০২:৫৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ জুন ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ ইরানের ফিফা বিশ্বকাপের টিকেট বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র কুয়েতে ড্রোন হামলায় ৫ বাংলাদেশি আহত, দূতাবাস মাঠে ইরান-ইসরায়েল আবার থামল, কিন্তু শান্তি কতটা টেকসই? ব্যাংক অ্যাকাউন্টে TIN বাধ্যতামূলক হচ্ছে, কোটি গ্রাহকের জীবনে বড় পরিবর্তন টাঙ্গাইলে পিকআপ-ট্রাক সংঘর্ষে ৪ জন নিহত নতুন নির্বাচন কমিশনে প্রাক্তন আমলার নাম, সুপ্রিম কোর্টে বিচার বিভাগীয় স্বাধীনতার শুনানি ১৬ জুন রামিসা হত্যা: ১৯ দিনে ফাঁসির রায়, দেশজুড়ে স্বস্তি ইসলামী ব্যাংকে সংকট: সাত দিনে উঠে গেল ৪ হাজার কোটি টাকারও বেশি লাজুক জুঁই

মধ্যবিত্তের ভরসা এখন ভ্যানের বাজার, বদলে যাচ্ছে ঢাকার কেনাকাটার সংস্কৃতি

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে দ্রুত বদলে যাচ্ছে মানুষের কেনাকাটার ধরন। একসময় পাড়া-মহল্লায় সীমিত কিছু পণ্য নিয়ে ভ্যান ঘুরে বেড়ালেও এখন সেই ভ্যানই অনেক এলাকায় রূপ নিয়েছে চলমান বাজারে। রাজধানীর অলিগলি, আবাসিক এলাকা ও গলির মুখজুড়ে প্রতিদিন দেখা মিলছে নানা ধরনের পণ্যে সাজানো ভ্যানের।

শাকসবজি, মাছ, মুরগি, ফলমূল থেকে শুরু করে কাপড়, বেডশিট, পর্দা, ক্রোকারিজ, ঘর সাজানোর উপকরণ, এমনকি ফুল ও গাছও বিক্রি হচ্ছে এসব ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় একটি অংশ এখন বাজার বা শপিংমলের বদলে বাসার সামনেই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিচ্ছেন সহজে ও কম খরচে।

কম দামে সহজ কেনাকাটার সুবিধা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা বলছেন, যানজট আর বাজারে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে ভ্যান এখন অনেকের কাছে স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। বাসার নিচে বা গলির মুখেই প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যাচ্ছে বলে সময়ও বাঁচছে, খরচও কমছে। দরদামের সুযোগ থাকায় অনেকেই দোকানের চেয়ে ভ্যানকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন।

মালিবাগের বাসিন্দা শামীম হাসান ছেলের জন্য ভ্যান থেকে গেঞ্জি কিনেছেন। তার ভাষ্য, ভ্যানের কাপড় হলেও মান ভালো থাকে, আবার দোকানের তুলনায় দামও কম। তাই মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন শান্তিনগরের নূরজাহান বেগম। তিনি বলেন, এখন আর আলাদা করে বাজারে যেতে হয় না। বাসার নিচেই সবজি, ফল, মাছ কিংবা মুরগির ভ্যান চলে আসে। ফলে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কেনা সম্ভব হচ্ছে।

মধ্যবিত্তের 'ভ্যানটেক্স'

রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ভ্রাম্যমাণ বাজার

রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, পশ্চিম ধানমন্ডি ও রাজাবাজারসহ মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত ঘুরছে এসব ভ্যান। সকালে সবজি ও মাছের ভ্যান, বিকেলে কাপড় বা গৃহস্থালি পণ্যের ভ্যান এবং সন্ধ্যায় ফল কিংবা খাবারের ভ্যান দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সড়ক ও গলিতে।

অনেক বিক্রেতা আবার হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। এতে এলাকার বাসিন্দারাও সহজে জানতে পারছেন কোন ভ্যানে কী ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদেরও বাড়ছে আয়

ভ্যানভিত্তিক এই ব্যবসা শুধু ক্রেতাদের জন্য সুবিধা তৈরি করছে না, বিক্রেতাদের জন্যও হয়ে উঠছে আয়ের নতুন সুযোগ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল কিংবা অতিরিক্ত কর্মচারী খরচ না থাকায় তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন।

এতে একদিকে তাদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রেতারাও সহনীয় দামে প্রয়োজনীয় জিনিস পাচ্ছেন। ফলে নগরজীবনের ব্যস্ততা, সীমিত আয় ও সময় সংকটের বাস্তবতায় ঢাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে নতুন এক ভ্রাম্যমাণ বাজার সংস্কৃতি।

বর্তমানে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এই ভ্যানের বাজারই হয়ে উঠছে দৈনন্দিন কেনাকাটার অন্যতম নির্ভরতার জায়গা।

ঢাকায় জনপ্রিয় হচ্ছে ভ্যানের বাজার, কম দামে বাসার সামনে মিলছে প্রয়োজনীয় পণ্য। মধ্যবিত্তের কেনাকাটার ধরনে আসছে বড় পরিবর্তন।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে বাংলাদেশি শ্রমিকদের স্বপ্ন অনিশ্চিত, রেমিট্যান্সেও চাপ

মধ্যবিত্তের ভরসা এখন ভ্যানের বাজার, বদলে যাচ্ছে ঢাকার কেনাকাটার সংস্কৃতি

০৭:১৩:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

ঢাকার ব্যস্ত নগরজীবনে দ্রুত বদলে যাচ্ছে মানুষের কেনাকাটার ধরন। একসময় পাড়া-মহল্লায় সীমিত কিছু পণ্য নিয়ে ভ্যান ঘুরে বেড়ালেও এখন সেই ভ্যানই অনেক এলাকায় রূপ নিয়েছে চলমান বাজারে। রাজধানীর অলিগলি, আবাসিক এলাকা ও গলির মুখজুড়ে প্রতিদিন দেখা মিলছে নানা ধরনের পণ্যে সাজানো ভ্যানের।

শাকসবজি, মাছ, মুরগি, ফলমূল থেকে শুরু করে কাপড়, বেডশিট, পর্দা, ক্রোকারিজ, ঘর সাজানোর উপকরণ, এমনকি ফুল ও গাছও বিক্রি হচ্ছে এসব ভ্রাম্যমাণ ভ্যানে। ফলে মধ্যবিত্ত পরিবারের বড় একটি অংশ এখন বাজার বা শপিংমলের বদলে বাসার সামনেই প্রয়োজনীয় জিনিস কিনে নিচ্ছেন সহজে ও কম খরচে।

কম দামে সহজ কেনাকাটার সুবিধা

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা বলছেন, যানজট আর বাজারে যাওয়ার ঝামেলা এড়াতে ভ্যান এখন অনেকের কাছে স্বস্তির জায়গা হয়ে উঠেছে। বাসার নিচে বা গলির মুখেই প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যাচ্ছে বলে সময়ও বাঁচছে, খরচও কমছে। দরদামের সুযোগ থাকায় অনেকেই দোকানের চেয়ে ভ্যানকে বেশি সুবিধাজনক মনে করছেন।

মালিবাগের বাসিন্দা শামীম হাসান ছেলের জন্য ভ্যান থেকে গেঞ্জি কিনেছেন। তার ভাষ্য, ভ্যানের কাপড় হলেও মান ভালো থাকে, আবার দোকানের তুলনায় দামও কম। তাই মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে।

একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন শান্তিনগরের নূরজাহান বেগম। তিনি বলেন, এখন আর আলাদা করে বাজারে যেতে হয় না। বাসার নিচেই সবজি, ফল, মাছ কিংবা মুরগির ভ্যান চলে আসে। ফলে এক জায়গা থেকেই প্রয়োজনীয় অনেক কিছু কেনা সম্ভব হচ্ছে।

মধ্যবিত্তের 'ভ্যানটেক্স'

রাজধানীজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে ভ্রাম্যমাণ বাজার

রামপুরা, মালিবাগ, শান্তিনগর, মিরপুর, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, পশ্চিম ধানমন্ডি ও রাজাবাজারসহ মধ্যবিত্ত অধ্যুষিত বিভিন্ন এলাকায় এখন নিয়মিত ঘুরছে এসব ভ্যান। সকালে সবজি ও মাছের ভ্যান, বিকেলে কাপড় বা গৃহস্থালি পণ্যের ভ্যান এবং সন্ধ্যায় ফল কিংবা খাবারের ভ্যান দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সড়ক ও গলিতে।

অনেক বিক্রেতা আবার হ্যান্ডমাইক ব্যবহার করে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। এতে এলাকার বাসিন্দারাও সহজে জানতে পারছেন কোন ভ্যানে কী ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতাদেরও বাড়ছে আয়

ভ্যানভিত্তিক এই ব্যবসা শুধু ক্রেতাদের জন্য সুবিধা তৈরি করছে না, বিক্রেতাদের জন্যও হয়ে উঠছে আয়ের নতুন সুযোগ। ব্যবসায়ীরা বলছেন, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল কিংবা অতিরিক্ত কর্মচারী খরচ না থাকায় তারা তুলনামূলক কম দামে পণ্য বিক্রি করতে পারছেন।

এতে একদিকে তাদের আয় বাড়ছে, অন্যদিকে ক্রেতারাও সহনীয় দামে প্রয়োজনীয় জিনিস পাচ্ছেন। ফলে নগরজীবনের ব্যস্ততা, সীমিত আয় ও সময় সংকটের বাস্তবতায় ঢাকায় ধীরে ধীরে গড়ে উঠছে নতুন এক ভ্রাম্যমাণ বাজার সংস্কৃতি।

বর্তমানে অনেক মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এই ভ্যানের বাজারই হয়ে উঠছে দৈনন্দিন কেনাকাটার অন্যতম নির্ভরতার জায়গা।

ঢাকায় জনপ্রিয় হচ্ছে ভ্যানের বাজার, কম দামে বাসার সামনে মিলছে প্রয়োজনীয় পণ্য। মধ্যবিত্তের কেনাকাটার ধরনে আসছে বড় পরিবর্তন।