এক সময় মুখের ত্বকই ছিল সৌন্দর্যচর্চার প্রধান কেন্দ্র। পরে সেই তালিকায় যোগ হয় ঘাড়, বুক ও চোখের চারপাশ। এখন সৌন্দর্যবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠছে হাত। অনেকেই লক্ষ্য করছেন, মুখের তুলনায় হাতে বয়সের ছাপ দ্রুত স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর সেই কারণেই বিশ্বজুড়ে বাড়ছে হাতকে তরুণ দেখানোর নানা প্রসাধনী ও চিকিৎসার চাহিদা।
কেন হাতে আগে বয়সের ছাপ পড়ে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত সারাদিন সূর্যের আলো, পানি, সাবান, রাসায়নিক পদার্থ এবং বিভিন্ন ধরনের স্পর্শের মধ্যে থাকে। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ত্বক পাতলা হয়ে যায়, চর্বির স্তর কমে আসে, শিরা ও হাড় স্পষ্ট দেখা যায়, বলিরেখা তৈরি হয় এবং অনেকের হাতে কালচে দাগও দেখা দেয়।
অনেক নারী জানান, মুখের যত্ন নেওয়ার পর যখন আয়নায় বা গাড়ি চালানোর সময় নিজের হাতের দিকে তাকান, তখনই মুখ ও হাতের বয়সের পার্থক্য চোখে পড়ে। সেখান থেকেই শুরু হয় হাতের যত্ন নেওয়ার আগ্রহ।
মুখ থেকে শুরু, তারপর হাত

সৌন্দর্য বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, বেশিরভাগ মানুষ প্রথমে মুখে বোটক্স বা ফিলার ব্যবহার করেন। এরপর যখন মুখ অনেকটা তরুণ দেখায়, তখন ঘাড়, বুক এবং শেষ পর্যন্ত হাতের সঙ্গে সেই পরিবর্তনের অমিল স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তখন অনেকেই হাতের জন্যও বিশেষ চিকিৎসা নিতে আগ্রহী হন।
হাতের ত্বকে হারিয়ে যাওয়া ভর ফিরিয়ে আনতে বর্তমানে ত্বক-পুষ্টিকারক ইনজেকশন, হায়ালুরোনিক অ্যাসিডভিত্তিক চিকিৎসা, ক্যালসিয়ামভিত্তিক ফিলার, মাইক্রোনিডলিংসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই দ্রুত ফল দেখা যায় বলে দাবি করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব
ত্বকের যত্ন নিয়ে কাজ করা অনেক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাতের যত্ন নিয়ে ভিডিও প্রকাশের পর মানুষের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। আগে যাঁরা এ বিষয়ে ভাবতেন না, তাঁরাও ভিডিও দেখে নিজের হাতের দিকে নতুন করে নজর দিচ্ছেন।
বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের মধ্যে হাতের বলিরেখা, শুষ্কতা ও ত্বকের পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্নের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকেই জানতে চাইছেন, কীভাবে হাতকে আরও কোমল ও সতেজ রাখা যায়।
চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা
মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের যত্ন নেওয়া ইতিবাচক বিষয় হলেও অতিরিক্ত তারুণ্য ধরে রাখার প্রতিযোগিতা মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে। উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বাহ্যিক পরিবর্তন সম্ভব হলেও তা সব সময় মানুষের দীর্ঘমেয়াদি সুখ বা আত্মতৃপ্তি নিশ্চিত করে না।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন ধারণা তৈরি হতে পারে যে সৌন্দর্যবর্ধক চিকিৎসাই মানুষের মূল্য নির্ধারণ করে। এতে ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে সামাজিক চাপই বড় হয়ে ওঠার ঝুঁকি থাকে।
সৌন্দর্যের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, সৌন্দর্যের মানদণ্ড সময়ের সঙ্গে বদলায়। আগে যেসব অঙ্গ নিয়ে খুব বেশি আলোচনা হতো না, এখন প্রসাধনী শিল্প সেগুলোকেও গুরুত্ব দিচ্ছে। তাই হাতের যত্ন নিয়ে বর্তমানের এই আগ্রহকে শুধু অহংকার বা বাড়তি সৌন্দর্যচর্চা হিসেবে দেখলে ভুল হবে; বরং এটি সৌন্দর্য সম্পর্কে মানুষের ধারণার পরিবর্তনেরই একটি প্রতিফলন।
এরপর কোন অঙ্গ?
সৌন্দর্যবিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভবিষ্যতে হাতের পর হাঁটু কিংবা পায়ের যত্ন নিয়েও একই ধরনের প্রবণতা দেখা যেতে পারে। ওজন কমার পর হাঁটুর ত্বকে পরিবর্তন এবং পায়ের সৌন্দর্য নিয়েও ইতিমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। ফলে অ্যান্টি-এজিং শিল্পের পরবর্তী লক্ষ্য কোন অঙ্গ হবে, তা নিয়ে জল্পনাও বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















