যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন করে গতি পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। বৃহস্পতিবার সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, চীনের পক্ষ থেকে “বড় ধরনের বোয়িং অর্ডার” আসতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতি একটি নতুন যৌথ বাণিজ্য বোর্ড গঠনের বিষয়েও আলোচনা করছে।
বেসেন্টের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বেইজিং সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক সমঝোতার আলোচনা জোরদার হয়েছে। সম্ভাব্য বোয়িং চুক্তিকে এই সফরের একটি গুরুত্বপূর্ণ “ডেলিভারেবল” হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রায় এক দশকের অচলাবস্থা কাটার সম্ভাবনা
যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং নিয়ন্ত্রক জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বোয়িংয়ের বড় কোনো চুক্তি হয়নি। প্রায় এক দশক ধরে দুই দেশের বিমান বাণিজ্যে স্থবিরতা চলছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন অর্ডারের সম্ভাবনা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অঙ্গনে বড় ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তবে তা শুধু বোয়িংয়ের জন্যই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্র-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন বার্তা দেবে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও বাণিজ্যিক আস্থার ক্ষেত্রে এর প্রভাব পড়তে পারে।
২০১৭ সালের নজির
ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম চীন সফরের সময়ও বড় ধরনের বোয়িং চুক্তির ঘোষণা এসেছিল। ২০১৭ সালে ট্রাম্পের রাষ্ট্রীয় সফরের সময় প্রায় ৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ৩০০ উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। নতুন সম্ভাব্য চুক্তিকে সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
বাণিজ্য বোর্ড গঠনের আলোচনা
স্কট বেসেন্ট আরও জানান, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র একটি নতুন যৌথ বাণিজ্য বোর্ড গঠনের বিষয়ে আলোচনা করছে। এই বোর্ড মূলত অ-কৌশলগত এবং অ-সংবেদনশীল খাতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক তদারকিতে কাজ করবে।
তিনি উদাহরণ হিসেবে আতশবাজির কথা উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, এমন কিছু ভোক্তা পণ্য রয়েছে যেগুলো যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় উৎপাদনের পরিকল্পনা নেই। এসব খাতে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতেই নতুন বোর্ডের ধারণা সামনে এসেছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্কের নতুন বার্তা
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তি, শুল্ক, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা ঘিরে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক উত্তপ্ত ছিল। তবে সাম্প্রতিক আলোচনাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দুই দেশ অন্তত কিছু বাণিজ্যিক খাতে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথ খুঁজছে।
বিশেষ করে বেসামরিক বিমান, ভোক্তা পণ্য এবং অ-কৌশলগত শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ বৈশ্বিক বাজারেও ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















