০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ইউক্রেনের হাজার ড্রোন হামলার পর জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ ড্রোনের আঘাত, আহত ৫ ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আসছে বিরল খনিজের অবস্থানে নরম ট্রাম্প, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে বদলেছে সুর ইউক্রেনের মতো অপ্রস্তুত কি ইউরোপও? রাশিয়ার নির্বাচনে পুতিনপন্থি দলের বড় জয়, ৫৭ শতাংশের বেশি ভোট দুই মাসেই ১৪০ শতাংশ উত্থান: ইন্দো-এমআইএমকে ঘিরে বাজারের নতুন প্রত্যাশা ইরানের নতুন অস্ত্র নিয়ে আইআরজিসির হুঁশিয়ারি, ‘বিশ্ব অবাক হবে’ দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে ভোটার তালিকা জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তের পথ ফের খুলল লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়তি: বছরে মানুষের পকেট থেকে যাবে প্রায় ১৫–১৬ হাজার কোটি লালমনিরহাটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তেই পাম্পে দীর্ঘ লাইন, মধ্যরাতের আগে বিক্রিতে অনীহা

এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

বিশ্বজুড়ে এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় আবারও এইডস মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় নতুন সংক্রমণ ও এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কমলেও অর্থের সংকটে সেই অগ্রগতি এখন ঝুঁকির মুখে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এইচআইভি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমেছে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এইডস-সম্পর্কিত অসুস্থতায় মারা গেছেন প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

কমেছে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন

২০২৫ সালে এইচআইভি কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ১৮ শতাংশ কমে ৭৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন অর্থায়নের মাত্রা। অর্থের এই ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সংক্রমণ প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং আক্রান্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন কিছুটা ঘাটতি পূরণ করলেও সব দেশ সেই চাপ সামাল দিতে পারেনি। বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলের দেশগুলোতে এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশ্বে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকই এই অঞ্চলে ঘটে।

প্রতিরোধ কর্মসূচিতেই বড় ধাক্কা

অর্থের সংকটে আক্রান্ত হওয়ার আগে এইচআইভি প্রতিরোধে যেসব সেবা দেওয়া হয়, সেগুলো সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষা, পরামর্শ, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েছে।

HIV funding going down globally, AIDS experts warn

ক্যামেরুন, নাইজেরিয়া ও জাম্বিয়ার জাতীয় তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রতিরোধমূলক ওষুধ গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ফলে নতুন সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। (

২০৩০ সালের লক্ষ্য নিয়ে উদ্বেগ

এইডসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার বৈশ্বিক লক্ষ্য এখনও অর্জনের পথে নেই। অর্থায়নের ঘাটতির পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য সংকটও এই অগ্রগতিকে ধীর করে দিচ্ছে। (

তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও কার্যকর উদ্যোগের সুফল যে পাওয়া সম্ভব, তার প্রমাণও রয়েছে। ২০১০ সালের তুলনায় অনেক দেশে নতুন সংক্রমণ ও এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু এই অর্জন ধরে রাখতে হলে চিকিৎসা, পরীক্ষা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে ধারাবাহিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। (

বিজ্ঞান এগোলেও সবার কাছে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ

এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন ওষুধ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। মাসিক ও ছয় মাস অন্তর গ্রহণযোগ্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থাও সামনে আসছে। কিন্তু এসব নতুন সুবিধা সবার নাগালের মধ্যে না এলে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনের হাজার ড্রোন হামলার পর জাপোরিঝঝিয়ায় রুশ ড্রোনের আঘাত, আহত ৫

এইডস প্রতিরোধে অর্থসংকট, বিশ্বজুড়ে আবারও এইচআইভি সংক্রমণ বাড়ার শঙ্কা

০৮:১৫:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

বিশ্বজুড়ে এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কার্যক্রমে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় আবারও এইডস মহামারি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় নতুন সংক্রমণ ও এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যুর হার কমলেও অর্থের সংকটে সেই অগ্রগতি এখন ঝুঁকির মুখে।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এইচআইভি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক অর্থায়ন প্রায় এক-পঞ্চমাংশ কমেছে। একই সময়ে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২ লাখ মানুষ নতুন করে এইচআইভিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এইডস-সম্পর্কিত অসুস্থতায় মারা গেছেন প্রায় ৫ লাখ ৭০ হাজার মানুষ।

কমেছে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন

২০২৫ সালে এইচআইভি কর্মসূচিতে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ১৮ শতাংশ কমে ৭৩০ কোটি ডলারে নেমেছে। প্রায় দুই দশকের মধ্যে এটিই সর্বনিম্ন অর্থায়নের মাত্রা। অর্থের এই ঘাটতির প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ছে সংক্রমণ প্রতিরোধ, পরীক্ষা এবং আক্রান্ত মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থায়ন কিছুটা ঘাটতি পূরণ করলেও সব দেশ সেই চাপ সামাল দিতে পারেনি। বিশেষ করে আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চলের দেশগুলোতে এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বিশ্বে নতুন এইচআইভি সংক্রমণের প্রায় অর্ধেকই এই অঞ্চলে ঘটে।

প্রতিরোধ কর্মসূচিতেই বড় ধাক্কা

অর্থের সংকটে আক্রান্ত হওয়ার আগে এইচআইভি প্রতিরোধে যেসব সেবা দেওয়া হয়, সেগুলো সবচেয়ে বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। পরীক্ষা, পরামর্শ, প্রতিরোধমূলক ওষুধ এবং স্থানীয় পর্যায়ে পরিচালিত বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে এর প্রভাব পড়েছে।

HIV funding going down globally, AIDS experts warn

ক্যামেরুন, নাইজেরিয়া ও জাম্বিয়ার জাতীয় তথ্য অনুযায়ী, এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে আগাম প্রতিরোধমূলক ওষুধ গ্রহণকারী মানুষের সংখ্যা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ফলে নতুন সংক্রমণ ঠেকানোর ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে। (

২০৩০ সালের লক্ষ্য নিয়ে উদ্বেগ

এইডসকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার বৈশ্বিক লক্ষ্য এখনও অর্জনের পথে নেই। অর্থায়নের ঘাটতির পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্য সংকটও এই অগ্রগতিকে ধীর করে দিচ্ছে। (

তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ ও কার্যকর উদ্যোগের সুফল যে পাওয়া সম্ভব, তার প্রমাণও রয়েছে। ২০১০ সালের তুলনায় অনেক দেশে নতুন সংক্রমণ ও এইডস-সম্পর্কিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। কিন্তু এই অর্জন ধরে রাখতে হলে চিকিৎসা, পরীক্ষা ও প্রতিরোধ কার্যক্রমে ধারাবাহিক অর্থায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। (

বিজ্ঞান এগোলেও সবার কাছে পৌঁছানো বড় চ্যালেঞ্জ

এইচআইভি প্রতিরোধে নতুন ওষুধ ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা নিয়ে বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। মাসিক ও ছয় মাস অন্তর গ্রহণযোগ্য প্রতিরোধমূলক চিকিৎসা ব্যবস্থাও সামনে আসছে। কিন্তু এসব নতুন সুবিধা সবার নাগালের মধ্যে না এলে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।