০৯:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

বাংলাদেশ ব্যাংকের টানা ডলার কেনা, বাড়ছে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে স্বস্তি

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে টানা কয়েকদিন ধরে বাজার থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ নিয়ে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মে মাসজুড়ে ধারাবাহিক ডলার ক্রয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ১২ মে আরও ২ কোটি ডলার, ১৩ মে দুইটি ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ১৪ মে পাঁচটি ব্যাংক থেকে আরও ৪ কোটি ডলার কেনা হয়।

এর ফলে মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ডলারে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয় বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর আগে ৫ মে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার কেনা হয়েছিল। তখন মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ডলার।

কেন বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, গত দুই বছরে ডলারের সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ ডলার বাজারে ছাড়তে হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। রফতানি আয় এবং প্রবাসী আয় বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাজারে অতিরিক্ত ডলার থাকলে টাকার মান দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এতে রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বাজার থেকে ডলার তুলে একদিকে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে রিজার্ভও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি

প্রবাসী আয়েও ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। চলতি মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থনীতিতে স্বস্তি দিয়েছে রেমিট্যান্স

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।

ব্যাংকারদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সরকারি প্রণোদনা, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা— এই তিনটি কারণে প্রবাসী আয় বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানও এতে ভূমিকা রাখছে।

রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মে পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় সরকারের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বাড়বে।

তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, শুধু রেমিট্যান্স বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। এজন্য রফতানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ক্রয়

রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি, টানা ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ডলার কেনা ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

বাংলাদেশ ব্যাংকের টানা ডলার কেনা, বাড়ছে রেমিট্যান্স ও রিজার্ভে স্বস্তি

০৮:১২:৫৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে টানা কয়েকদিন ধরে বাজার থেকে ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়তে থাকায় সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্বস্তির ইঙ্গিত মিলছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, বাজারে ডলারের সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতির সুযোগ নিয়ে রিজার্ভ আরও শক্তিশালী করার কৌশল নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মে মাসজুড়ে ধারাবাহিক ডলার ক্রয়

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১১ মে একটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা দরে ৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরপর ১২ মে আরও ২ কোটি ডলার, ১৩ মে দুইটি ব্যাংক থেকে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ১৪ মে পাঁচটি ব্যাংক থেকে আরও ৪ কোটি ডলার কেনা হয়।

এর ফলে মে মাসের প্রথম দুই সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মোট ডলার ক্রয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২১ কোটি ডলারে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ডলার ক্রয় বেড়ে হয়েছে ৫ হাজার ৮৮৩ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এর আগে ৫ মে তিনটি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৫ কোটি ডলার কেনা হয়েছিল। তখন মে মাসের প্রথম পাঁচ দিনে মোট ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ডলার।

কেন বাজার থেকে ডলার কিনছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকারদের মতে, গত দুই বছরে ডলারের সংকট সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিপুল পরিমাণ ডলার বাজারে ছাড়তে হয়েছিল। তবে বর্তমানে পরিস্থিতি বদলেছে। রফতানি আয় এবং প্রবাসী আয় বাড়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহও বেড়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এখন বাজার থেকে ডলার কিনে রিজার্ভ পুনর্গঠনের সুযোগ পাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের ভাষ্য, বাজারে অতিরিক্ত ডলার থাকলে টাকার মান দ্রুত বেড়ে যেতে পারে। এতে রফতানিকারকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই বাজার থেকে ডলার তুলে একদিকে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা হচ্ছে, অন্যদিকে রিজার্ভও শক্তিশালী করা হচ্ছে।

রেমিট্যান্সে বড় প্রবৃদ্ধি

প্রবাসী আয়েও ইতিবাচক ধারা দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মে একদিনেই দেশে এসেছে ১৩ কোটি ৮০ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স। চলতি মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ১৭৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১২৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে মে মাসের প্রথম ১৩ দিনে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ।

অর্থনীতিতে স্বস্তি দিয়েছে রেমিট্যান্স

অন্যদিকে চলতি অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১৩ মে পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ৩১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে যা ছিল ২৫ দশমিক ৮০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এই সময়ে রেমিট্যান্সে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৪ শতাংশ।

ব্যাংকারদের মতে, বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে সরকারি প্রণোদনা, হুন্ডি নিয়ন্ত্রণে কঠোর নজরদারি এবং ডলারের বাজারে স্থিতিশীলতা— এই তিনটি কারণে প্রবাসী আয় বেড়েছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন শ্রমবাজারে নতুন কর্মসংস্থানও এতে ভূমিকা রাখছে।

রিজার্ভেও ইতিবাচক প্রভাব

রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১২ মে পর্যন্ত দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৩৪ বিলিয়ন ডলারে। আর আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম-৬ হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ২৯ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ডলার।

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, রিজার্ভ বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকলে আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং বিনিময় হার ব্যবস্থাপনায় সরকারের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক আর্থিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের প্রতি আস্থা বাড়বে।

তবে বিশ্লেষকদের সতর্কবার্তা, শুধু রেমিট্যান্স বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার ক্রয়ের ওপর নির্ভর করলে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ধরে রাখা কঠিন হতে পারে। এজন্য রফতানি বহুমুখীকরণ, বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আমদানি ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা নিশ্চিত করাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ডলার ক্রয়

রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ বাড়ায় বাজারে স্বস্তি, টানা ডলার কিনছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ডলার কেনা ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধিতে অর্থনীতিতে ইতিবাচক বার্তা