সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী এম নজরুল ইসলামকে চার দিনের এবং তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। সংসদ সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মৃত্যুর ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে করা মামলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এই রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম এই আদেশ দেন। এর আগে শেরেবাংলা নগর থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামসুজ্জোহা দুজনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, মরিয়মকে আত্মহত্যায় প্ররোচিত, উসকানি, চাপ, ভয়ভীতি দেখানো কিংবা অন্য কোনোভাবে আত্মহত্যার দিকে ঠেলে দেওয়ার ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা ইসলামের কোনো ভূমিকা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
আদালতে হাজির করার সময় গাজী নজরুলকে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হেলমেট পরা অবস্থায় দেখা যায়। পুলিশ সোমবার দুপুর ৩টা ১১ মিনিটের দিকে তাকে আদালতে নিয়ে যায়।
কীভাবে মৃত্যু হয় মরিয়মের
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনএএম ভবন থেকে গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মোছাম্মৎ মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার বয়স ছিল ১৯ বছর।
শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, এনএএম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের তৃতীয় তলায় ২০৩ নম্বর ফ্ল্যাটের একটি কক্ষে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ পাওয়া যায়।
ঘটনার পর গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ শেরেবাংলা নগর থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেন।
সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও ঘিরে আলোচনায় এসেছিলেন
গাজী নজরুল ইসলাম সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে এক তরুণীর সঙ্গে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
পরে গাজী নজরুল ওই নারীকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন বলে পরিচয় দেন। এ ঘটনার পর জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
এখন দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রীকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের প্রকৃত কারণ ও ঘটনার সঙ্গে তাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে পুলিশ।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















