কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া বা লেখা তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। মানুষের হয়ে ওয়েবসাইটে ঢুকে কেনাকাটা করা, তথ্য খোঁজা, বিনিয়োগ বিশ্লেষণ এমনকি বিভিন্ন অনলাইন কাজও করে দিতে পারছে এআই এজেন্ট। তবে এসব কাজের জন্য ব্যক্তিগত পাসওয়ার্ড ব্যবহারের বিষয়টি তৈরি করছে নতুন ধরনের নিরাপত্তা উদ্বেগ।
সম্প্রতি পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা সেবার একটি নতুন সুবিধার মাধ্যমে এআই এজেন্টকে পাসওয়ার্ড না জানিয়েই নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীকে প্রতিবার নিজের গোপন তথ্য সরাসরি এআইয়ের হাতে তুলে দিতে হয় না।
পাসওয়ার্ড না জানিয়েই প্রবেশের সুযোগ
নতুন ব্যবস্থায় এআই কোনো ওয়েবসাইটে লগইন করতে চাইলে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা ব্যবহারকারীর অনুমতি নেয়। ব্যবহারকারী আঙুলের ছাপের মতো জৈবিক পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যমে অনুমোদন দিলে সংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রয়োজনীয় তথ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে পূরণ হয়ে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআই মডেল সরাসরি পাসওয়ার্ড দেখতে পারে না। এমনকি লগইনের সময় পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা অন্য সংরক্ষিত গোপন তথ্যও সাময়িকভাবে আটকে রাখে।
একটি নির্দিষ্ট কাজের জন্য দেওয়া অনুমোদনও স্থায়ী নয়। পরে একই তথ্য আবার প্রয়োজন হলে এআইকে নতুন করে অনুমতি চাইতে হয়।
দৈনন্দিন কাজেও এআইয়ের ব্যবহার
এআই এজেন্ট দিয়ে অনলাইনে নানা ধরনের সাধারণ কাজ করানো এখন অনেক সহজ হয়ে উঠছে। বাজারের পণ্য কেনার তালিকা তৈরি থেকে শুরু করে কোনো পাঠাগারে বইয়ের তালিকা সংরক্ষণ, বিভিন্ন ওয়েবসাইটে প্রবেশ কিংবা বিনিয়োগের হিসাব বিশ্লেষণ—এসব কাজও এআই করতে পারছে।
একটি পরীক্ষায় রান্নার একটি রেসিপি থেকে প্রয়োজনীয় উপকরণ শনাক্ত করে অনলাইনে কেনাকাটার ঝুড়িতে পণ্য যোগ করার কাজও এআইকে দেওয়া হয়েছিল। লগইনের ক্ষেত্রে সাধারণ পদ্ধতি কাজ না করায় এআই বিকল্পভাবে ই-মেইলে পাঠানো প্রবেশ-সংযোগ ব্যবহার করে কাজটি সম্পন্ন করে।
এই অভিজ্ঞতা দেখাচ্ছে, এআই এজেন্ট মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অনেক ছোটখাটো কাজ নিজের হাতে তুলে নিতে পারে।
ব্যাংক ও স্বাস্থ্যসেবায় বাড়তি সতর্কতা
সুবিধা যত বাড়ছে, ঝুঁকিও তত স্পষ্ট হচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাংক হিসাব, অবসরকালীন সঞ্চয়, স্বাস্থ্যসেবা বা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত নথির মতো সংবেদনশীল জায়গায় এআইকে অবাধ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া বিপজ্জনক হতে পারে।
এআই মানুষের মতো ওয়েবসাইট ব্যবহার করলেও তার কাজের ধরন মানুষের মতো নয়। একটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে গিয়ে সে এমন কোনো তথ্য বা নির্দেশের মুখোমুখি হতে পারে, যা ব্যবহারকারী নিজে বুঝতে পারলেও এআই ভুলভাবে গ্রহণ করতে পারে।
তাই এআইকে কাজ দেওয়ার সময় স্পষ্ট সীমা নির্ধারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে মানুষের নজরদারি রাখা জরুরি।
লুকানো নির্দেশনা থেকেই বড় বিপদ
এআই এজেন্টের সবচেয়ে বড় ঝুঁকিগুলোর একটি হলো ওয়েবসাইটে থাকা লুকানো ক্ষতিকর নির্দেশনা। কোনো আক্রমণকারী ক্যালেন্ডারের আমন্ত্রণ, ওয়েবসাইটের মন্তব্য, পর্যালোচনা বা অন্য কোনো অনলাইন লেখার মধ্যে এমন নির্দেশনা লুকিয়ে রাখতে পারে, যা এআইকে ভুল কাজ করাতে পারে।
এ ধরনের আক্রমণে এআইকে পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা খুলতে, মূল পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করতে কিংবা পুনরুদ্ধারের গোপন তথ্য অন্যের কাছে পাঠানোর মতো বিপজ্জনক কাজের দিকে ঠেলে দেওয়া সম্ভব হতে পারে।
এ কারণেই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এআই এজেন্টের কাছে সরাসরি পাসওয়ার্ড কপি করে দেওয়ার বিরুদ্ধে সতর্ক করছেন।
সুবিধা থাকলেও পুরো নিয়ন্ত্রণ এআইকে নয়
এআইয়ের মাধ্যমে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার নতুন পদ্ধতি নিরাপত্তার দিক থেকে আগের তুলনায় বেশি সুরক্ষিত হতে পারে। কারণ এতে এআইকে সরাসরি গোপন পাসওয়ার্ড দেখানো হচ্ছে না এবং প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশের আগে মানুষের অনুমোদন নেওয়া হচ্ছে।
তবে এটিকে সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত ব্যবস্থা ভাবার সুযোগ নেই। এআইকে কোনো কাজ দেওয়ার আগে সেটির সীমা নির্ধারণ করা, গুরুত্বপূর্ণ ওয়েবসাইটে বাড়তি সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন হলে নিজে কাজটি সম্পন্ন করাই নিরাপদ পথ।
প্রযুক্তি যত দ্রুত মানুষের হয়ে কাজ করতে শিখছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে একটি বিষয়—সুবিধার জন্য গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার নিয়ন্ত্রণ যেন পুরোপুরি যন্ত্রের হাতে চলে না যায়।
এআইয়ের হাতে কাজ দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোপন তথ্যের চাবি পুরোপুরি তার হাতে তুলে দেওয়া এখনো বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















