ওমানে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। বুধবার রাতে ওমানের মুলাদ্দাহ এলাকায় একটি পার্ক করা গাড়ির ভেতর থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস ছড়িয়ে পড়ার কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে।
নিহত চার ভাই হলেন মুহাম্মদ রাশেদ, মুহাম্মদ সাহেদ, মুহাম্মদ সিরাজ ও মুহাম্মদ শহিদ। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বন্দারাজার পাড়ায়।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে দুই ভাইয়ের আগামী শুক্রবার দেশে ফেরার কথা ছিল। এ কারণে চার ভাই একসঙ্গে একটি গাড়ি নিয়ে কেনাকাটার উদ্দেশ্যে বের হন। এরপরই ঘটে মর্মান্তিক এই ঘটনা।
শেষ মুহূর্তের ভয়েস মেসেজ
ওমানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সংগঠন চট্টগ্রাম সমিতির সভাপতি মো. ইয়াসিন চৌধুরী জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই বারকা এলাকায় অবস্থান করছিলেন। পরে তারা সেখান থেকে মুলাদ্দাহর দিকে রওনা দেন। রাতের দিকে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় দেখতে পান দুই বাংলাদেশি প্রবাসী। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে দরজা খুলে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তিনি আরও জানান, রাত ৮টার পর নিহতদের একজন বারকায় থাকা এক স্বজনকে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে জানান যে তারা খুব অসুস্থ বোধ করছেন এবং গাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না। একই সঙ্গে তারা নিজেদের অবস্থানের লোকেশনও পাঠিয়েছিলেন।
ধারণা করা হচ্ছে, অসুস্থ অনুভব করায় চিকিৎসা নেওয়ার জন্য তারা ক্লিনিকটির সামনে গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে এর আগেই তাদের মৃত্যু ঘটে।
ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ রাখা হয়েছে

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চার ভাইয়ের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাখা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। প্রবাসী সংগঠনের সদস্যরা নিহতদের পরিবারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন।
এদিকে লালানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আমির হোসেন বলেন, একই পরিবারের চার ভাইয়ের একসঙ্গে মৃত্যুর খবর এলাকায় গভীর শোক তৈরি করেছে। স্বজনরা মরদেহ দ্রুত দেশে আনার চেষ্টা করছেন।
প্রশাসনের খোঁজখবর
রাঙ্গুনিয়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান জানান, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়নি। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও জরুরি চিকিৎসা সহায়তার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে এই ঘটনার পর। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় গাড়ির ভেতরে অবস্থান ও বিষাক্ত গ্যাসের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















