০৪:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা স্টারমার সংকটে ব্রিটিশ রাজনীতির গভীর অসুখ ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম, দেশে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল ঢাকার শিশুদের দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে আসক্তি, বাড়ছে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক ঝুঁকি জেলবন্দী  অবস্থায়  গুরুতর অসুস্থ হওয়া  আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল  চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমির মৃত্যু, আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু, বিজিবি-বিএসএফ বৈঠকের আলোচনা ওমানে রহস্যজনক মৃত্যু: চট্টগ্রামের চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার মায়ের দুধ কম হওয়ার পেছনে মিলল নতুন কারণ, বদলাচ্ছে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ধারণা ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন ঝড়, ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন

আতাউর রহমানের চলে যাওয়া

অভিনেতা আতাউর রহমান, একজন নাট্য আন্দোলনের আতাউর রহমান, একজন বাঙালি সংস্কৃতি বিনির্মাণের পথিক আতাউর রহমান- কখনও মারা যান না। তিনি শুধু পৃথিবী থেকে চলে গেছেন কালের নিয়মে। হয়তো সময় বা দেশের পরিবেশ যদি সুস্থ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুকূলে থাকত তিনি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতেন।

আতাউর রহমানের এই প্রয়াণকে স্মরণ করে তাঁর অভিনয় নিয়ে বাস্তবে বিশ্লেষণ করার কিছু নেই। কারণ, তিনি তাঁর প্রতিটি অভিনয়ের ভেতর দিয়েই তা প্রকাশ করে গেছেন।

বাংলাদেশ এমন একটা দেশ- সবাই যে মৃত্যুর পরে তার যোগ্য সম্মান রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবেন তা আশা করা যায় না। কবি সুফিয়া কামাল মারা যাওয়ার পরে সাত দিন রাষ্ট্র শোক পালন করেছিল। কিন্তু কবি শামসুর রাহমান বাঙালি সংস্কৃতির এমন একটি দুঃসময়ে মারা যান, তাঁকে স্মরণ সীমাবদ্ধ ছিল শুধু গুটি কয়েক মানুষের মধ্যে।

বরেণ্য অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই

এই নদী জলে ঘেরা সহজিয়া বাংলাদেশে যে বাঙালি সংস্কৃতি ষাটের দশক থেকে বেড়ে উঠেছিল তাতে আজ আতাউর রহমান মারা গেলে শোকের মিছিল নামার কথা তার শবদেহ নিয়ে। কিন্তু যেখানে বাঙালি সংস্কৃতি নিজেই অনেকটা অন্তর্জলী যাত্রায় সেখানে আতাউর রহমানের জন্য শোক মিছিল কে আশা করতে পারে?

বরং এই বঙ্গে এখন কবি আবুল হাকিম যাদের কথা বলেছিলেন, “সেসবে কাহার জন্মে” তাদের জন্ম এত বেশি ঘটেছে- যে সোশ্যাল ফোরামে বাঙালি সংস্কৃতি বিনির্মাণের এই নাট্যজন, এই অভিনেতাকে নিয়েও তারা ট্রল করে।

এগুলো অবশ্য আতাউর রহমানের দুর্ভাগ্য নয়, দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির। শুধু দুর্ভাগ্য নয়- এ এক অশনিসংকেত। কারণ, সংস্কৃতি মারা গেলে ওই জাতির বাদবাকি অন্যকিছু কতদিন বেঁচে থাকে তা অনেক বড় প্রশ্ন রেখে যায়!

আতাউর রহমানের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো ছাড়া এ মুহূর্তে কারও কিছুই করার নেই। তার পরেও আশা শুধু ছলনা নয়, আশা সত্যও। ঠিকই কোনো এক প্রজন্ম এসে তাদের আত্মপরিচয়ের পক্ষের এই সংগ্রামী ও গুণী অভিনেতাকে ঠিকই স্মরণ করবে। মানবসভ্যতার ইতিহাসও যেমন দীর্ঘ- এর পথে পথে তেমনি আলো-আঁধারের খেলাও বড় বেশি।

আতাউর রহমানকে স্মরণ করে বলা যায়, তুমি ঠিক যেভাবে রক্তকরবীতে অভিনয় করেছিলে, একটি অদৃশ্য শেকলকে চেনাতে, তেমনি একটা বাস্তব জীবন নিয়ে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আজ পড়ে আছে। কেবল তুমি শুধু নেই।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা

আতাউর রহমানের চলে যাওয়া

০৬:৩৩:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬

অভিনেতা আতাউর রহমান, একজন নাট্য আন্দোলনের আতাউর রহমান, একজন বাঙালি সংস্কৃতি বিনির্মাণের পথিক আতাউর রহমান- কখনও মারা যান না। তিনি শুধু পৃথিবী থেকে চলে গেছেন কালের নিয়মে। হয়তো সময় বা দেশের পরিবেশ যদি সুস্থ মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুকূলে থাকত তিনি আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতেন।

আতাউর রহমানের এই প্রয়াণকে স্মরণ করে তাঁর অভিনয় নিয়ে বাস্তবে বিশ্লেষণ করার কিছু নেই। কারণ, তিনি তাঁর প্রতিটি অভিনয়ের ভেতর দিয়েই তা প্রকাশ করে গেছেন।

বাংলাদেশ এমন একটা দেশ- সবাই যে মৃত্যুর পরে তার যোগ্য সম্মান রাষ্ট্রের কাছ থেকে পাবেন তা আশা করা যায় না। কবি সুফিয়া কামাল মারা যাওয়ার পরে সাত দিন রাষ্ট্র শোক পালন করেছিল। কিন্তু কবি শামসুর রাহমান বাঙালি সংস্কৃতির এমন একটি দুঃসময়ে মারা যান, তাঁকে স্মরণ সীমাবদ্ধ ছিল শুধু গুটি কয়েক মানুষের মধ্যে।

বরেণ্য অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই

এই নদী জলে ঘেরা সহজিয়া বাংলাদেশে যে বাঙালি সংস্কৃতি ষাটের দশক থেকে বেড়ে উঠেছিল তাতে আজ আতাউর রহমান মারা গেলে শোকের মিছিল নামার কথা তার শবদেহ নিয়ে। কিন্তু যেখানে বাঙালি সংস্কৃতি নিজেই অনেকটা অন্তর্জলী যাত্রায় সেখানে আতাউর রহমানের জন্য শোক মিছিল কে আশা করতে পারে?

বরং এই বঙ্গে এখন কবি আবুল হাকিম যাদের কথা বলেছিলেন, “সেসবে কাহার জন্মে” তাদের জন্ম এত বেশি ঘটেছে- যে সোশ্যাল ফোরামে বাঙালি সংস্কৃতি বিনির্মাণের এই নাট্যজন, এই অভিনেতাকে নিয়েও তারা ট্রল করে।

এগুলো অবশ্য আতাউর রহমানের দুর্ভাগ্য নয়, দুর্ভাগ্য বাঙালি জাতির। শুধু দুর্ভাগ্য নয়- এ এক অশনিসংকেত। কারণ, সংস্কৃতি মারা গেলে ওই জাতির বাদবাকি অন্যকিছু কতদিন বেঁচে থাকে তা অনেক বড় প্রশ্ন রেখে যায়!

আতাউর রহমানের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো ছাড়া এ মুহূর্তে কারও কিছুই করার নেই। তার পরেও আশা শুধু ছলনা নয়, আশা সত্যও। ঠিকই কোনো এক প্রজন্ম এসে তাদের আত্মপরিচয়ের পক্ষের এই সংগ্রামী ও গুণী অভিনেতাকে ঠিকই স্মরণ করবে। মানবসভ্যতার ইতিহাসও যেমন দীর্ঘ- এর পথে পথে তেমনি আলো-আঁধারের খেলাও বড় বেশি।

আতাউর রহমানকে স্মরণ করে বলা যায়, তুমি ঠিক যেভাবে রক্তকরবীতে অভিনয় করেছিলে, একটি অদৃশ্য শেকলকে চেনাতে, তেমনি একটা বাস্তব জীবন নিয়ে তোমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা আজ পড়ে আছে। কেবল তুমি শুধু নেই।