০৯:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬
৯ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা প্যারিসে তিন নারীকে ছুরিকাঘাত, ‘আল্লাহ আমাকে পাঠিয়েছেন’ দাবি; তবু সন্ত্রাসবাদ হিসেবে দেখছে না ফ্রান্স প্রবীণদের ভুলে যাচ্ছে সমাজ, বাড়ছে স্মৃতিভ্রংশের ভয়াবহ বোঝা খাবার নিয়ে ‘খেলা’! মৃত মাছকে আঘাত করে টুকরো টুকরো করছে ঘাতক তিমি ট্রান্সজেন্ডার ক্রীড়াবিদদের বিতর্কে আবারও আলোচনায় রেনে রিচার্ডস পাসওয়ার্ড না জেনেও এআইকে দিয়ে লগইন, বাড়ছে সুবিধার সঙ্গে নিরাপত্তা ঝুঁকি হাঙ্গেরি গ্রাঁ প্রিতে নরিসের দাপুটে জয়, মৌসুমে প্রথম ম্যাকলারেন জয়ের উচ্ছ্বাস মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের জন্য বড় পরীক্ষা, ১০০ দিন আগেই হাউস হারানোর শঙ্কা সঞ্চয়পত্রে আবারও ইতিবাচক ধারা, তিন মাসের পতন কাটিয়ে সরকারের নিট বিনিয়োগে ফিরল গতি ভারতে শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগে ‘তেলাপোকা’ আন্দোলনের জয়, আরও লড়াইয়ের ঘোষণা

কাঁচা মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে

টানা বৃষ্টি ও উৎপাদন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বাজারে কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছেন।

বাজারে দ্রুত বেড়েছে দাম

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ দিন আগেও একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও কলোনি বাজার এবং মগবাজারে দামের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। মগবাজার ও তেজগাঁও কলোনি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রায় ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি একসঙ্গে হওয়া কারওয়ান বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র এক মাস আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

কেন বাড়ছে দাম

ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান উৎপাদন এলাকায় মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মানিকগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া, খুলনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী থেকে সীমিত পরিমাণে মরিচ আসছে। অতিবৃষ্টিতে গাছের শিকড় পচে যাওয়া এবং মরিচের ফুল নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে।

মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, রাজধানীতে কেজি ২৮০ টাকা -

তার ভাষ্য, আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ ট্রাক কাঁচা মরিচ বাজারে আসত, এখন তা কমে আট ট্রাকে নেমে এসেছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি শুরু না হওয়াও বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া বা আমদানি পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

অন্যদিকে অনেক ভোক্তা এই মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন এবং অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য কাঁচা মরিচের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি পারিবারিক ব্যয়ে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীর বাজারে টানা বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচা মরিচের দাম পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ সংকট ও আমদানি বন্ধ থাকাকে কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

৯ ঘণ্টার মধ্যে খাবার খেলে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমতে পারে, বলছে নতুন গবেষণা

কাঁচা মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে

০৭:৩৬:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

টানা বৃষ্টি ও উৎপাদন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে রাজধানীর বাজারে কাঁচা মরিচের দাম হঠাৎ করেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে প্রতি কেজিতে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে দাম। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে অনেক ক্রেতার অভিযোগ, প্রাকৃতিক কারণের পাশাপাশি কিছু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানোর সুযোগ নিচ্ছেন।

বাজারে দ্রুত বেড়েছে দাম

সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ২৬০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাঁচ দিন আগেও একই পণ্য বিক্রি হয়েছে ২০০ থেকে ২৪০ টাকার মধ্যে।

কারওয়ান বাজার, তেজগাঁও কলোনি বাজার এবং মগবাজারে দামের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। মগবাজার ও তেজগাঁও কলোনি বাজারে কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রায় ৩০০ টাকা প্রতি কেজি। অন্যদিকে পাইকারি ও খুচরা বিক্রি একসঙ্গে হওয়া কারওয়ান বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মাত্র এক মাস আগেও কাঁচা মরিচের দাম ছিল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে।

কেন বাড়ছে দাম

ব্যবসায়ীদের দাবি, ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে দেশের প্রধান উৎপাদন এলাকায় মরিচের গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে পাইকারি বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

কারওয়ান বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মানিকগঞ্জসহ গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন এলাকা থেকে সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে কুষ্টিয়া, খুলনা, ঝিনাইদহ ও রাজশাহী থেকে সীমিত পরিমাণে মরিচ আসছে। অতিবৃষ্টিতে গাছের শিকড় পচে যাওয়া এবং মরিচের ফুল নষ্ট হওয়ায় উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমেছে।

মরিচের ঝাল এখন বাজারেও, রাজধানীতে কেজি ২৮০ টাকা -

তার ভাষ্য, আগে যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১০ ট্রাক কাঁচা মরিচ বাজারে আসত, এখন তা কমে আট ট্রাকে নেমে এসেছে। ফলে সরবরাহ ও চাহিদার মধ্যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে।

ভারত থেকে আমদানি শুরু না হওয়াও বাজারকে স্থিতিশীল হতে দিচ্ছে না বলে জানান ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া বা আমদানি পুনরায় শুরু না হওয়া পর্যন্ত দাম উচ্চ পর্যায়েই থাকতে পারে।

ক্রেতাদের ক্ষোভ

অন্যদিকে অনেক ভোক্তা এই মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, বর্ষাকালকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন এবং অতিরিক্ত মুনাফা আদায়ের চেষ্টা করছেন।

তাদের দাবি, বাজারে নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে এবং অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ও কারসাজির বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাড়তি দামের চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জন্য কাঁচা মরিচের এই নতুন মূল্যবৃদ্ধি পারিবারিক ব্যয়ে আরও চাপ সৃষ্টি করেছে।

রাজধানীর বাজারে টানা বৃষ্টির প্রভাবে কাঁচা মরিচের দাম পাঁচ দিনে কেজিতে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সরবরাহ সংকট ও আমদানি বন্ধ থাকাকে কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা।