রহণ ও মহাকাশের দৃশ্য

চাঁদের দূরবর্তী অংশ ঘুরে আসার পর নভোচারীরা প্রায় ৫৩ মিনিট দীর্ঘ একটি সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেন। এই সময় তারা সূর্যের করোনা দেখতে পান এবং দূরে উজ্জ্বল শুক্র, লালচে মঙ্গল ও হালকা কমলা আভাযুক্ত শনি গ্রহের ঝলকও দেখতে সক্ষম হন। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনাকে তারা শিশুর নরম চুলের মতো দেখাচ্ছিল বলে বর্ণনা করেন।

Photos: NASA astronauts capture stunning Earthrise image : The Picture Show  : NPR

পৃথিবীর উদয়

শেষে চাঁদের দিগন্তে পৃথিবী উদিত হতে দেখা যায়, যা “আর্থরাইজ” নামে পরিচিত। ১৯৬৮ সালে প্রথমবার এই দৃশ্য দেখার পর যেমন বিস্ময় তৈরি হয়েছিল, এবারও তেমনই এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হন নভোচারীরা।

এই সব ছবি ৬ এপ্রিল ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে তোলা হয়েছে নভোচারী রেইড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেনের মাধ্যমে এবং নাসা তা প্রকাশ করেছে। এই পর্যবেক্ষণগুলো ভবিষ্যতে চাঁদের গঠন ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নতুন ‘স্পাইডার-ম্যান’ দৃশ্য যোগের খবর বলছে, এখন ব্লকবাস্টারের ভাগ্য অনেকটাই ঠিক হয় টোন আর ভিলেন নির্মাণে

চাঁদের অদেখা পাশের নতুন ছবি প্রকাশ করল নাসা

০২:২৬:৩১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

চাঁদের এমন কিছু দৃশ্য, যা আগে কখনও মানুষের চোখে ধরা পড়েনি, সেগুলো এবার সামনে আনল নাসা। আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় যে অভিজ্ঞতা ও ছবি সংগ্রহ করেছেন, তা চাঁদের ভূতাত্ত্বিক রহস্য বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

চাঁদের অজানা রূপ

৬ এপ্রিল চাঁদের পাশ দিয়ে উড়ে যাওয়ার সময় নভোচারীরা চাঁদের দূরবর্তী অংশে নজর দেন। সেখানে তারা দেখেন আঘাতের ফলে তৈরি বিশাল গহ্বরগুলোর চারপাশে বাদামি ও সবুজের ভিন্ন ভিন্ন ছায়া, অসমান ভূখণ্ড এবং দীর্ঘ ছায়া। পাশাপাশি তারা দেখতে পান চাঁদের দিগন্তে পৃথিবীর উদয় এবং ভাসমান ধুলোর আলো।

মারে ওরিয়েন্টালে গহ্বরের সম্পূর্ণ দৃশ্য

নভোচারীরা প্রথমবারের মতো মারে ওরিয়েন্টালে নামের প্রায় ৬০০ মাইল বিস্তৃত এক বিশাল গহ্বরের সম্পূর্ণ রূপ দেখতে সক্ষম হন। এই গহ্বরটি চাঁদের কাছের এবং দূরের দুই অংশ জুড়েই বিস্তৃত। অতীতে অ্যাপোলো মিশনের সময় এই অঞ্চলটি অন্ধকারে ঢাকা থাকায় সম্পূর্ণভাবে দেখা সম্ভব হয়নি।

চাঁদের যে অংশ পৃথিবী থেকে দেখা যায় না

গহ্বরটির বাম পাশের পুরো অঞ্চলটি চাঁদের সেই অংশ, যা পৃথিবী থেকে কখনও দেখা যায় না। কারণ চাঁদ নিজের অক্ষের উপর যত দ্রুত ঘোরে, পৃথিবীকে প্রদক্ষিণও করে ঠিক একই গতিতে, ফলে একই অংশ সবসময় পৃথিবীর দিকে মুখ করে থাকে।

ভূখণ্ডের রঙ ও গঠনের পার্থক্য

নভোচারীরা লক্ষ্য করেন যে গহ্বরের ভেতরের অংশে মসৃণ সমতল ভূমি রয়েছে, তবে কেন্দ্রে বাদামি রঙের উপস্থিতি বেশি। খালি চোখে এই অঞ্চলটি সমতল বা মালভূমির মতো মনে হলেও ক্যামেরার মাধ্যমে রঙ ও ছায়ার সূক্ষ্ম পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝা গেছে।

NASA releases first images from far side of moon taken by Artemis II

ভাভিলভ ও হার্টস্প্রুং গহ্বর

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ ছিল ভাভিলভ গহ্বর, যা বড় ও প্রাচীন হার্টস্প্রুং গহ্বরের কিনারায় অবস্থিত। এখানে নভোচারীরা দেখেন, গহ্বরের ভেতরের অংশ তুলনামূলকভাবে মসৃণ হলেও বাইরের প্রান্ত অনেক বেশি খসখসে ও অমসৃণ।

দক্ষিণ মেরু-এইটকেন অববাহিকা

উড়ানের প্রায় ২৪ মিনিট পর তারা দক্ষিণ মেরু-এইটকেন অববাহিকা পর্যবেক্ষণ করেন। প্রায় ১,৬০০ মাইল বিস্তৃত এই অঞ্চলটি সৌরজগতের সবচেয়ে বড় পরিচিত আঘাতজনিত গহ্বর। এই বিশাল কাঠামো চাঁদের ইতিহাস ও গঠন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারে বলে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন।

সূর্যগ্রহণ ও মহাকাশের দৃশ্য

চাঁদের দূরবর্তী অংশ ঘুরে আসার পর নভোচারীরা প্রায় ৫৩ মিনিট দীর্ঘ একটি সূর্যগ্রহণ প্রত্যক্ষ করেন। এই সময় তারা সূর্যের করোনা দেখতে পান এবং দূরে উজ্জ্বল শুক্র, লালচে মঙ্গল ও হালকা কমলা আভাযুক্ত শনি গ্রহের ঝলকও দেখতে সক্ষম হন। সূর্যের আলো বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে করোনাকে তারা শিশুর নরম চুলের মতো দেখাচ্ছিল বলে বর্ণনা করেন।

Photos: NASA astronauts capture stunning Earthrise image : The Picture Show  : NPR

পৃথিবীর উদয়

শেষে চাঁদের দিগন্তে পৃথিবী উদিত হতে দেখা যায়, যা “আর্থরাইজ” নামে পরিচিত। ১৯৬৮ সালে প্রথমবার এই দৃশ্য দেখার পর যেমন বিস্ময় তৈরি হয়েছিল, এবারও তেমনই এক অনন্য মুহূর্তের সাক্ষী হন নভোচারীরা।

এই সব ছবি ৬ এপ্রিল ওরিয়ন মহাকাশযান থেকে তোলা হয়েছে নভোচারী রেইড উইসম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ ও জেরেমি হ্যানসেনের মাধ্যমে এবং নাসা তা প্রকাশ করেছে। এই পর্যবেক্ষণগুলো ভবিষ্যতে চাঁদের গঠন ও ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।