দেশে হাম ও হামসদৃশ উপসর্গে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। নতুন ছয় মৃত্যুর সবগুলোই সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যু হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর (ডিজিএইচএস)। এর ফলে চলতি বছরে দেশে নিশ্চিত ও সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সম্মিলিত সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, নতুন ছয়জনসহ দেশে সন্দেহভাজন হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৯৬২। অন্যদিকে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে ১০১ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ১ হাজার ২২১টি সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্তের মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৫ জনে।
একই সময়ে নতুন করে ৮৪ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে। এতে চলতি বছরে лаборатরিতে নিশ্চিত হওয়া হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৬৪৬ জনে।
১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত ১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫৩ হাজার ৪৪৮ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
আবারও দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচি
ক্রমবর্ধমান হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন করে দেশব্যাপী বিশেষ হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হুসাইন জানিয়েছেন, এ কর্মসূচি চলবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।
নতুন কর্মসূচিতে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এর আগে ইউনিসেফ, গ্যাভি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সহায়তায় এপ্রিল থেকে ২০ মে পর্যন্ত দেশব্যাপী হাম টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হয়েছিল। ওই কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮০ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্যের বিপরীতে ১০২ থেকে ১০৪ শতাংশ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়।
তবে পরবর্তী সময়ে পরিচালিত ভিটামিন এ প্লাস কর্মসূচিতে দেখা যায়, আগের হাম টিকাদান কর্মসূচিতে প্রায় ৪৩ লাখ শিশু বাদ পড়েছিল।
এর পাশাপাশি গত তিন মাসে আরও প্রায় ১০ লাখ শিশু ছয় মাস বয়সে পৌঁছে হাম টিকার জন্য নতুন করে উপযুক্ত হয়েছে। বাদ পড়া শিশু এবং নতুন করে টিকা নেওয়ার যোগ্য হওয়া শিশুদের হিসাব মিলিয়ে এবারের বিশেষ কর্মসূচিতে মোট ৩৪ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য হাম পরিস্থিতির উদ্বেগজনক চিত্রই তুলে ধরছে। একদিকে সন্দেহভাজন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক শিশুকে টিকাদানের আওতায় আনতে নতুন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আগামী দিনের পরিস্থিতি অনেকটাই নির্ভর করবে এই কর্মসূচিতে নির্ধারিত শিশুদের কতটা কার্যকরভাবে টিকার আওতায় আনা যায় তার ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















