১০:২০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬
জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি নিউইয়র্কে মোহন ভাগবতের অনুষ্ঠান আয়োজকদের এক্স অ্যাকাউন্ট স্থগিত ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন হুইপসহ ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ‘টুকু আসে, টুকু যায়’—সংসদে জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে রুমিনের কড়া সমালোচনা কঙ্গোয় ইবোলা মহামারি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, ৩ মাসে মৃত্যু ২,৫০০ ছাড়িয়েছে ‘ইনট্রিনসিক ক্যাপাসিটি’: সুস্থভাবে বার্ধক্য মাপার নতুন বৈজ্ঞানিক সূচক নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ কাদের গনি চৌধুরী হলেন বিএসএসের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক সেচ দিতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট বাবা-ছেলের মৃত্যু গোপালগঞ্জে ইউএস ওপেনে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় আরিনা সাবালেঙ্কার

নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত নজরুল রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাঁর লেখনী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।

বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে সেখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

নানা আয়োজনে স্মরণ

এবারও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম স্মরণে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে।

বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিও দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি আয়োজন করেছে।

সাহিত্য ও সংগীতে নজরুলের অনন্য উত্তরাধিকার

কাজী নজরুল ইসলাম বিপুলসংখ্যক কবিতা ও গান রচনা করেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন ধর্মীয় অনুরাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রকাশ রয়েছে, তেমনি অন্যায়, নিপীড়ন ও সব ধরনের শোষণের বিরুদ্ধে রয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। এ কারণেই তাঁর সাহিত্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভারত সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ১৯৭২ সালের ২৪ মে পরিবারসহ তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

বাংলাদেশে নজরুলের মর্যাদা

ঢাকায় আসার পর কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ধানমন্ডিতে তাঁকে রাষ্ট্রীয় আবাসন দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছর তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নজরুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের বড় বড় আন্দোলনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রেরণা রয়েছে।

 

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানি নিরাপত্তার টেকসই পথ হতে পারে নবায়নযোগ্য শক্তি

নজরুলের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত, কবির প্রেরণায় আন্দোলনের কথা স্মরণ

০৯:০৩:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৫০তম মৃত্যুবার্ষিকী বৃহস্পতিবার নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত নজরুল রাজনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পক্ষে তাঁর লেখনী ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছিলেন।

বাংলা ১৩৮৩ সালের ১২ ভাদ্র, ১৯৭৬ সালের ২৯ আগস্ট ঢাকায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন কাজী নজরুল ইসলাম। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৭ বছর। পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে সমাহিত করা হয়। প্রতিবছর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে সেখানে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

নানা আয়োজনে স্মরণ

এবারও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন কবির জীবন ও সাহিত্যকর্ম স্মরণে বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোও নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার করেছে।

বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে কোরআনখানি অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা কবির সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানান।

জাতীয় কবির মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিও দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি আয়োজন করেছে।

সাহিত্য ও সংগীতে নজরুলের অনন্য উত্তরাধিকার

কাজী নজরুল ইসলাম বিপুলসংখ্যক কবিতা ও গান রচনা করেছেন। তাঁর সৃষ্টিতে যেমন ধর্মীয় অনুরাগ ও আধ্যাত্মিকতার প্রকাশ রয়েছে, তেমনি অন্যায়, নিপীড়ন ও সব ধরনের শোষণের বিরুদ্ধে রয়েছে তীব্র প্রতিবাদ। এ কারণেই তাঁর সাহিত্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের ইতিহাসেও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।

নজরুলের জন্ম ১৮৯৯ সালের ২৪ মে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ভারত সরকারের বিশেষ অনুমতি নিয়ে ১৯৭২ সালের ২৪ মে পরিবারসহ তাঁকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়।

বাংলাদেশে নজরুলের মর্যাদা

ঢাকায় আসার পর কাজী নজরুল ইসলামকে জাতীয় কবির মর্যাদা দেওয়া হয়। ধানমন্ডিতে তাঁকে রাষ্ট্রীয় আবাসন দেওয়া হয়। ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে সম্মানসূচক ডি.লিট ডিগ্রি প্রদান করে। ১৯৭৬ সালে তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং একই বছর তাঁকে একুশে পদকে ভূষিত করা হয়।

এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নজরুলের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত দেশের বড় বড় আন্দোলনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রেরণা রয়েছে।