যুক্তরাষ্ট্রের উটাহ অঙ্গরাজ্যে স্বামীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগে আলোচিত লেখক কৌরি রিচিন্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানদের শোক কাটাতে শিশুতোষ বই লিখে আলোচনায় আসা এই নারী শেষ পর্যন্ত আদালতে দোষী সাব্যস্ত হন।
আদালতের রায় অনুযায়ী, কৌরি রিচিন্স আর কখনও প্যারোলে মুক্তি পাবেন না। বিচারক রিচার্ড ম্রাজিক বলেন, এমন অপরাধে দোষী একজন মানুষ সমাজের জন্য স্থায়ী হুমকি হতে পারে।
স্বামীর মৃত্যুর পর বই লিখে আলোচনায়
২০২২ সালের মার্চে উটাহর কামাস শহরের নিজ বাড়িতে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় এরিক রিচিন্সকে। পরে ময়নাতদন্তে জানা যায়, অতিরিক্ত ফেন্টানিলের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। তদন্তকারীরা অভিযোগ করেন, কৌরি রিচিন্সই স্বামীর পানীয়তে মাদক মিশিয়ে তাকে হত্যা করেন।
স্বামীর মৃত্যুর এক বছর পর কৌরি শিশুদের জন্য একটি বই প্রকাশ করেন। বইটিতে বাবার মৃত্যু এবং শোক সামলানোর বিষয় তুলে ধরা হয়েছিল। সেই বই প্রচারের সময় তিনি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারেও অংশ নেন। তবে তদন্ত এগোতে থাকলে সন্দেহের তীর তার দিকেই ঘুরে যায়।
আদালতে সন্তানদের আবেগঘন বক্তব্য
দীর্ঘ শুনানিতে নিহত এরিক রিচিন্সের পরিবারের সদস্যরা আদালতে আবেগঘন বক্তব্য দেন। দম্পতির সন্তানদের বক্তব্যও পড়ে শোনানো হয়। তারা জানায়, মা কখনও মুক্তি পেলে তারা নিজেদের নিরাপদ মনে করবে না।
এরিকের বোন আদালতকে বলেন, পরিবারের নিরাপত্তার জন্য কৌরিকে আজীবন কারাগারে রাখা জরুরি।
অন্যদিকে কৌরির আইনজীবীরা কম সাজা চেয়ে দাবি করেন, ভবিষ্যতে সন্তানরা হয়তো মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাইতে পারে। কিন্তু আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করেনি।
হত্যার পেছনে অর্থনৈতিক সংকট ও সম্পর্কের অভিযোগ
মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, কৌরি রিচিন্স বড় ধরনের ঋণে ডুবে ছিলেন এবং বৈবাহিক সম্পর্কেও অস্থিরতা ছিল। আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, স্বামীর নামে প্রায় ২২ লাখ ডলারের জীবনবিমা ছিল।
তদন্তে আরও উঠে আসে, কৌরির অন্য একজনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এবং তিনি স্বামীকে নিয়ে অসন্তুষ্ট ছিলেন। প্রসিকিউটররা বলেন, আর্থিক সুবিধা ও ব্যক্তিগত সম্পর্কের কারণেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয়।
মোবাইল ফোনের তথ্য ও সাক্ষ্য
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী ছিলেন এক গৃহপরিচারিকা, যিনি দাবি করেন তিনি কৌরিকে একাধিকবার অবৈধ মাদক সরবরাহ করেছিলেন। তদন্তকারীরা মোবাইল ফোনের তথ্যও আদালতে উপস্থাপন করেন।
ফোনে পাওয়া কিছু অনুসন্ধানে ফেন্টানিলের প্রাণঘাতী মাত্রা, বিষপ্রয়োগে মৃত্যু হলে সনদে কী লেখা হয় এবং নারীদের কারাগার নিয়ে খোঁজ করার তথ্যও উঠে আসে।
প্রসিকিউটরদের দাবি, এসব তথ্য কৌরির অপরাধবোধ এবং পরিকল্পনার দিকেই ইঙ্গিত করে।
আপিলের প্রস্তুতি
রায় ঘোষণার পর কৌরি রিচিন্সের আইনজীবীরা জানান, তারা নতুন বিচারের আবেদন এবং আপিল করবেন। তবে আপাতত তাকে বাকি জীবন কারাগারেই কাটাতে হবে।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে স্বামীর মৃত্যুর পর শোক নিয়ে বই প্রকাশ এবং পরে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঘটনাকে ঘিরে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্বামী হত্যার মামলায় শিশুতোষ বইয়ের লেখক কৌরি রিচিন্সকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে উটাহ আদালত।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















