মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশে গ্যাসের সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। সোমবারও ঢাকা এবং দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা নিম্নচাপ ও অনিয়মিত গ্যাস সরবরাহের কারণে ঘরোয়া রান্নাসহ দৈনন্দিন জীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাসের সরবরাহ থাকে না। আবার সরবরাহ এলেও চাপ এতটাই কম থাকে যে স্বাভাবিকভাবে রান্না করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক চুলা ও এলপিজি সিলিন্ডারের ওপর নির্ভর করছে। এতে তাদের মাসিক জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে গেছে।
গৃহস্থালিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি
গ্যাস সংকটের প্রভাব শিল্প, বাণিজ্যিক কার্যক্রম এবং পরিবহন খাতেও পড়লেও সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গৃহস্থালি গ্রাহকেরা। দীর্ঘ সময় ধরে পর্যাপ্ত গ্যাস না থাকায় নিয়মিত রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবারকে খাবার প্রস্তুতের সময়সূচিও পরিবর্তন করতে হচ্ছে।
তিতাসের ব্যাখ্যা
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটির কারণে পুনর্গ্যাসীকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (আরএলএনজি) সরবরাহ প্রতিদিন প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে।
এই সরবরাহ ঘাটতির কারণে তিতাসের বিতরণ নেটওয়ার্কের আওতাধীন সব ধরনের গ্রাহকই তীব্র নিম্নচাপের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন।
পরিস্থিতি উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত সংকট অব্যাহত
তিতাস জানিয়েছে, গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত তাদের বিতরণ এলাকায় সব শ্রেণির গ্রাহককে নিম্নচাপ ও সরবরাহ সংকটের ভোগান্তি সহ্য করতে হবে। কারিগরি ত্রুটি দূর করে স্বাভাবিক সরবরাহ পুনরুদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়নি।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















