ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সময় জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় নতুন করে তদন্তের পথ খুলে দিয়েছে দিল্লির একটি আদালত। নিম্ন আদালতের অভিযোগ খারিজের সিদ্ধান্ত বাতিল করে বিষয়টি আবারও ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে বলেন, গত বছরের সেপ্টেম্বরে ম্যাজিস্ট্রেট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তা অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না। আদালত ওই আদেশকে মামলার তথ্য-প্রমাণের বিষয়ে ‘নন-স্পিকিং’ বা যথেষ্ট ব্যাখ্যাবিহীন বলেও মন্তব্য করেছে।
বিশেষ বিচারক ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে ‘আইনের স্পষ্ট ভুল’ রয়েছে বলে উল্লেখ করে বিষয়টি পুনরায় তদন্ত ও শুনানির জন্য ফেরত পাঠান। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর বিশেষ আদালতে মামলাটি নতুন করে শুনানির কথা রয়েছে।
অভিযোগটির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ভোটার তালিকায় সোনিয়া গান্ধীর নাম অন্তর্ভুক্তির সময়কাল। অভিযোগকারী বিকাশ পাঠকের দাবি, ১৯৮০ সালে সোনিয়া গান্ধীর নাম ভারতের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অথচ তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান ১৯৮৩ সালে। এই কারণে ভোটার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়।
এর আগে ১০ সেপ্টেম্বর দিল্লির একটি আদালত এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছিল। অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম বৈভব চৌরাসিয়া চার পৃষ্ঠার আদেশে বলেছিলেন, সোনিয়া গান্ধী জাল কাগজপত্র ব্যবহার করে নিজেকে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত করেছিলেন—এমন অভিযোগ প্রমাণ করার মতো যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।![]()
আদালত তখন আরও বলেছিল, অভিযোগটির যথেষ্ট ভিত্তি নেই এবং বিষয়টি আদালতের এখতিয়ারের বাইরেও চলে যায়। দুই দফা শুনানিতে অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্য শোনার পর ওই সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল।
তবে বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে নিম্ন আদালতের ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন। তার বক্তব্য, অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তাকে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে অভিযোগ নিয়ে অবস্থান ও পরিস্থিতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নেওয়ার আগেই ম্যাজিস্ট্রেট মামলাটি খারিজ করে দিয়েছেন বলে আদালত মনে করেছে।
বিশেষ বিচারক নিম্ন আদালতের আদেশকে ‘বিকৃত ও অনুচিত’ বলেও মন্তব্য করেন। তার মতে, অভিযোগের প্রকৃতি বিবেচনায় নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তার বক্তব্য ও প্রতিবেদন পাওয়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
ফলে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি নিয়ে ওঠা অভিযোগটি এখন আবার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সামনে ফিরে গেল। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বরের শুনানিতে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারিত হওয়ার কথা।
তবে আদালতের এই সিদ্ধান্ত সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো অর্থ বহন করে না। বিষয়টি এখনো অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়েই রয়েছে এবং আদালতের পরবর্তী শুনানির পর এর আইনি অবস্থান আরও স্পষ্ট হবে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















