কেরালায় দীর্ঘ কয়েকদিনের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে ভি ডি সতীশানকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছে কংগ্রেস। দলটির কাছে এই সিদ্ধান্ত শুধু নেতৃত্ব পরিবর্তন নয়, বরং প্রজন্ম বদলের বার্তা এবং নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবেও দেখা হচ্ছে।
দশ বছর পর বিরোধী বেঞ্চ ছেড়ে ক্ষমতায় ফিরেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউনাইটেড ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউডিএফ)। ১৪০ সদস্যের কেরালা বিধানসভায় জোটটি ১০২টি আসন জিতে বড় জয় পেয়েছে। বিপরীতে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট (এলডিএফ) নেমে এসেছে ৩৫ আসনে।
নির্বাচনে বড় জয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন নিয়ে কংগ্রেসে শুরু হয় টানাপোড়েন। আলোচনায় উঠে আসে রমেশ চেন্নিথালা ও কে সি বেণুগোপালের নামও। দলীয় পর্যায়ে আঞ্চলিক ভারসাম্য, গোষ্ঠীগত সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে একাধিক দফা আলোচনা হয়।
শেষ পর্যন্ত কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে ও রাহুল গান্ধীর বৈঠকের পর সতীশানের নাম চূড়ান্ত হয়। পরে দীপা দাশমুন্সি, অজয় মাকেন ও মুকুল ওয়াসনিক আনুষ্ঠানিকভাবে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন।
৬১ বছর বয়সী সতীশান গত কয়েক বছরে কেরালায় কংগ্রেসের অন্যতম আক্রমণাত্মক ও দৃশ্যমান মুখ হিসেবে উঠে আসেন। বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে তিনি দুর্নীতি, প্রশাসনিক ব্যর্থতা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে বাম সরকারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে সরব ছিলেন।
এখন তাঁর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে দলীয় গোষ্ঠীগুলোকে একসঙ্গে রেখে সরকার পরিচালনা ও মন্ত্রিসভা গঠন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তুলনামূলক তরুণ ও জনসংযোগে দক্ষ নেতৃত্ব সামনে আনার কৌশলের অংশ হিসেবেই সতীশানকে বেছে নিয়েছে কংগ্রেস।
কেরালায় কংগ্রেসের নতুন যুগ, মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন সতীশান
দশ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে নতুন মুখে ভরসা কংগ্রেসের
সারাক্ষণ রিপোর্ট 

























