দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন সহজ করতে একক ঋণগ্রহীতা ও বড় ঋণের সীমা শিথিল করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকগুলোর জন্য ঋণ বিতরণ ও নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ক্ষেত্রে আগের বিধিনিষেধ সাময়িকভাবে শিথিল করা হয়েছে।
সম্প্রতি জারি করা এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, একক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপের ক্ষেত্রে ব্যাংকের মূলধনের সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ পর্যন্ত মোট ঋণ এক্সপোজারের যে সীমা ছিল, তা ২০২৮ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই সময়ের জন্য সীমা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও সহজে ব্যাংক সুবিধা পাবে। বিশেষ করে আমদানি-রপ্তানি নির্ভর শিল্প ও বাণিজ্য খাত এতে উপকৃত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
নন-ফান্ডেড এক্সপোজারে নতুন ছাড়
বাংলাদেশ ব্যাংক নন-ফান্ডেড এক্সপোজারের ক্ষেত্রে কনভার্সন ফ্যাক্টরও কমিয়েছে। আগে যেখানে ০.৫০ বা ৫০ শতাংশ কনভার্সন ফ্যাক্টর কার্যকর ছিল, সেখানে এখন তা কমিয়ে ০.২৫ বা ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এই কমানো হার ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত বহাল থাকবে। এরপর ধাপে ধাপে কনভার্সন ফ্যাক্টর বাড়ানো হবে। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এটি ৩০ শতাংশ, ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ৪০ শতাংশ এবং ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পুনরায় ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, ২০৩০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আগের নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হবে।
বড় ঋণ পোর্টফোলিওতেও পরিবর্তন
নতুন নির্দেশনায় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার অনুযায়ী বড় ঋণ পোর্টফোলিও সীমাও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। যেসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণের হার ১০ শতাংশ বা তার কম, তারা মোট ঋণ ও অগ্রিমের ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বড় ঋণ পোর্টফোলিও রাখতে পারবে।
অন্যদিকে, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি, তাদের জন্য এই সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক স্পষ্ট করেছে, কোনো ব্যাংকের মোট বড় ঋণ এক্সপোজার কোনো অবস্থাতেই তার মূলধনের ৬০০ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। বড় ঋণ পোর্টফোলিও সংক্রান্ত এই নতুন বিধান ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
তাৎক্ষণিক কার্যকারিতা
ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর আওতায় জারি করা এই নির্দেশনা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে ২০২২ সালের মূল সার্কুলারের অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই শিথিলতা বাণিজ্য অর্থায়নে গতি আনতে সহায়ক হবে এবং বড় শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর অর্থায়ন সক্ষমতা বাড়াবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণসীমা শিথিলতা
বাংলাদেশ ব্যাংক একক ঋণগ্রহীতা ও বড় ঋণের সীমা শিথিল করে বাণিজ্য অর্থায়নে নতুন সুযোগ তৈরি করেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















