গাজা যুদ্ধ বন্ধের জন্য প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত ‘শান্তি বোর্ড’-এর বক্তব্যে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হামাসের অস্ত্র সমর্পণের বিষয়টি কীভাবে এগোবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে হামাস। সংগঠনটি বলেছে, শান্তি বোর্ডের সাম্প্রতিক বক্তব্যে শুধু হামাসের অস্ত্র নিয়েই জোর দেওয়া হয়েছে, কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়নি।
হামাস মঙ্গলবার শান্তি বোর্ডের কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে। সংগঠনটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, বোমা হামলা বন্ধ এবং যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো নিয়ে পরিষ্কার অবস্থান জানতে চায় তারা।
অস্ত্র সমর্পণ ও সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধ
গাজা শান্তি পরিকল্পনার একটি রূপরেখায় বলা হয়েছিল, হামাস ধাপে ধাপে অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করবে এবং এর সঙ্গে সমন্বয় রেখে ইসরায়েলি বাহিনী গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সরে যাবে।
তবে ইসরায়েল শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, হামাসের সম্পূর্ণ ও যাচাইযোগ্য নিরস্ত্রীকরণ না হওয়া পর্যন্ত সেনা প্রত্যাহার শুরু করা হবে না।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর শান্তি বোর্ডের পক্ষ থেকে বলা হয়, হামাসের অস্ত্র পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় হওয়ার পরই গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বর্তমান অবস্থান থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে।
এই বক্তব্যের পর হামাসের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়।

হামাসের অভিযোগ, একপেশে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে
হামাসের এক কর্মকর্তা বলেন, শান্তি বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভের বক্তব্যে শুধু অস্ত্রের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। কিন্তু গাজায় ইসরায়েলের হামলা বন্ধ, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা এবং সামরিক অভিযান বন্ধের প্রতিশ্রুতির বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিমান হামলা, গোলাবর্ষণ, গুলি চালানো এবং সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়গুলোও শান্তি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়া উচিত।
হামাস জানিয়েছে, তারা শান্তি বোর্ডের কাছ থেকে একটি পরিষ্কার ও আনুষ্ঠানিক উত্তর আশা করছে—বিশেষ করে চুক্তির শর্ত, গাজায় চলমান ইসরায়েলি সামরিক তৎপরতা এবং শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিলম্বের বিষয়ে।
মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর ক্ষোভ
গাজায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, মিসর ও তুরস্ক নতুন করে ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করেছে।
কাতার অভিযোগ করেছে, গাজা শান্তি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে স্পষ্ট—কে চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, গাজায় সাম্প্রতিক হামলার বৃদ্ধি শান্তি পরিকল্পনা ব্যাহত করার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ বন্ধ করার উদ্যোগ।
শান্তি পরিকল্পনার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা
শান্তি বোর্ডের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানানো হয়েছিল, হামাসের অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই ইসরায়েল ‘হলুদ সীমারেখা’র বাইরে সেনা সরিয়ে নেবে।
তবে এর আগে ম্লাদেনভ বলেছিলেন, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও হামাসের অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার প্রক্রিয়া একই সময়ে এগোতে হবে। এই দুই বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য দেখা দেওয়ায় শান্তি আলোচনার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে—নিরাপত্তা, অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ এবং সেনা প্রত্যাহারের ক্রম নির্ধারণ। উভয় পক্ষ নিজেদের অবস্থানে অনড় থাকলে শান্তি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















