চট্টগ্রামের রাউজান যেন বৃহস্পতিবার পরিণত হয়েছিল এক শোকের জনপদে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের দ্বিতীয় জানাজাকে ঘিরে সকাল থেকেই ভিড় জমাতে থাকেন হাজারো মানুষ। নিজের জন্মভূমি রাউজানে প্রিয় নেতাকে শেষবারের মতো দেখতে আসেন দলীয় নেতাকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
জানাজাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ছিল আবেগঘন পরিবেশ। কেউ ফুল হাতে, কেউ চোখের জল মুছতে মুছতে ছুটে আসেন দীর্ঘদিনের পরিচিত এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে। স্থানীয় মানুষের অনেকেই বলছিলেন, রাউজানের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফের নাম বহু বছর ধরেই জড়িয়ে ছিল।
দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় রাউজানের নিজ এলাকায়, যেখানে তাকে ঘিরে মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। জানাজায় অংশ নিতে দূরদূরান্ত থেকেও নেতাকর্মীরা আসেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন সেখানে।

জানাজা শেষে অনেকেই স্মৃতিচারণ করেন তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এবং দলীয় রাজনীতিতে তার প্রভাব নিয়ে। স্থানীয়দের ভাষায়, তিনি শুধু একজন রাজনীতিক ছিলেন না, বরং রাউজানের মানুষের কাছে ছিলেন পরিচিত ও প্রভাবশালী অভিভাবকের মতো একটি মুখ।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। একইসঙ্গে চট্টগ্রাম অঞ্চলের রাজনীতিতেও তার প্রভাব ছিল সুস্পষ্ট।
রাউজানের দ্বিতীয় জানাজা ঘিরে মানুষের অংশগ্রহণ আর আবেগ যেন সেটিই মনে করিয়ে দিল—নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক ছিল শুধু রাজনৈতিক নয়, ছিল গভীর ব্যক্তিগত বন্ধনেরও।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















