০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬
একাকীত্বের সব উত্তর থেরাপি নয়, সম্পর্কই হতে পারে সবচেয়ে বড় ওষুধ ভাইরাল খাবারের নেশা: এক বাটি হিমায়িত দইয়ের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা কেন? মাইকেল জ্যাকসনের জীবনীচিত্র ঘিরে বিশ্বজুড়ে আবেগের ঢেউ, ভক্তদের মধ্যে ফিরেছে পুরোনো শোক অভিশপ্ত সাপ ঢাকার নির্দিষ্ট সড়কে আসছে ‘যানজট শুল্ক’, কিলোমিটারপ্রতি প্রস্তাব ৬.২৭ টাকা চট্টগ্রামে প্রকাশ্যে গুলি: পাঁচলাইশে যুবক নিহত, তদন্তে নেমেছে পুলিশ আপনার অতীতই কি বার্ধক্যে চোখ ভিজিয়ে দেয়? স্মৃতি, আবেগ আর জীবনের শেষ অধ্যায়ের নীরব ভাষা ১৭ দিন পর সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে উধাও ৩ যুবক, তাদের অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা রেমিট্যান্সে ছন্দপতন, জুনে আট মাসের সর্বনিম্ন প্রবাসী আয় বিজয়ের ভক্তের হাতে ‘অপহরণের’ অভিজ্ঞতা জানালেন ছেলে জেসন সঞ্জয়

অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

ব্রিটিশ-এশীয় অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডে নদীর কাছাকাছি নিজের বাড়ি পাওয়া একসময় তাঁর কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। বর্তমানে তিনি সারে অঞ্চলের শেপারটনের কাছে টেমস নদীর খুব কাছেই স্বামী রাইওমন্ড ও তাদের পোষা কুকুর বাসিলকে নিয়ে থাকেন। তাঁদের দুই সন্তান এইডান ও টিয়া এখন বাড়ির বাইরে নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত।

নীনা জানান, ২১ বছর আগে এই বাড়িটি কেনার অন্যতম বড় কারণ ছিল নদীর নিকটবর্তী অবস্থান। এর আগে তিনি সবসময় শহরের বহুতল আবাসনে থেকেছেন এবং মনে করতেন, ইংল্যান্ডে পানির ধারে বাড়ি কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না।

পুরোনো বাংলো থেকে স্বপ্নের বাড়ি

তাঁদের বাড়িটি মূলত ১৯৩০-এর দশকে নির্মিত পাঁচ শয়নকক্ষের একটি বাংলো। পরে এর বাগানে বিশেষভাবে একটি সুরকক্ষ নির্মাণ করা হয়, কারণ তাঁর স্বামী একজন সুরকার। নীনার ভাষায়, আগে এটি দুটি আলাদা বাংলো ছিল, পরে সেগুলো একত্র করা হয়েছে। বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও ভেতরে ঢুকলে অনেক কক্ষ দেখে অতিথিরা বিস্মিত হন।

Actress Nina Wadia: 'Our house had all yellow walls, like a lemon'

তবে বাড়িটি কেনার পর বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। তিনি বলেন, বাড়ির ভেতর-বাইরের সব দেয়ালই ছিল হলুদ রঙের। এমনকি বাইরের দেয়ালও। এই দৃশ্য তাঁর কাছে এতটাই অস্বস্তিকর ছিল যে প্রথম কাজই ছিল রং বদলে ফেলা। পরে বাইরের অংশ সাদা করা হয় এবং ভেতরে ব্যবহার করা হয় ধূসর ও সবুজের মৃদু আভা।

ভ্রমণ থেকে ঘরের সাজ

নীনা ভ্রমণপ্রিয়। বিভিন্ন দেশে ঘুরতে গিয়ে তিনি এমন জিনিস সংগ্রহ করেন যা তাঁর বাড়ির সঙ্গে মানানসই। ছোটখাটো সাজসজ্জার জিনিসের বদলে তিনি এমন কিছু পছন্দ করেন যা ব্যবহার করা যায় বা দেয়ালে টাঙানো যায়। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে পর্তুগালের ফুলদানি, প্যারিসের চিত্রকর্ম এবং ওমানের জোড়াতালি কাঁথা।

মুম্বাইয়ের ছোট্ট আবাসে শৈশব

নীনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতের মুম্বাইয়ের দাদার পারসি কলোনিতে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁদের পরিবার একটি এক শয়নকক্ষের ছোট আবাসে থাকত। বর্ষাকালে প্রায়ই বাড়িতে পানি ঢুকে যেত। যদিও এটি তাঁর বাবা-মায়ের জন্য ছিল দুশ্চিন্তার বিষয়, শিশুদের কাছে তা ছিল আনন্দের। কখনও বিদ্যালয় বন্ধ থাকত, আবার কখনও বাবা তাঁদের কাঁধে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতেন। ঘরের ভেতর কাগজের নৌকাও ভাসাতেন তাঁরা।

কৌতুকাভিনয়ের পথে যাত্রা

নয় বছর বয়সে তাঁর পরিবার হংকংয়ে চলে যায়। সেখানে তাঁর বাবা-মা একটি খাবারের দোকান চালু করেন। নীনা পড়াশোনা করেন স্কটিশ অনাথাশ্রম উচ্চবিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়জীবনেই তিনি নিজে হাস্যরসাত্মক অভিনয় লিখে মঞ্চস্থ করতেন এবং মানুষকে হাসাতে পছন্দ করতেন। পরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নাট্যবিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং সেখান থেকেই তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু।

Actress Nina Wadia: 'Our house had all yellow walls, like a lemon'

পরে তিনি জনপ্রিয় কৌতুক অনুষ্ঠান ‘গুডনেস গ্রেশাস মি’-তে কাজ করে পরিচিতি পান। এরপর একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে জয়নাব মাসুদ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

ধারাবাহিক ছাড়ার সিদ্ধান্ত

নীনা জানান, দীর্ঘ সময় একটি চরিত্রে অভিনয় করার পর তিনি মানসিকভাবে প্রভাবিত হতে শুরু করেন। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতার গল্পে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি বিষণ্ন ও রাগান্বিত হয়ে পড়েন। তাঁর স্বামী লক্ষ্য করেন, তিনি ধীরে ধীরে চরিত্রটির মতো আচরণ করতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সন্তানদের বড় হয়ে ওঠার সময় হারিয়ে যাচ্ছে বলেও মনে হচ্ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত সেই কারণেই তিনি অনুষ্ঠানটি ছেড়ে দেন।

রান্না, সাময়িকী ও নতুন পরিকল্পনা

অভিনয়ের বাইরে রান্না তাঁর অন্যতম বড় নেশা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলি খাবারের স্বাদ ও রান্নার পদ্ধতি নিয়ে তিনি বেশ আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি ‘সোলেস’ নামে একটি নতুন সাময়িকী চালু করতে যাচ্ছেন, যেখানে সুস্থতা, বিলাসবহুল খাবার ও ভ্রমণ নিয়ে লেখা থাকবে। এছাড়াও একটি ধারাবাহিক কথোপকথনভিত্তিক অনুষ্ঠান নিয়েও কাজ করছেন তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

একাকীত্বের সব উত্তর থেরাপি নয়, সম্পর্কই হতে পারে সবচেয়ে বড় ওষুধ

অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

০৮:৩৯:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ব্রিটিশ-এশীয় অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া জানিয়েছেন, ইংল্যান্ডে নদীর কাছাকাছি নিজের বাড়ি পাওয়া একসময় তাঁর কাছে ছিল স্বপ্নের মতো। বর্তমানে তিনি সারে অঞ্চলের শেপারটনের কাছে টেমস নদীর খুব কাছেই স্বামী রাইওমন্ড ও তাদের পোষা কুকুর বাসিলকে নিয়ে থাকেন। তাঁদের দুই সন্তান এইডান ও টিয়া এখন বাড়ির বাইরে নিজেদের জীবন নিয়ে ব্যস্ত।

নীনা জানান, ২১ বছর আগে এই বাড়িটি কেনার অন্যতম বড় কারণ ছিল নদীর নিকটবর্তী অবস্থান। এর আগে তিনি সবসময় শহরের বহুতল আবাসনে থেকেছেন এবং মনে করতেন, ইংল্যান্ডে পানির ধারে বাড়ি কেনা তাঁর পক্ষে সম্ভব হবে না।

পুরোনো বাংলো থেকে স্বপ্নের বাড়ি

তাঁদের বাড়িটি মূলত ১৯৩০-এর দশকে নির্মিত পাঁচ শয়নকক্ষের একটি বাংলো। পরে এর বাগানে বিশেষভাবে একটি সুরকক্ষ নির্মাণ করা হয়, কারণ তাঁর স্বামী একজন সুরকার। নীনার ভাষায়, আগে এটি দুটি আলাদা বাংলো ছিল, পরে সেগুলো একত্র করা হয়েছে। বাইরে থেকে ছোট মনে হলেও ভেতরে ঢুকলে অনেক কক্ষ দেখে অতিথিরা বিস্মিত হন।

Actress Nina Wadia: 'Our house had all yellow walls, like a lemon'

তবে বাড়িটি কেনার পর বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হয়েছিল। তিনি বলেন, বাড়ির ভেতর-বাইরের সব দেয়ালই ছিল হলুদ রঙের। এমনকি বাইরের দেয়ালও। এই দৃশ্য তাঁর কাছে এতটাই অস্বস্তিকর ছিল যে প্রথম কাজই ছিল রং বদলে ফেলা। পরে বাইরের অংশ সাদা করা হয় এবং ভেতরে ব্যবহার করা হয় ধূসর ও সবুজের মৃদু আভা।

ভ্রমণ থেকে ঘরের সাজ

নীনা ভ্রমণপ্রিয়। বিভিন্ন দেশে ঘুরতে গিয়ে তিনি এমন জিনিস সংগ্রহ করেন যা তাঁর বাড়ির সঙ্গে মানানসই। ছোটখাটো সাজসজ্জার জিনিসের বদলে তিনি এমন কিছু পছন্দ করেন যা ব্যবহার করা যায় বা দেয়ালে টাঙানো যায়। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে পর্তুগালের ফুলদানি, প্যারিসের চিত্রকর্ম এবং ওমানের জোড়াতালি কাঁথা।

মুম্বাইয়ের ছোট্ট আবাসে শৈশব

নীনার জন্ম ও বেড়ে ওঠা ভারতের মুম্বাইয়ের দাদার পারসি কলোনিতে। তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, তাঁদের পরিবার একটি এক শয়নকক্ষের ছোট আবাসে থাকত। বর্ষাকালে প্রায়ই বাড়িতে পানি ঢুকে যেত। যদিও এটি তাঁর বাবা-মায়ের জন্য ছিল দুশ্চিন্তার বিষয়, শিশুদের কাছে তা ছিল আনন্দের। কখনও বিদ্যালয় বন্ধ থাকত, আবার কখনও বাবা তাঁদের কাঁধে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দিতেন। ঘরের ভেতর কাগজের নৌকাও ভাসাতেন তাঁরা।

কৌতুকাভিনয়ের পথে যাত্রা

নয় বছর বয়সে তাঁর পরিবার হংকংয়ে চলে যায়। সেখানে তাঁর বাবা-মা একটি খাবারের দোকান চালু করেন। নীনা পড়াশোনা করেন স্কটিশ অনাথাশ্রম উচ্চবিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়জীবনেই তিনি নিজে হাস্যরসাত্মক অভিনয় লিখে মঞ্চস্থ করতেন এবং মানুষকে হাসাতে পছন্দ করতেন। পরে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নাট্যবিদ্যালয়ে আবেদন করেন এবং সেখান থেকেই তাঁর অভিনয়জীবনের শুরু।

Actress Nina Wadia: 'Our house had all yellow walls, like a lemon'

পরে তিনি জনপ্রিয় কৌতুক অনুষ্ঠান ‘গুডনেস গ্রেশাস মি’-তে কাজ করে পরিচিতি পান। এরপর একটি জনপ্রিয় ধারাবাহিকে জয়নাব মাসুদ চরিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন।

ধারাবাহিক ছাড়ার সিদ্ধান্ত

নীনা জানান, দীর্ঘ সময় একটি চরিত্রে অভিনয় করার পর তিনি মানসিকভাবে প্রভাবিত হতে শুরু করেন। বিশেষ করে পারিবারিক সহিংসতার গল্পে অভিনয় করতে গিয়ে তিনি বিষণ্ন ও রাগান্বিত হয়ে পড়েন। তাঁর স্বামী লক্ষ্য করেন, তিনি ধীরে ধীরে চরিত্রটির মতো আচরণ করতে শুরু করেছেন। একই সঙ্গে সন্তানদের বড় হয়ে ওঠার সময় হারিয়ে যাচ্ছে বলেও মনে হচ্ছিল তাঁর। শেষ পর্যন্ত সেই কারণেই তিনি অনুষ্ঠানটি ছেড়ে দেন।

রান্না, সাময়িকী ও নতুন পরিকল্পনা

অভিনয়ের বাইরে রান্না তাঁর অন্যতম বড় নেশা। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও ইসরায়েলি খাবারের স্বাদ ও রান্নার পদ্ধতি নিয়ে তিনি বেশ আগ্রহী। পাশাপাশি তিনি ‘সোলেস’ নামে একটি নতুন সাময়িকী চালু করতে যাচ্ছেন, যেখানে সুস্থতা, বিলাসবহুল খাবার ও ভ্রমণ নিয়ে লেখা থাকবে। এছাড়াও একটি ধারাবাহিক কথোপকথনভিত্তিক অনুষ্ঠান নিয়েও কাজ করছেন তিনি।