০৯:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’ বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্পকে শি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ফুটবল খেলতে গিয়ে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রের মৃত্যু গ্রামীণ সেতু নির্মাণে সুকুক বন্ডে রেকর্ড সাড়া, চাহিদা ছাড়াল ১২ গুণ হিমালয় ঘিরে বাড়ছে মৌসুমি দুর্যোগ, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশ

চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৌড়ে বিপুল বিনিয়োগে আলিবাবা-টেনসেন্ট

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দৌড়ে আরও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা ও টেনসেন্ট। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও আয়ের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও দুই প্রতিষ্ঠানই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল মূলধন ব্যয়ের পথে হাঁটছে। তাদের বিশ্বাস, দেশীয়ভাবে তৈরি উন্নত চিপ উৎপাদন বাড়লে বর্তমান সরবরাহ সংকট কাটিয়ে নতুন গতি পাবে চীনের প্রযুক্তি খাত।

বুধবার বিশ্লেষকদের সঙ্গে বৈঠকে আলিবাবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এডি উ ইয়ংমিং জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে আগামী তিন বছরে ৩৮০ বিলিয়ন ইউয়ান ব্যয়ের যে লক্ষ্য ছিল, তা ছাড়িয়ে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। মার্চ প্রান্তিকে আলিবাবার মূলধন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ বিলিয়ন ইউয়ান। যদিও আগের প্রান্তিকে এই ব্যয় ছিল ২৯ বিলিয়ন ইউয়ান।

অন্যদিকে টেনসেন্টের প্রথম প্রান্তিকের মূলধন ব্যয় ৩১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কৌশল কর্মকর্তা জেমস মিচেল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। বিশেষ করে দেশীয়ভাবে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ সহজলভ্য হওয়ায় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চিপ সংকটের মধ্যেও বড় পরিকল্পনা

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলিবাবার প্রধান নির্বাহী বলেন, তাদের সেবায় ব্যবহৃত প্রতিটি চিপই এখন পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্লাউড ব্যবসার সম্প্রসারণ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে টেনসেন্ট আপাতত নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে তাদের নিজস্ব ভাষা মডেল ও গেমিং সেবার জন্য চিপ ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশীয় উৎপাদন বাড়লে বাইরের ক্লাউড গ্রাহকদের জন্যও সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে হুয়াওয়ের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসেসর সংগ্রহ শুরু করেছে। এপ্রিল মাসে ব্যাপক উৎপাদনে যাওয়া এই চিপকে চীনের প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আলিবাবা নিজেদের তৈরি গ্রাফিক্স প্রসেসর উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই নতুন চিপ ভবিষ্যতে মুনাফা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

How China's AI race is transforming Alibaba's business model | News.az

বিনিয়োগের চাপ, তবু আশাবাদ

বিপুল বিনিয়োগের কারণে আর্থিক চাপও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের প্রভাবে আলিবাবার সমন্বিত পরিচালন মুনাফা বছরে ৮৪ শতাংশ কমেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্যের আয় দ্রুত বাড়ছে এবং এই খাত থেকে ইতোমধ্যে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

টেনসেন্টও জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির কারণে তাদের বিপণন সেবার আয় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি মুনাফার আশায় এখনই বড় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

চীনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে

শুধু আলিবাবা বা টেনসেন্ট নয়, বাইটড্যান্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এখন ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বাইটড্যান্স তাদের মূলধন ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যার বড় অংশ দেশীয় চিপ খাতে ব্যয় হবে।

তবে চীনের এই বিনিয়োগ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম। গত বছর চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ইউয়ান ব্যয় করলেও যুক্তরাষ্ট্রের গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার বার্ষিক বিনিয়োগ তার চেয়ে অনেক বেশি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বর্তমানে চীন সফর করছেন। চীনা গ্রাহকদের কাছে উন্নতমানের এইচ২০০ চিপ বিক্রির অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আলিবাবা ও টেনসেন্ট আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

চীনের প্রযুক্তি খাত এখন স্পষ্টভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক নতুন প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করেছে। দেশীয় চিপ উৎপাদন বাড়লে এই প্রতিযোগিতা আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি

চীনা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দৌড়ে বিপুল বিনিয়োগে আলিবাবা-টেনসেন্ট

০৭:২০:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রযুক্তির দৌড়ে আরও বড় বিনিয়োগের ঘোষণা দিয়েছে চীনের প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা ও টেনসেন্ট। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ ও আয়ের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হলেও দুই প্রতিষ্ঠানই এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল মূলধন ব্যয়ের পথে হাঁটছে। তাদের বিশ্বাস, দেশীয়ভাবে তৈরি উন্নত চিপ উৎপাদন বাড়লে বর্তমান সরবরাহ সংকট কাটিয়ে নতুন গতি পাবে চীনের প্রযুক্তি খাত।

বুধবার বিশ্লেষকদের সঙ্গে বৈঠকে আলিবাবার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এডি উ ইয়ংমিং জানান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তথ্যকেন্দ্র নির্মাণে আগামী তিন বছরে ৩৮০ বিলিয়ন ইউয়ান ব্যয়ের যে লক্ষ্য ছিল, তা ছাড়িয়ে যেতে পারে প্রতিষ্ঠানটি। মার্চ প্রান্তিকে আলিবাবার মূলধন ব্যয় দাঁড়িয়েছে ২৭ বিলিয়ন ইউয়ান। যদিও আগের প্রান্তিকে এই ব্যয় ছিল ২৯ বিলিয়ন ইউয়ান।

অন্যদিকে টেনসেন্টের প্রথম প্রান্তিকের মূলধন ব্যয় ৩১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ইউয়ানে পৌঁছেছে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কৌশল কর্মকর্তা জেমস মিচেল জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে এই ব্যয় আরও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। বিশেষ করে দেশীয়ভাবে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ সহজলভ্য হওয়ায় নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

চিপ সংকটের মধ্যেও বড় পরিকল্পনা

বর্তমানে বৈশ্বিক বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চিপ সংকট বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আলিবাবার প্রধান নির্বাহী বলেন, তাদের সেবায় ব্যবহৃত প্রতিটি চিপই এখন পূর্ণ সক্ষমতায় ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় ক্লাউড ব্যবসার সম্প্রসারণ সীমিত হয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতিতে টেনসেন্ট আপাতত নিজেদের অভ্যন্তরীণ চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিশেষ করে তাদের নিজস্ব ভাষা মডেল ও গেমিং সেবার জন্য চিপ ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। তবে দেশীয় উৎপাদন বাড়লে বাইরের ক্লাউড গ্রাহকদের জন্যও সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

চীনের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে হুয়াওয়ের নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রসেসর সংগ্রহ শুরু করেছে। এপ্রিল মাসে ব্যাপক উৎপাদনে যাওয়া এই চিপকে চীনের প্রযুক্তি খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে আলিবাবা নিজেদের তৈরি গ্রাফিক্স প্রসেসর উৎপাদনও বাড়াচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই নতুন চিপ ভবিষ্যতে মুনাফা বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখবে।

How China's AI race is transforming Alibaba's business model | News.az

বিনিয়োগের চাপ, তবু আশাবাদ

বিপুল বিনিয়োগের কারণে আর্থিক চাপও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। ভারী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিনিয়োগের প্রভাবে আলিবাবার সমন্বিত পরিচালন মুনাফা বছরে ৮৪ শতাংশ কমেছে। তবে প্রতিষ্ঠানটি বলছে, তাদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্যের আয় দ্রুত বাড়ছে এবং এই খাত থেকে ইতোমধ্যে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।

টেনসেন্টও জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিজ্ঞাপন প্রযুক্তির কারণে তাদের বিপণন সেবার আয় ২০ শতাংশ বেড়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি মুনাফার আশায় এখনই বড় বিনিয়োগ করতে প্রস্তুত।

চীনের প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হচ্ছে

শুধু আলিবাবা বা টেনসেন্ট নয়, বাইটড্যান্সসহ অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানও এখন ব্যাপক বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। বাইটড্যান্স তাদের মূলধন ব্যয় ২০০ বিলিয়ন ইউয়ানের বেশি করার পরিকল্পনা নিয়েছে, যার বড় অংশ দেশীয় চিপ খাতে ব্যয় হবে।

তবে চীনের এই বিনিয়োগ এখনও যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তুলনায় অনেক কম। গত বছর চীনের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সম্মিলিতভাবে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ইউয়ান ব্যয় করলেও যুক্তরাষ্ট্রের গুগল, মাইক্রোসফট ও মেটার বার্ষিক বিনিয়োগ তার চেয়ে অনেক বেশি।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের চিপ নির্মাতা এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং বর্তমানে চীন সফর করছেন। চীনা গ্রাহকদের কাছে উন্নতমানের এইচ২০০ চিপ বিক্রির অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে আলিবাবা ও টেনসেন্ট আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

চীনের প্রযুক্তি খাত এখন স্পষ্টভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকেন্দ্রিক নতুন প্রতিযোগিতায় প্রবেশ করেছে। দেশীয় চিপ উৎপাদন বাড়লে এই প্রতিযোগিতা আরও দ্রুত গতিতে এগোবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।