ফিলিপাইনে মোতায়েন করা যুক্তরাষ্ট্রের টাইফন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে প্রথমবারের মতো টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে দক্ষিণ চীন সাগরে সাম্প্রতিক বছরের “সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উসকানি” হিসেবে দেখছে চীন। বেইজিংয়ের সামরিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে এবং এর জবাবে চীনের আকাশ প্রতিরক্ষা ও গোপন হামলা সক্ষম ড্রোন শক্তিশালী করা উচিত।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ফিলিপাইনের যৌথ সামরিক মহড়া চলাকালে টাইফন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা থেকে একটি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। এটি ছিল ফিলিপাইনে মোতায়েনের পর প্রথম সরাসরি উৎক্ষেপণ। এর আগে ২০২৪ সালে ব্যবস্থা মোতায়েনের পর সেনারা কেবল উষ্ণমণ্ডলীয় পরিবেশে এটি স্থানান্তর ও পরিচালনার অনুশীলন করেছিল, তবে কোনো সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ হয়নি।
কেন ক্ষুব্ধ চীন
চীনের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, ফিলিপাইনের লুজন দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের টাইফন ব্যবস্থা মোতায়েন আঞ্চলিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। লকহিড মার্টিন নির্মিত এই ভূমিভিত্তিক উল্লম্ব উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা থেকে টমাহক ও এসএম-৬ ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া যায়। এসব ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৫০০ থেকে ২ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হওয়ায় চীনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলও এর আওতায় চলে আসে।
চীনা সামরিক ভাষ্যকার ওয়েই দংসু এই উৎক্ষেপণকে দক্ষিণ চীন সাগর এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের “বছরের সবচেয়ে গুরুতর সামরিক উসকানি” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এটি শুধু মহড়ার অংশ নয়, বরং চীনের বিরুদ্ধে কৌশলগত বার্তা।

তাইওয়ান প্রণালিকে লক্ষ্যবস্তু?
সামরিক বিশ্লেষক ও চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির সাবেক প্রশিক্ষক সং ঝোংপিং দাবি করেছেন, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রটি লুজন দ্বীপ থেকে উত্তরমুখী পথে ছোড়া হয় এবং এর লক্ষ্য ছিল তাইওয়ান প্রণালির দিক। তাঁর মতে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা ওই অঞ্চলে সামরিক চাপ আরও বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
চীনের দৃষ্টিতে তাইওয়ান ইস্যু অত্যন্ত স্পর্শকাতর। বেইজিং বরাবরই বলে আসছে, তাইওয়ান তাদের অংশ এবং সেখানে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি বা কৌশলগত চাপ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ফলে ফিলিপাইনে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোকে শুধু দক্ষিণ চীন সাগর নয়, বরং তাইওয়ান কেন্দ্রিক বৃহত্তর প্রতিরক্ষা কৌশলের অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা বাড়ার শঙ্কা
দক্ষিণ চীন সাগর দীর্ঘদিন ধরেই চীন, ফিলিপাইন ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশের মধ্যে বিরোধপূর্ণ এলাকা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ছে। ওয়াশিংটন বলছে, এটি মিত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষার অংশ। তবে বেইজিংয়ের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ইচ্ছাকৃতভাবে সামরিক উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, টাইফন ব্যবস্থা থেকে সরাসরি টমাহক উৎক্ষেপণ ভবিষ্যতে অঞ্চলজুড়ে আরও প্রতিরক্ষা প্রতিযোগিতা সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে চীন পাল্টা সামরিক সক্ষমতা বাড়ালে দক্ষিণ চীন সাগর ও তাইওয়ান ঘিরে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেতে পারে।
দক্ষিণ চীন সাগরে টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকে বড় সামরিক উসকানি বলছে চীন। যুক্তরাষ্ট্র-ফিলিপাইন মহড়ার এই পদক্ষেপে বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা।
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের টমাহক উৎক্ষেপণ
ফিলিপাইনে টাইফন ক্ষেপণাস্ত্র, দক্ষিণ চীন সাগরে নতুন উত্তেজনা
দক্ষিণ চীন সাগরে টমাহক পরীক্ষা নিয়ে চীনের কড়া প্রতিক্রিয়া
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















