দেশজুড়ে হামের সংক্রমণ ও উপসর্গজনিত মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও সাতজনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর মধ্যে একজনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকি ছয়জন মারা গেছেন হামের উপসর্গ নিয়ে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রকাশিত তথ্যে এ তথ্য জানানো হয়।
সংক্রমণ ও মৃত্যুর ঊর্ধ্বগতি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চের পর থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজার ৩০৫ জন। একই সময়ে সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছেছে ৫৪ হাজার ৪১৯ জনে।
এ সময়ের মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৭০ জন। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৯ জনে। সাম্প্রতিক সময়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই ধারাবাহিক বৃদ্ধি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
উপসর্গ নিয়ে সতর্কতা
হাম সাধারণত একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। জ্বর, সর্দি, কাশি, চোখ লাল হয়ে যাওয়া এবং শরীরে লালচে দানা ওঠা এর প্রধান লক্ষণ হিসেবে পরিচিত। তবে গুরুতর অবস্থায় নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট ও অন্যান্য জটিলতাও দেখা দিতে পারে।
স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিশুদের পাশাপাশি বড়রাও এখন আক্রান্ত হচ্ছেন। ফলে জ্বর বা ত্বকে ফুসকুড়ির মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নজরদারি
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাই হামের সংক্রমণ কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়। বিশেষ করে শিশুদের পূর্ণ টিকাদান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই মাসে দেশে হামের বিস্তার উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সতর্কতা জোরদারের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















