গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চর বরফা গ্রামে জমিতে সেচ দেওয়ার সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবা ও ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন এনায়েত খান (৪০), তিনি প্রয়াত শামসু খানের ছেলে, এবং তার ১২ বছর বয়সী ছেলে মেহেদী হাসান খান। মেহেদী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
সেচ দিতে গিয়ে দুর্ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে এনায়েত খান তার ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে জমিতে সেচ দিতে যান। জমিতে পানি দেওয়ার জন্য তারা বৈদ্যুতিক পানির পাম্প ব্যবহার করছিলেন।
একপর্যায়ে বৈদ্যুতিক মোটর নিয়ে কাজ করার সময় এনায়েত বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। বাবাকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখে তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে মেহেদীও বিদ্যুতের সংস্পর্শে আসে। এতে সেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়।
পরে স্বজনরা দ্রুত বাবা-ছেলেকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে নেওয়ার পর দুজনকেই মৃত ঘোষণা
গোপিনাথপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মোহাম্মদ ইকরাম হোসেন জানান, এনায়েত খান ও তার ছেলে মেহেদী হাসান খানকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, জমিতে সেচ দেওয়ার মতো স্বাভাবিক একটি কাজ করতে গিয়েই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলেও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ায় একই ঘটনায় প্রাণ হারান বাবা ও ছেলে।
ঘটনাটি এলাকায় শোকের আবহ তৈরি করেছে। নিহত মেহেদী স্থানীয় বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হওয়ায় তার মৃত্যুতে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে গভীর শোক নেমে এসেছে।
সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















