যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানে হামলা চালালে দেশটির সামরিক সক্ষমতায় বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা যাবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। বাহিনীটির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, নতুন অস্ত্র ও নতুন সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ইরান যুদ্ধে নামবে, যা দেখে বিশ্ব ‘অবাক’ হয়ে যাবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানিয়েছে, স্থানীয় গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে মোহেব্বি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ইরানের প্রতিরক্ষা ও পাল্টা হামলার কৌশলে ‘গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন’ আসবে।
তিনি বলেন, এসব পরিবর্তনের মধ্যে যুদ্ধের ভৌগোলিক পরিসর এবং ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের পরিবর্তনও থাকবে।
মোহেব্বির ভাষায়, ‘আমরা নতুন সক্ষমতাসম্পন্ন নতুন অস্ত্র যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে আসব। বিশ্ব অবাক হয়ে যাবে।’
নতুন লক্ষ্যেও হামলার হুমকি
আইআরজিসির এই মুখপাত্র আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্য আগের হামলার জায়গাগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না।
তিনি বলেন, ইরানের হাতে এখন এমন নতুন লক্ষ্য রয়েছে, যেগুলোতে এর আগে হামলা চালানো হয়নি।
অর্থাৎ, যুক্তরাষ্ট্র যদি আবারও ইরানে হামলা চালায়, তাহলে ইরানের পাল্টা আক্রমণের ধরন ও লক্ষ্য—দুটিই আগের তুলনায় ভিন্ন হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রকে ‘ঐতিহাসিক পরাজিত’ দাবি
মোহেব্বি একই সঙ্গে দাবি করেছেন, চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র পরাজিত হয়েছে। তিনি এই পরাজয়কে ‘ঐতিহাসিক ও অপমানজনক’ বলেও মন্তব্য করেন।
তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র এই পরাজয় স্বীকার করার সাহস পাচ্ছে না।
তিনি এর পক্ষে কয়েকটি যুক্তিও তুলে ধরেন। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে তিনি হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করেন।
মোহেব্বির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক সক্ষমতার প্রায় পুরোটা ব্যবহার করেও হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলতে পারেনি। ইরান যৌথ যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি হামলার জবাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছে বলে আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
উপসাগরীয় মার্কিন ঘাঁটি নিয়েও হুঁশিয়ারি
ইরানের সামরিক ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে মোহেব্বি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো এখন দেশটির জন্য নিরাপত্তার বদলে ‘দায়’ হয়ে উঠেছে।
তার দাবি, এসব ঘাঁটি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে স্থাপন করা হলেও ইরানের হামলার পর পরিস্থিতি উল্টো হয়েছে।
তিনি আরও দাবি করেন, উপসাগরীয় অঞ্চল ও উত্তর ইরাকে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কেন্দ্রগুলোতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। তার মতে, এসব হামলা প্রমাণ করেছে যে ওই স্থাপনাগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতার মধ্যে রয়েছে।
মোহেব্বি এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘বড় ধরনের গোয়েন্দা ব্যর্থতা’ হিসেবেও বর্ণনা করেন।
তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।
আলোচনা ফেরানোর চেষ্টা কাতারের
এদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরুর উদ্যোগ নিয়েছে কাতার। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চলছে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, আলোচনায় অচলাবস্থা কাটাতে মধ্যস্থতাকারীরা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যোগাযোগ করছেন।
দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকটি প্রস্তাবও আদান-প্রদান হচ্ছে বলে জানান তিনি। মূল লক্ষ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও আলোচনা শুরু করার মতো একটি সমঝোতার জায়গা তৈরি করা।
ফলে একদিকে যখন ইরান নতুন অস্ত্র ও নতুন লক্ষ্য নিয়ে কঠোর সামরিক বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে কূটনৈতিকভাবে সংঘাত কমানোর চেষ্টাও চলছে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা অনেকটাই নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরান-ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য আলোচনার অগ্রগতির ওপর।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 



















