০৯:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনীতির নতুন প্রতিযোগিতা: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতার মধ্যস্থতাকারী কে? বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন শিথিলতা: বাণিজ্য অর্থায়নে বাড়ল ঋণসীমা কেরালার নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ভি ডি সতীশন, ১৮ মে শপথের সম্ভাবনা পাকিস্তানের নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাতাহ-৪’ সফল পরীক্ষা, পাল্লা ও নিখুঁত আঘাতের সক্ষমতার দাবি বেইজিং বৈঠকে ইরান ইস্যু, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ বন্ধে ব্রিকসের জোরালো অবস্থান চাইল তেহরান মিয়ানমার নিয়ে বর্ণনার লড়াই: রাষ্ট্র, বৈধতা ও সংবাদমাধ্যমের দায় এল নিনোর শঙ্কায় ফের গম কেনায় ঝুঁকছে এশিয়া, বাড়ছে বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের আশঙ্কা চীনের সস্তা চিপের চাপে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর স্বপ্ন, টাটার নতুন ফ্যাবের সামনে কঠিন লড়াই অভিনেত্রী নীনা ওয়াদিয়া: ‘আমাদের বাড়ির সব দেয়াল ছিল হলুদ, যেন একটা লেবু’

বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্পকে শি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন শি।

নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক, যা শুধু দুই দেশের জনগণের নয়, পুরো বিশ্বের ভবিষ্যতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, এই সম্পর্ককে সফলভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং কোনোভাবেই তা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

সহযোগিতার আহ্বান

শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেন, সহযোগিতা থেকে দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। তার ভাষায়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে কাজ করা।

তিনি আরও জানান, দুই পক্ষ একটি “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার সম্পর্ক” গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শি বলেন, এ ধরনের সম্পর্ক বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায় যে পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতাই দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

তিনি উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সরাসরি দুই দেশের ১৭০ কোটির বেশি মানুষের জীবন ও স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের ৮০০ কোটির বেশি মানুষের স্বার্থকেও প্রভাবিত করে। তাই দুই দেশকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিয়ে সঠিক পথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য

নৈশভোজে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পও চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরনের বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ চীন সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের ‘সবচেয়ে বড় উসকানি’, টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণে ক্ষুব্ধ বেইজিং

বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্পকে শি

০৮:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন শি।

নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক, যা শুধু দুই দেশের জনগণের নয়, পুরো বিশ্বের ভবিষ্যতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, এই সম্পর্ককে সফলভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং কোনোভাবেই তা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

সহযোগিতার আহ্বান

শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেন, সহযোগিতা থেকে দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। তার ভাষায়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে কাজ করা।

তিনি আরও জানান, দুই পক্ষ একটি “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার সম্পর্ক” গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শি বলেন, এ ধরনের সম্পর্ক বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায় যে পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতাই দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

তিনি উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সরাসরি দুই দেশের ১৭০ কোটির বেশি মানুষের জীবন ও স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের ৮০০ কোটির বেশি মানুষের স্বার্থকেও প্রভাবিত করে। তাই দুই দেশকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিয়ে সঠিক পথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য

নৈশভোজে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পও চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরনের বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।