থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে ভ্রমণে গিয়ে একদল ইতালীয় শিক্ষার্থী ও তাদের সঙ্গে থাকা এক শিক্ষকের আচরণ ঘিরে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রেনে এক থাই নারী যাত্রীকে অপমান করার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে থাইল্যান্ডে ইতালির দূতাবাস প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করে এবং ঘটনাটির নিন্দা জানায়।
ঘটনাটি ঘটে ব্যাংককের বিটিএস স্কাইট্রেনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক থাই নারী যাত্রী উচ্চস্বরে কথা বলা ও চিৎকার বন্ধ করতে ইতালীয় শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “থাইল্যান্ডে আমরা এভাবে চিৎকার করি না।” এরপর তিনি জানতে চান তারা কোন দেশের নাগরিক।
ভিডিওতে দেখা যায়, শিক্ষার্থীরা বিদ্রূপ করে নিজেদের “থাইল্যান্ড” থেকে এসেছে বলে দাবি করে এবং ওই নারীকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে। একজন শিক্ষার্থী মধ্যমা প্রদর্শন করে, অন্যরা হাসাহাসি করতে থাকে এবং আগের মতোই উচ্চস্বরে আচরণ চালিয়ে যায়।
শিক্ষকের মন্তব্যে আরও বাড়ে বিতর্ক
ভিডিওতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা এক শিক্ষকের বক্তব্যও ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। তাকে ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলতে শোনা যায়, “আমরা তোমাদের দেশে টাকা নিয়ে এসেছি, তার জন্য দুঃখিত।” পরে তিনি ওই নারীকে চুপ থাকতে অশালীন ভাষায় নির্দেশ দেন এবং বলেন, “ওরা তো শুধু শিশু।”
এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থাইল্যান্ডের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ভাইরাল ভিডিও ও জনরোষ
ভিডিওটি প্রথমে টিকটকে প্রকাশিত হলেও পরে সেটি সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এরই মধ্যে এক্সে (সাবেক টুইটার) ভিডিওটি ১ কোটি ৬০ লাখেরও বেশি বার দেখা হয়।
হাজারো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী, বিশেষ করে থাই নাগরিকরা, ব্যাংককে ইতালির দূতাবাসের ফেসবুক পাতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ কেউ শিক্ষার্থীদের পরিচয় শনাক্ত করে তাদের বিদ্যালয়ের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টেও সমালোচনামূলক মন্তব্য করেন।
এছাড়া কয়েকটি ভিডিওতে দেখা যায়, কিছু থাই নাগরিক ইতালীয় পর্যটকদের হোটেলের বাইরে জড়ো হয়ে তাদের কাছে প্রকাশ্য ক্ষমা দাবি করছেন।
পুলিশে অভিযোগ ও প্রকাশ্য ক্ষমা
অপমানের শিকার থাই নারী এ ঘটনায় পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেন। পরে তিনি টিকটকে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যেখানে সংশ্লিষ্ট তরুণদের তাকে, তার পরিবারকে এবং সমগ্র থাই জনগণের কাছে ক্ষমা চাইতে দেখা যায়।
ইতালির দূতাবাসও পৃথকভাবে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। সেখানে তিনজন প্রাপ্তবয়স্ক ও একজন কিশোর ঘটনার জন্য ক্ষমা চান।
দূতাবাসের এক প্রতিনিধি বলেন, ব্যাংককে ইতালির দূতাবাস এই অনভিপ্রেত ঘটনার জন্য গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে এবং এমন আচরণের কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, অপ্রাপ্তবয়স্ক পর্যটকদের এই আচরণ কোনোভাবেই ইতালির জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে না।
সংস্কৃতির প্রতি সম্মান শেখানোর অঙ্গীকার
ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওতে এক শিক্ষক বলেন, “আমি ভালোভাবেই জানি, টাকা দিয়ে সম্মান কেনা যায় না।”
তিনি জানান, শিক্ষার্থীদের ইতালিতে ফিরিয়ে নেওয়া হবে এবং তাদের আবারও কঠোরভাবে থাই সংস্কৃতি ও স্থানীয় সামাজিক মূল্যবোধকে সম্মান করতে শেখানোর চেষ্টা করা হবে। একই সঙ্গে থাই জনগণের আতিথেয়তার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা হয়।
ব্যাংককের ট্রেনে ইতালীয় শিক্ষার্থীদের অসদাচরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর ক্ষমা চেয়েছে ইতালির দূতাবাস। ঘটনায় থাইল্যান্ডজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















