১২:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬
ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর জীবন সংকটে, ওল্ডহামের সার্জনকে চিকিৎসা পেশা থেকে বহিষ্কার চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে স্পেসএক্সের রকেট, তৈরি হতে পারে বিরল মহাজাগতিক দৃশ্য অ্যারন রজার্সের বিস্ফোরক অভিযোগ, ডায়ানা রুসিনি-মাইক ভ্রাবেল কাণ্ডে এনএফএল নীতির প্রশ্ন ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ, বাড়ছে উদ্বেগ ইবোলা আতঙ্কে হাসপাতালে যাচ্ছেন না গর্ভবতী নারীরা, কঙ্গোতে বাড়ছে মাতৃমৃত্যু গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার নিয়ে নতুন জটিলতা, স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় হামাস ট্রাম্প বলছেন আলোচনা চলছে, ইরানের দাবি—কোনো বৈঠকই হচ্ছে না বছরের পর বছর অপেক্ষার পর ফিরছে টিভি সিরিজ, দর্শকের ধৈর্যের পরীক্ষা অভিনয় থেকে গানে স্টর্ম রিডের নতুন পরিচয়, এবার সামনে আসছে তাঁর অন্য এক রূপ মুখ নয়, এবার হাত! তারুণ্য ধরে রাখতে নতুন সৌন্দর্য প্রবণতায় বাড়ছে হাতের যত্ন

বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্পকে শি

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন শি।

নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক, যা শুধু দুই দেশের জনগণের নয়, পুরো বিশ্বের ভবিষ্যতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, এই সম্পর্ককে সফলভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং কোনোভাবেই তা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

সহযোগিতার আহ্বান

শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেন, সহযোগিতা থেকে দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। তার ভাষায়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে কাজ করা।

তিনি আরও জানান, দুই পক্ষ একটি “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার সম্পর্ক” গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শি বলেন, এ ধরনের সম্পর্ক বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায় যে পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতাই দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

তিনি উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সরাসরি দুই দেশের ১৭০ কোটির বেশি মানুষের জীবন ও স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের ৮০০ কোটির বেশি মানুষের স্বার্থকেও প্রভাবিত করে। তাই দুই দেশকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিয়ে সঠিক পথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য

নৈশভোজে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পও চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরনের বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুল অস্ত্রোপচারে রোগীর জীবন সংকটে, ওল্ডহামের সার্জনকে চিকিৎসা পেশা থেকে বহিষ্কার

বিশ্বের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ: ট্রাম্পকে শি

০৮:৩৬:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানিয়ে এক নৈশভোজের আয়োজন করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক হিসেবে উল্লেখ করেন শি।

নৈশভোজে বক্তব্য দিতে গিয়ে শি জিনপিং বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক এমন একটি সম্পর্ক, যা শুধু দুই দেশের জনগণের নয়, পুরো বিশ্বের ভবিষ্যতের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। তিনি বলেন, এই সম্পর্ককে সফলভাবে এগিয়ে নিতে হবে এবং কোনোভাবেই তা ক্ষতিগ্রস্ত করা যাবে না।

সহযোগিতার আহ্বান

শি জিনপিং স্পষ্টভাবে বলেন, সহযোগিতা থেকে দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাত উভয়ের জন্যই ক্ষতির কারণ হবে। তার ভাষায়, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং অংশীদার হিসেবে কাজ করা।

তিনি আরও জানান, দুই পক্ষ একটি “গঠনমূলক কৌশলগত স্থিতিশীলতার সম্পর্ক” গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছে। এর মাধ্যমে চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে স্থিতিশীল, সুস্থ ও টেকসই পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শি বলেন, এ ধরনের সম্পর্ক বিশ্বে শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান

চীনা প্রেসিডেন্ট বলেন, অতীতের অভিজ্ঞতা দেখায় যে পারস্পরিক সম্মান, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতাই দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীলভাবে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি।

তিনি উল্লেখ করেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক সরাসরি দুই দেশের ১৭০ কোটির বেশি মানুষের জীবন ও স্বার্থের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের ৮০০ কোটির বেশি মানুষের স্বার্থকেও প্রভাবিত করে। তাই দুই দেশকে ঐতিহাসিক দায়িত্ব নিয়ে সঠিক পথে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ট্রাম্পের ইতিবাচক মন্তব্য

নৈশভোজে বক্তব্য দেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও। তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে ইতিবাচক ও গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।

ট্রাম্পও চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আরও ভালো ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা জোরদার করা প্রয়োজন।

বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্ব

বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাণিজ্য, প্রযুক্তি, নিরাপত্তা ও ভূরাজনৈতিক নানা ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের এই ধরনের বার্তা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। বিশেষ করে কৌশলগত স্থিতিশীলতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়া বিশ্ব অর্থনীতি ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক ভারসাম্যের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।