০৭:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
করাচির কৌতূহলী মেয়েটি থেকে মহাবিশ্বের ‘শব্দ’ শোনার বিজ্ঞানী নেরগিস মাভালভালা ইমরান খানের আরও দুই বোন আটক, ৩০ দিনের জন্য কারাগারে ৯০ বছর বয়সে বাবার জন্মভূমি ও হারানো স্বজনদের খুঁজতে ওকিনাওয়া যাচ্ছেন ফিলিপাইনের নারী প্রায় তিন বছর পর গাজায় স্কুলে ফিরল শিশুরা, তাঁবুতেও চলছে নতুন স্বপ্নের শুরু কুমিল্লায় মা ও দেড় বছরের নাতনি নিহত, ছেলেকে আটক সমুদ্রের ১০ মিটার গভীরে সৌরবিদ্যুৎ! প্রথমবার ‘সাবমেরিন সোলার ফার্ম’ পরীক্ষা চীনের জেমি অলিভারের ২০ মিনিটের দুই রেসিপি: ফিশ পাই পাস্তা বেক ও টমেটো-ফেটা ডাল কারাগারে কর্মকর্তার ওপর চিনি মেশানো ফুটন্ত পানি ছোড়ার অভিযোগ সাউথপোর্ট হত্যাকাণ্ডের আসামির জিবুতিতে চীনের সামরিক ঘাঁটি আধুনিকায়ন, মধ্যপ্রাচ্যে বিদেশি তৎপরতায় নজর বাড়াতে পারে বেইজিং ট্রাম্পের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন শি জিনপিং, ২৩-২৫ সেপ্টেম্বর বৈঠক

চীনের ১১ হাজার মেগা সেতু কি ছোট ড্রোন হামলায় ঝুঁকিতে?

চীনের প্রায় ১১ হাজার বিশাল সেতুর কিছু অংশ ছোট ড্রোনের হামলায় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। আধুনিক যুদ্ধে ছোট আকারের ড্রোন কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে, তা বোঝার জন্য চীনা বিজ্ঞানীরা একটি বড় ঝুলন্ত সেতুর ওপর ড্রোন হামলার সম্ভাব্য প্রভাবের কম্পিউটার সিমুলেশন চালিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩০ কেজি বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন নির্দিষ্ট জায়গায় বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে সেতুর প্রধান ঝুলন্ত তার বা মূল সাসপেনশন কেবল যেখানে সহায়ক টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, বিস্ফোরণটি যদি সেই সংযোগস্থলের একেবারে কাছাকাছি ঘটে, তাহলে সেতুটি ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে গবেষকদের সিমুলেশনে দেখা গেছে।

গবেষণাটি মূলত চীনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোর আধুনিক যুদ্ধের কৌশলের সামনে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেই প্রশ্নের ওপর আলোকপাত করেছে। বিশাল সেতুগুলো সাধারণত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু একটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় নয়, একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।Some of China's 11,000 mega bridges could be at risk from small drones:  study | South China Morning Post

গবেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও অন্যান্য নির্ভুল আঘাতের ব্যবহার যুদ্ধের ধরনে পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। আগে যেখানে বড় ধরনের সামরিক শক্তি ও ব্যাপক গোলাবর্ষণের ওপর বেশি নির্ভরতা ছিল, সেখানে এখন তুলনামূলক ছোট ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার গুরুত্ব বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে আগে যেসব স্থাপনাকে দূর থেকে আঘাত করা কঠিন বলে মনে করা হতো, সেগুলোও আধুনিক যুদ্ধে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন। বড় সেতু, যোগাযোগকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তাই নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

তবে গবেষণাটি একটি সিমুলেশনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো সেতুতে একই ধরনের হামলার ফলাফল নির্ভর করবে সেতুর নকশা, নির্মাণসামগ্রী, বিস্ফোরণের সঠিক অবস্থান, সেতুর কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ের ওপর। তাই সিমুলেশনের ফলাফলকে চীনের সব বড় সেতু একই মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না।

চীনের বিশাল অবকাঠামো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে এই গবেষণা অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—আধুনিক যুগে তুলনামূলক ছোট ও সহজলভ্য ড্রোনের বিস্তার কীভাবে বড় ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

করাচির কৌতূহলী মেয়েটি থেকে মহাবিশ্বের ‘শব্দ’ শোনার বিজ্ঞানী নেরগিস মাভালভালা

চীনের ১১ হাজার মেগা সেতু কি ছোট ড্রোন হামলায় ঝুঁকিতে?

০৬:০৪:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের প্রায় ১১ হাজার বিশাল সেতুর কিছু অংশ ছোট ড্রোনের হামলায় ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে এক গবেষণায় উঠে এসেছে। আধুনিক যুদ্ধে ছোট আকারের ড্রোন কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করতে পারে, তা বোঝার জন্য চীনা বিজ্ঞানীরা একটি বড় ঝুলন্ত সেতুর ওপর ড্রোন হামলার সম্ভাব্য প্রভাবের কম্পিউটার সিমুলেশন চালিয়েছেন।

গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ৩০ কেজি বিস্ফোরক বহনকারী একটি ড্রোন নির্দিষ্ট জায়গায় বিস্ফোরিত হলে বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। বিশেষ করে সেতুর প্রধান ঝুলন্ত তার বা মূল সাসপেনশন কেবল যেখানে সহায়ক টাওয়ারের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, বিস্ফোরণটি যদি সেই সংযোগস্থলের একেবারে কাছাকাছি ঘটে, তাহলে সেতুটি ধসে পড়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে গবেষকদের সিমুলেশনে দেখা গেছে।

গবেষণাটি মূলত চীনের গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন অবকাঠামোর আধুনিক যুদ্ধের কৌশলের সামনে কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে, সেই প্রশ্নের ওপর আলোকপাত করেছে। বিশাল সেতুগুলো সাধারণত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবহনপথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে এসব স্থাপনায় হামলা হলে শুধু একটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয় নয়, একই সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটতে পারে।Some of China's 11,000 mega bridges could be at risk from small drones:  study | South China Morning Post

গবেষকদের মতে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ড্রোন ও অন্যান্য নির্ভুল আঘাতের ব্যবহার যুদ্ধের ধরনে পরিবর্তনের বিষয়টি স্পষ্ট করেছে। আগে যেখানে বড় ধরনের সামরিক শক্তি ও ব্যাপক গোলাবর্ষণের ওপর বেশি নির্ভরতা ছিল, সেখানে এখন তুলনামূলক ছোট ও নির্দিষ্ট লক্ষ্যভেদী হামলার গুরুত্ব বেড়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে আগে যেসব স্থাপনাকে দূর থেকে আঘাত করা কঠিন বলে মনে করা হতো, সেগুলোও আধুনিক যুদ্ধে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠতে পারে বলে গবেষকরা উল্লেখ করেছেন। বড় সেতু, যোগাযোগকেন্দ্র ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো তাই নিরাপত্তার নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

তবে গবেষণাটি একটি সিমুলেশনের ভিত্তিতে করা হয়েছে। বাস্তবে কোনো সেতুতে একই ধরনের হামলার ফলাফল নির্ভর করবে সেতুর নকশা, নির্মাণসামগ্রী, বিস্ফোরণের সঠিক অবস্থান, সেতুর কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য এবং অন্যান্য অনেক বিষয়ের ওপর। তাই সিমুলেশনের ফলাফলকে চীনের সব বড় সেতু একই মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ—এমন সরাসরি সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা যায় না।

চীনের বিশাল অবকাঠামো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে এই গবেষণা অবশ্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—আধুনিক যুগে তুলনামূলক ছোট ও সহজলভ্য ড্রোনের বিস্তার কীভাবে বড় ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।