চট্টগ্রামে দুর্বৃত্তের গুলিতে আহত ১১ বছর বয়সী শিশু রেশমি আক্তার মারা গেছে। বৃহস্পতিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রেশমির চোখের নিচ দিয়ে ঢোকা গুলিটি মাথার ভেতরে আটকে ছিল। গুরুতর আঘাতের কারণে তার মস্তিষ্ক কার্যত কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। চিকিৎসকরা শুরু থেকেই তার অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছিলেন।
নিরীহ শিশুর প্রাণ কেড়ে নিল গুলি

গত ৭ মে রাতে চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানার রৌফাবাদ কলোনিতে এ ঘটনা ঘটে। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাতে পাশের দোকান থেকে কিছু জিনিস কিনে ফেরার পথে হঠাৎ এলাকায় গোলাগুলি শুরু হয়। আতঙ্কে চারদিকে ছুটোছুটি শুরু হলে গুলির মধ্যে পড়ে যায় রেশমি। মুহূর্তেই একটি গুলি এসে লাগে তার চোখের নিচে।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রথমে তাকে ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হয়।
চিকিৎসার জন্য দৌড়ঝাঁপ
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ওই সময় চমেক হাসপাতালে আইসিইউ বেড খালি না থাকায় গভীর রাতে রেশমিকে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে চট্টগ্রাম মেডিক্যালে আইসিইউ বেড খালি হলে আবার সেখানে স্থানান্তর করা হয়। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার মস্তিষ্কের কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল না। চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
একই ঘটনায় নিহত যুবক
একই গোলাগুলির ঘটনায় হাসান ওরফে রাজু নামে ৩২ বছর বয়সী এক যুবকও নিহত হন। তিনি রাউজান উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি হত্যা মামলার আসামি হওয়ার পর তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে বোনের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন।
রেশমির পরিবারে শোকের ছায়া
রেশমি আক্তার ছিলেন রৌফাবাদ কলোনির প্রতিবন্ধী সবজি বিক্রেতা রিয়াজ আহমেদ গুড্ডুর মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। স্থানীয় ব্যারিস্টার মিল্কি মেমোরিয়াল স্কুলের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী ছিল রেশমি।
একটি সাধারণ রাতে দোকানে যাওয়ার পথে গুলির শিকার হয়ে তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















