কিউবার জ্বালানি সংকট আরও গভীর আকার নিতে যাচ্ছে। দেশটির জ্বালানি ও খনি মন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার দেওয়া তেলের মজুত শেষ হয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটপূর্ণ। এর ফলে রাজধানী হাভানাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা দেখা দিচ্ছে।
সরকারি টেলিভিশনে দেওয়া এক বিশেষ বক্তব্যে কিউবার জ্বালানি মন্ত্রী ভিসেন্তে দে লা ও লেভি জানান, মার্চের শেষদিকে রাশিয়া থেকে পাওয়া তেলের চালান ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। সামনে গরমের তীব্রতা বাড়ায় বিদ্যুতের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে, যা সংকটকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিদ্যুৎ সংকটে জনজীবন অচল
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে যে অনেক এলাকায় দিনে ২০ থেকে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। হাভানায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
অনেক মানুষ মোবাইল ফোন চার্জ দিতে পারছেন না। বৈদ্যুতিক মোটরসাইকেল চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেকে মাঝরাতে অল্প সময়ের জন্য বিদ্যুৎ এলে তখন কাপড় ধোয়া বা রান্নার মতো জরুরি কাজ সেরে নিচ্ছেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট বিক্ষোভও দেখা গেছে। রাতে মানুষ রাস্তায় নেমে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের প্রতিবাদ জানাচ্ছেন।
তেলের মজুত প্রায় শূন্য
কিউবার জ্বালানি মন্ত্রী স্পষ্টভাবে বলেছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র চালানোর মতো ডিজেলের মজুত এখন কার্যত নেই বললেই চলে। তার ভাষায়, দেশের হাতে “একেবারেই কোনো ডিজেল নেই”।
কিউবার দীর্ঘদিনের মিত্র ভেনেজুয়েলা থেকেও এখন পর্যাপ্ত জ্বালানি আসছে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও নিষেধাজ্ঞার কারণে গত চার মাসের বেশি সময় ধরে দেশটি নতুন কোনো তেলের চালান পায়নি বলে জানিয়েছে কিউবা সরকার।

চীনের সৌরবিদ্যুৎও যথেষ্ট নয়
সংকট মোকাবিলায় চীনের সহায়তায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাড়ানোর চেষ্টা করছে কিউবা। তবে আবহাওয়া ও মেঘের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্থিতিশীল থাকছে না।
এছাড়া উৎপাদিত বিদ্যুৎ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাটারির অভাব রয়েছে। ফলে রাতের সময় বিদ্যুতের চাহিদা বাড়লেও সৌরবিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না।
যুক্তরাষ্ট্র-কিউবা উত্তেজনা বাড়ছে
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কিউবার সম্পর্কও নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ওয়াশিংটন কিউবার ওপর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে। কিউবার সরকারকে রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়ে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে কিউবা সরকার এসব চাপকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র কিউবাকে সহায়তার জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেই সহায়তার সঙ্গে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কারের শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















