যুক্তরাষ্ট্রে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডাকযোগে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে নতুন বিধিনিষেধ আরোপের উদ্যোগ বাস্তবায়নের অনুমতি চেয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রশাসন চাইছে, ফেডারেল সংস্থাগুলো যেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুযায়ী ভোটারদের যোগ্যতার তালিকা তৈরি এবং ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট যাচাইয়ের ব্যবস্থা চালু করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের এই আবেদনের পেছনে মূল লক্ষ্য আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাগুলো কার্যকর করা। তবে নির্বাচনী আইন বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, এই উদ্যোগের আইনগত ভিত্তি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী ফেডারেল নির্বাচন পরিচালনার ক্ষমতা মূলত অঙ্গরাজ্য ও কংগ্রেসের হাতে, প্রেসিডেন্টের হাতে নয়।
নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা
গত মার্চে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে অঙ্গরাজ্যভিত্তিক এমন একটি তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়, যেখানে ভোট দেওয়ার যোগ্য নাগরিকদের নাম থাকবে। পাশাপাশি যেসব ভোটারের নাম ওই সরকারি তালিকায় থাকবে না, তাদের ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট ডাক বিভাগ গ্রহণ করবে না—এমন ব্যবস্থার কথাও বলা হয়।
এই আদেশের বিরুদ্ধে ২৩টি অঙ্গরাজ্য ও রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির কর্মকর্তারা আদালতে মামলা করেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাহী আদেশটি সংবিধানবিরোধী এবং এর মাধ্যমে ভোট দেওয়ার যোগ্য অনেক নাগরিকও ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
বোস্টনের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক ইন্দিরা তালওয়ানি প্রশাসনের আদেশ কার্যকর করার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেন। তাঁর মতে, আদেশটির গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো ক্ষমতার পৃথকীকরণের সাংবিধানিক নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
আপিল আদালতেও ধাক্কা
নিম্ন আদালতের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসন আপিল আদালতের শরণাপন্ন হয়। কিন্তু শনিবার প্রথম সার্কিট আপিল আদালতের একটি বেঞ্চও প্রশাসনের আবেদন নাকচ করে দেয়।
এর পরই জরুরি ভিত্তিতে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে ট্রাম্প প্রশাসন। সরকারের পক্ষে সলিসিটর জেনারেল ডি. জন সাওয়ার আদালতকে দ্রুত হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানিয়েছেন। তাঁর যুক্তি, নির্বাচনের আগে নতুন ব্যবস্থাগুলো বাস্তবায়নের জন্য ফেডারেল সংস্থাগুলোর পর্যাপ্ত সময় প্রয়োজন।

আইনগত প্রশ্ন এড়িয়ে মূল আপিল
তবে সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে প্রশাসন সরাসরি নির্বাহী আদেশটি সাংবিধানিক কি না, সেই প্রশ্নকে মূল বিষয় করেনি। বরং তাদের দাবি, যেসব অঙ্গরাজ্য মামলা করেছে, তারা এখনো এই আদেশের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার মতো আইনগত অধিকার অর্জন করেনি।
সাওয়ারের যুক্তি, সংশ্লিষ্ট ফেডারেল সংস্থাগুলো এখনো আদেশটি কীভাবে বা আদৌ বাস্তবায়ন করবে কি না, তা নিয়ে কাজ করছে। অথচ তার আগেই জেলা আদালত ধরে নিয়েছে যে ভবিষ্যতে সংস্থাগুলো যে সিদ্ধান্তই নিক না কেন, সেটি বেআইনি হবে।
অন্যদিকে মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর বক্তব্য হলো, প্রস্তাবিত ব্যবস্থা ভোটারদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং এর ফলে যোগ্য ভোটারদের একটি অংশ ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ হারাতে পারেন।
সামনে গুরুত্বপূর্ণ শুনানি
ট্রাম্প প্রশাসনের আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলোকে আগামী সোমবার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এরপর সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের জরুরি আবেদনটি কীভাবে বিবেচনা করবে, সেটিই এখন নজরের কেন্দ্রে।
ডাকযোগে ভোট নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আপত্তি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ডাকযোগে ভোটের গ্রহণযোগ্যতা ও নিরাপত্তা নিয়েও তিনি বারবার প্রশ্ন তুলেছেন। ফলে এবারের উদ্যোগ শুধু একটি প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়, বরং দেশটির নির্বাচন পরিচালনা ও ভোটাধিকার নিয়ে চলমান বড় রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্কেরও অংশ হয়ে উঠেছে।
আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সুপ্রিম কোর্ট যদি প্রশাসনের পক্ষে সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে ডাকযোগে ভোট গ্রহণের নিয়মে বড় পরিবর্তনের পথ খুলতে পারে। আর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলে ট্রাম্প প্রশাসনের নির্বাহী আদেশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ আপাতত বাধার মুখেই থাকবে।
যুক্তরাষ্ট্রে ভোট পরিচালনার ক্ষমতা কার হাতে এবং প্রেসিডেন্ট নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থায় কতটা হস্তক্ষেপ করতে পারেন—সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তে সেই প্রশ্নও নতুন করে সামনে আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে ডাকযোগে ভোটে নতুন বিধিনিষেধ কার্যকরের অনুমতি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে সিদ্ধান্তটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















