ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর জাপোরিঝঝিয়ায় রোববার গভীর রাতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামলায় আবাসিক ভবন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় এবং একটি শপিং মল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সোমবারের এই হামলা ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ায় এক হাজারের বেশি ড্রোন পাঠানোর একদিন পর ঘটল। রাশিয়ায় সংসদীয় নির্বাচন চলার সময় ইউক্রেনের ওই ব্যাপক ড্রোন হামলার পর দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রোববার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত রাশিয়া থেকে পাঠানো ১৪৮টি ড্রোন তারা ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করতে সক্ষম হয়েছে। হামলায় জাপোরিঝঝিয়াসহ ইউক্রেনের আরও নয়টি অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ ড্রোনের আঘাতে একটি বাণিজ্যকেন্দ্রে আগুন ধরে যায়। পরে উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ করেন। বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার কারণে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইউক্রেনের ২৪৪টি ড্রোন ধ্বংস করেছে। রুশ বাহিনী একই সময়ে ইউক্রেনের বন্দর, সরবরাহ ও পরিবহনকেন্দ্র এবং গুদামগুলোকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলেও মন্ত্রণালয়টি জানিয়েছে।
চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসানে এখনো কোনো কূটনৈতিক অগ্রগতি দেখা যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন সামনে রেখে মস্কো যুদ্ধ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে জেলেনস্কির। সেখানে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। যুদ্ধের পরিস্থিতি এবং সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে দুই নেতার আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পেতে পারে।
এদিকে, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের প্রভাব পূর্ব ইউরোপের অন্য দেশগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। প্রতিবেশী মলদোভা জানিয়েছে, রাতে একটি অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু শনাক্ত হওয়ার পর দেশটির উত্তরাঞ্চলের আকাশসীমার একটি অংশ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ইউক্রেন ও রাশিয়ার পাল্টাপাল্টি ড্রোন হামলার পাশাপাশি পূর্ব ইউরোপের আকাশসীমায় একের পর এক অজ্ঞাত বা অনুপ্রবেশকারী ড্রোন শনাক্ত হওয়ার ঘটনায় পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়ছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















