চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার তাকে “মহান নেতা” বলে উল্লেখ করেছেন। বৃহস্পতিবার বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছানো ট্রাম্প বৈঠকের সময় শি জিনপিংয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বেইজিংয়ে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক
বৃহস্পতিবার সকালে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, বাণিজ্য এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদলও রয়েছে। ট্রাম্প এ প্রতিনিধিদলের উপস্থিতিকে চীনের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবে তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, মার্কিন ব্যবসায়ীরা চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ও ব্যবসা সম্প্রসারণে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এই বৈঠককে অনেকেই “সম্ভবত ইতিহাসের সবচেয়ে বড় শীর্ষ বৈঠক” হিসেবে দেখছেন।

সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা
বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, শি জিনপিংয়ের বন্ধু হতে পারা তার জন্য সম্মানের বিষয়। তিনি আরও দাবি করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও ভালো হবে।
দুই দেশের মধ্যে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যুতে উত্তেজনা থাকলেও এই সফরকে সম্পর্ক পুনর্গঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির মধ্যে সহযোগিতা ও প্রতিযোগিতা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে।
ব্যবসা ও কূটনীতিতে নতুন ইঙ্গিত
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সফর শুধু কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর মাধ্যমে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়েও বার্তা দেওয়া হয়েছে। সফরে থাকা মার্কিন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের উপস্থিতি সেই ইঙ্গিতকেই আরও স্পষ্ট করেছে।
চীনের পক্ষ থেকেও এই সফরকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক পরিবেশ এবং উচ্চপর্যায়ের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন মাত্রা দেওয়ার ইঙ্গিত বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আন্তর্জাতিক রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে শি জিনপিং ও ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বৈঠক বিশ্বজুড়েই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
একাধিকবার শি জিনপিংকে “মহান নেতা” বললেন ট্রাম্প, সম্পর্ক উন্নয়নের আশাবাদ
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















