০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ডায়ানার মতো পরিণতি এড়াতে হ্যারি-মেগানকে নিরাপত্তা দেওয়ার পক্ষে ভাই চার্লস স্পেন্সার এইচ-১বি ভিসার অনিশ্চয়তায় বদলে যাচ্ছে ‘আমেরিকান ড্রিম’, বিকল্প দেশ খুঁজছেন বিদেশি কর্মীরা ১০ বছর বয়সে মেয়ের ব্যবসার স্বপ্ন, ‘শার্ক ট্যাঙ্ক’-এ মিলল ২ লাখ ডলারের বিনিয়োগ আমেরিকান নিরাপত্তা বলয়ে ফাটল: মধ্যপ্রাচ্যের সংকট থেকে এশিয়ার নতুন হিসাব হামে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,০৬৩ রাশিয়ার সংসদে পুতিনপন্থিদের দাপট, আঞ্চলিক সংসদে সামান্য জায়গা পেল যুদ্ধবিরোধীরা জ্বালানির দাম বাড়ায় চাপে বাইকার ও রাইড শেয়ারিং চালকরা দ্বিতীয় স্ত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এমপি গাজী নজরুল ও প্রথম স্ত্রী রিমান্ডে ট্রাম্পের ‘বিজয় তোরণ’ এবার ড্রোন-স্নাইপার সামরিক স্থাপনা, বাড়ছে বিতর্ক ইউক্রেনের হাজার ড্রোন হামলার পর জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ ড্রোনের আঘাত, আহত ৫

ইউক্রেনের মতো অপ্রস্তুত কি ইউরোপও?

বারো বছর আগে ইউক্রেন এমন এক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, যার অনেক সতর্ক সংকেতই তখন দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সমাজের বড় অংশ সেই সংকেতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। আজ ইউরোপের পরিস্থিতি হুবহু ইউক্রেনের মতো নয়। ইউরোপ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী, তার প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামো এখনো কার্যকর। তবু নিরাপত্তা নিয়ে আত্মতুষ্টি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় দীর্ঘ অবহেলা এবং সম্ভাব্য হুমকিকে অবমূল্যায়নের প্রবণতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।

২০১৪ সালের আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নিরস্ত্রীকরণের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। দেশটির নীতিনির্ধারকেরা ধরে নিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে।

কিন্তু রাশিয়ার আচরণে সতর্কবার্তা তখনই স্পষ্ট ছিল। ২০০৮ সালে জর্জিয়ায় রাশিয়ার সামরিক অভিযান দেখিয়েছিল, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোর ওপর প্রভাব ধরে রাখতে মস্কো শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্ব নিয়েও রুশ নেতৃত্বের বক্তব্য ক্রমেই কঠোর হচ্ছিল। তবু ইউক্রেনে একটি শক্তিশালী ধারণা ছিল—রাশিয়া আর বেশি দূর যাবে না।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর এবং দনবাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পরও অনেকেই মনে করেছিলেন, সংকটটি নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব—এই বিশ্বাসও টিকে ছিল। ২০১৯ সালে ভলোদিমির জেলেনস্কির নির্বাচনী সাফল্যের পেছনে যুদ্ধ শেষ করার আকাঙ্ক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

কিন্তু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সেই হিসাব ভেঙে যায়। পূর্ণমাত্রার রুশ আক্রমণ দেখিয়ে দেয়, একটি আঞ্চলিক সংঘাত কীভাবে একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে।Will Europe Be as Unprepared as Ukraine Was? | Yuriy Gorodnichenko

ইউরোপের পুরোনো নিরাপত্তা ধারণা

ইউরোপের সঙ্গে ইউক্রেনের তুলনা সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। ইউরোপের অর্থনীতি বড়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী এবং ন্যাটো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কাঠামো। তবু কয়েক দশকের শান্তির পর ইউরোপের বহু দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়েছে।

ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাও বহু বছর অনেক দেশের কাছে ন্যূনতম প্রয়োজনের বদলে প্রায় সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জার্মানির সামরিক সক্ষমতার অবনতিও এই দীর্ঘ অবহেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। মূল লেখকেরা দেখিয়েছেন, ইউরোপের নিরাপত্তা ভাবনায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি ধারণা প্রভাব বিস্তার করেছে—বড় যুদ্ধ আর হবে না, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা সংঘাত ঠেকাবে, কূটনীতি সব সংকট সামলে নেবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব নেবে।

ইউক্রেন যুদ্ধ সেই ধারণাগুলোর ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে।

হুমকি এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়

ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন কেবল সেনাবাহিনী, ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে।

লেখকদের বিশ্লেষণে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে নাশকতা, সাইবার হামলা, ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে সন্দেহজনক ঘটনাও ইউরোপের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিশেষ দিক হলো, এগুলো অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধের সীমা অতিক্রম করে না। ফলে প্রতিপক্ষ ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংকল্প এবং প্রতিক্রিয়ার সীমা যাচাই করার সুযোগ পায়।

রাজনৈতিক বিভাজনও বড় ঝুঁকি

ইউরোপের সমস্যা শুধু প্রতিরক্ষা বাজেটের নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—সংকট দেখা দিলে রাজনৈতিকভাবে দ্রুত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে কি না।

বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা উচিত, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করা উচিত এবং নিরাপত্তার জন্য কতটা ব্যয় করা প্রয়োজন—এসব প্রশ্নেও অভিন্ন অবস্থান নেই।

এই বিভাজন প্রতিপক্ষকে সুযোগ দিতে পারে। সামরিক শক্তি থাকলেই প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় না; সেই শক্তি প্রয়োজনে ব্যবহার করার রাজনৈতিক সংকল্পও প্রয়োজন।

প্রতিরোধ মানেই যুদ্ধ নয়

ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা যুদ্ধ চাওয়ার সমান নয়। বরং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় সংঘাতের সম্ভাবনা কমাতে পারে।

কূটনীতি অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু কূটনীতির পেছনে কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য না থাকলে তার শক্তি সীমিত হয়ে যায়। শান্তি বজায় রাখতে হলে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকাও জরুরি।

ইউক্রেন ভয়াবহ মূল্য দিয়ে ইউরোপকে সময় দিয়েছে। সেই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইউরোপের সামনে একটি সুযোগ তৈরি করেছে—নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠন, রাজনৈতিক ঐকমত্য শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ।

এখন প্রশ্ন শুধু ইউরোপ কত বেশি অর্থ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করবে, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, সম্ভাব্য বিপদকে সময় থাকতে স্বীকার করার মতো রাজনৈতিক বাস্তববাদ এবং প্রয়োজনের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার মতো দূরদর্শিতা ইউরোপ দেখাতে পারবে কি না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ডায়ানার মতো পরিণতি এড়াতে হ্যারি-মেগানকে নিরাপত্তা দেওয়ার পক্ষে ভাই চার্লস স্পেন্সার

ইউক্রেনের মতো অপ্রস্তুত কি ইউরোপও?

০৪:৫৭:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারো বছর আগে ইউক্রেন এমন এক বিপর্যয়ের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল, যার অনেক সতর্ক সংকেতই তখন দৃশ্যমান ছিল। কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সমাজের বড় অংশ সেই সংকেতকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয়নি। আজ ইউরোপের পরিস্থিতি হুবহু ইউক্রেনের মতো নয়। ইউরোপ অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী, তার প্রতিষ্ঠানগুলো তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং ন্যাটোর নিরাপত্তা কাঠামো এখনো কার্যকর। তবু নিরাপত্তা নিয়ে আত্মতুষ্টি, প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় দীর্ঘ অবহেলা এবং সম্ভাব্য হুমকিকে অবমূল্যায়নের প্রবণতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সাদৃশ্য রয়েছে।

২০১৪ সালের আগে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী দীর্ঘদিনের অবহেলা ও নিরস্ত্রীকরণের কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। দেশটির নীতিনির্ধারকেরা ধরে নিয়েছিলেন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, অর্থনৈতিক সম্পর্ক এবং ইউরোপীয় নিরাপত্তা কাঠামো বড় ধরনের যুদ্ধের ঝুঁকি কমিয়ে দেবে।

কিন্তু রাশিয়ার আচরণে সতর্কবার্তা তখনই স্পষ্ট ছিল। ২০০৮ সালে জর্জিয়ায় রাশিয়ার সামরিক অভিযান দেখিয়েছিল, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোর ওপর প্রভাব ধরে রাখতে মস্কো শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় পরিচয় ও সার্বভৌমত্ব নিয়েও রুশ নেতৃত্বের বক্তব্য ক্রমেই কঠোর হচ্ছিল। তবু ইউক্রেনে একটি শক্তিশালী ধারণা ছিল—রাশিয়া আর বেশি দূর যাবে না।

২০১৪ সালে ক্রিমিয়া রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর এবং দনবাসে সংঘাত শুরু হওয়ার পরও অনেকেই মনে করেছিলেন, সংকটটি নির্দিষ্ট অঞ্চলেই সীমাবদ্ধ থাকবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সম্ভব—এই বিশ্বাসও টিকে ছিল। ২০১৯ সালে ভলোদিমির জেলেনস্কির নির্বাচনী সাফল্যের পেছনে যুদ্ধ শেষ করার আকাঙ্ক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

কিন্তু ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সেই হিসাব ভেঙে যায়। পূর্ণমাত্রার রুশ আক্রমণ দেখিয়ে দেয়, একটি আঞ্চলিক সংঘাত কীভাবে একটি রাষ্ট্রের অস্তিত্বের প্রশ্নে পরিণত হতে পারে।Will Europe Be as Unprepared as Ukraine Was? | Yuriy Gorodnichenko

ইউরোপের পুরোনো নিরাপত্তা ধারণা

ইউরোপের সঙ্গে ইউক্রেনের তুলনা সরাসরি এক করে দেখা ঠিক হবে না। ইউরোপের অর্থনীতি বড়, প্রতিষ্ঠান শক্তিশালী এবং ন্যাটো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা কাঠামো। তবু কয়েক দশকের শান্তির পর ইউরোপের বহু দেশ নিজেদের সামরিক সক্ষমতা কমিয়েছে।

ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়ের ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রাও বহু বছর অনেক দেশের কাছে ন্যূনতম প্রয়োজনের বদলে প্রায় সর্বোচ্চ সীমা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। জার্মানির সামরিক সক্ষমতার অবনতিও এই দীর্ঘ অবহেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। মূল লেখকেরা দেখিয়েছেন, ইউরোপের নিরাপত্তা ভাবনায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি ধারণা প্রভাব বিস্তার করেছে—বড় যুদ্ধ আর হবে না, অর্থনৈতিক আন্তঃনির্ভরতা সংঘাত ঠেকাবে, কূটনীতি সব সংকট সামলে নেবে এবং শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইউরোপের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব নেবে।

ইউক্রেন যুদ্ধ সেই ধারণাগুলোর ভিত্তি নাড়িয়ে দিয়েছে।

হুমকি এখন শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নয়

ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকি এখন কেবল সেনাবাহিনী, ট্যাংক বা ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইবার হামলা, নাশকতা, ড্রোন, ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মতো কর্মকাণ্ডও রাষ্ট্রের নিরাপত্তাকে দুর্বল করতে পারে।

লেখকদের বিশ্লেষণে, রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইউরোপজুড়ে নাশকতা, সাইবার হামলা, ইলেকট্রনিক হস্তক্ষেপ ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে। ন্যাটোর আকাশসীমা লঙ্ঘন এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ঘিরে সন্দেহজনক ঘটনাও ইউরোপের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের বিশেষ দিক হলো, এগুলো অনেক সময় সরাসরি যুদ্ধের সীমা অতিক্রম করে না। ফলে প্রতিপক্ষ ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাজনৈতিক সংকল্প এবং প্রতিক্রিয়ার সীমা যাচাই করার সুযোগ পায়।

রাজনৈতিক বিভাজনও বড় ঝুঁকি

ইউরোপের সমস্যা শুধু প্রতিরক্ষা বাজেটের নয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—সংকট দেখা দিলে রাজনৈতিকভাবে দ্রুত ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে কি না।

বিভিন্ন দেশে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ রয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধ কীভাবে শেষ করা উচিত, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক কীভাবে পরিচালনা করা উচিত এবং নিরাপত্তার জন্য কতটা ব্যয় করা প্রয়োজন—এসব প্রশ্নেও অভিন্ন অবস্থান নেই।

এই বিভাজন প্রতিপক্ষকে সুযোগ দিতে পারে। সামরিক শক্তি থাকলেই প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি হয় না; সেই শক্তি প্রয়োজনে ব্যবহার করার রাজনৈতিক সংকল্পও প্রয়োজন।

প্রতিরোধ মানেই যুদ্ধ নয়

ইউক্রেনের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হলো, প্রতিরোধক্ষমতা তৈরি করা যুদ্ধ চাওয়ার সমান নয়। বরং বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক সময় সংঘাতের সম্ভাবনা কমাতে পারে।

কূটনীতি অবশ্যই প্রয়োজনীয়। কিন্তু কূটনীতির পেছনে কার্যকর প্রতিরক্ষা সক্ষমতা ও রাজনৈতিক ঐকমত্য না থাকলে তার শক্তি সীমিত হয়ে যায়। শান্তি বজায় রাখতে হলে সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকাও জরুরি।

ইউক্রেন ভয়াবহ মূল্য দিয়ে ইউরোপকে সময় দিয়েছে। সেই যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ইউরোপের সামনে একটি সুযোগ তৈরি করেছে—নিজের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা পুনর্গঠন, রাজনৈতিক ঐকমত্য শক্তিশালী করা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে আরও সক্রিয় হওয়ার সুযোগ।

এখন প্রশ্ন শুধু ইউরোপ কত বেশি অর্থ প্রতিরক্ষায় ব্যয় করবে, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, সম্ভাব্য বিপদকে সময় থাকতে স্বীকার করার মতো রাজনৈতিক বাস্তববাদ এবং প্রয়োজনের আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার মতো দূরদর্শিতা ইউরোপ দেখাতে পারবে কি না।