০৫:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
প্যারাকোয়াটের মরণফাঁদ: সস্তা আগাছানাশকে ঝরছে শত শত প্রাণ নীতিনির্ধারকদের জন্য বাজারের সতর্কবার্তা: ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতিতে আস্থার সংকট কতটা গভীর? পেটের মেদ বাড়লে বাড়ে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি, জানুন নিয়ন্ত্রণের কার্যকর উপায় ধর্ষণ মামলার পর আত্মগোপন, অপহরণের দাবিও ভুয়া: শিবির নেতার বিরুদ্ধে নতুন বিতর্ক সিঙ্গুরে টাটাদের ফেরানোর আশ্বাস, বিনিয়োগ টানতে নতুন রোডম্যাপের ইঙ্গিত ইরানঘেঁষা তেলবাহী জাহাজে হামলা ঘিরে উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া প্রতিবাদ ভারতের ব্রিটেনে রাষ্ট্রীয় মালিকানা বিতর্ক নতুন করে জোরালো, কিন্তু সমাধান কি সত্যিই সেখানে?  ভারতে  খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় মে মাসে মূল্যস্ফীতি ৩.৯ শতাংশে, ১৬ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ন্যাটোর দিকে ঝুঁকছে তুরস্ক, বদলে যাচ্ছে আঙ্কারার কৌশল বিশ্বকাপের ইতিহাসে বিতর্কের ছায়া, কেলেঙ্কারি পেরিয়েই ফুটবলের মহোৎসব

২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম, দেশে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল

বাংলাদেশে গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরে দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জন হাম-সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৫০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

একই সময়ে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ জনে। এর মধ্যে ৬৯ জনের মৃত্যু সরাসরি হামজনিত বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশই শিশু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তা!

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ মে সকাল পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৩ হাজার ৮৩২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের এই পরিস্থিতি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। কারণ কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশ হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল।

২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে দেশে কখনও হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে ২০০৫ সালে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। সে সময় আক্রান্ত হয়েছিল ২৫ হাজার ৯৩৪ জন।

পরবর্তী সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসে। ২০২০ সালে আক্রান্ত ছিল ২ হাজার ৪১০ জন। ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২০৩ জনে। এরপর ২০২২ সালে ৩১১, ২০২৩ সালে ২৮১ এবং ২০২৪ সালে ২৪৭ জন আক্রান্ত হয়। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ১৩২ জন। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

এক দিনে আরো ৮ মৃত্যু, হামে শিশুমৃত্যু ২০০ ছাড়াল

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যখন হাম নির্মূলের লক্ষ্যে এগোচ্ছিল, তখন টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা বড় প্রাদুর্ভাবের পথ তৈরি করেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ানোর পর এটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন ছিল। তার মতে, এমন ঘোষণা না হওয়ায় প্রতিরোধ কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ভাইরোলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবা জামিল বলেন, চলতি বছরে অস্বাভাবিক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট করা দেশগুলোর তালিকায় এখন বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। এর আগে ভারত, ইউক্রেন, মাদাগাস্কার ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে বড় ধরনের হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার

 

জনপ্রিয় সংবাদ

প্যারাকোয়াটের মরণফাঁদ: সস্তা আগাছানাশকে ঝরছে শত শত প্রাণ

২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম, দেশে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল

০৩:৪১:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বাংলাদেশে গত ২৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় হাম প্রাদুর্ভাবের ঘটনা ঘটেছে। চলতি বছরে দেশে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশে মোট ৫৩ হাজার ৫৬ জন হাম-সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৭ হাজার ১৫০ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।

একই সময়ে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬৩ জনে। এর মধ্যে ৬৯ জনের মৃত্যু সরাসরি হামজনিত বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আক্রান্ত ও মৃতদের বড় অংশই শিশু হওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

হাসপাতালে বাড়ছে চাপ

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষ সতর্কবার্তা!

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৩ মে সকাল পর্যন্ত ৩৮ হাজার ৫৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩৩ হাজার ৮৩২ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল ছেড়েছেন। তবে এখনও বিপুলসংখ্যক রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি বছরের এই পরিস্থিতি দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। কারণ কয়েক বছর আগেও বাংলাদেশ হাম নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছিল।

২৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ সংক্রমণ

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত ২৫ বছরে দেশে কখনও হাম আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ায়নি। এর আগে ২০০৫ সালে সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। সে সময় আক্রান্ত হয়েছিল ২৫ হাজার ৯৩৪ জন।

পরবর্তী সময়ে আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসে। ২০২০ সালে আক্রান্ত ছিল ২ হাজার ৪১০ জন। ২০২১ সালে তা কমে দাঁড়ায় ২০৩ জনে। এরপর ২০২২ সালে ৩১১, ২০২৩ সালে ২৮১ এবং ২০২৪ সালে ২৪৭ জন আক্রান্ত হয়। ২০২৫ সালে আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ১৩২ জন। কিন্তু চলতি বছরের শুরু থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হতে থাকে।

এক দিনে আরো ৮ মৃত্যু, হামে শিশুমৃত্যু ২০০ ছাড়াল

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশ যখন হাম নির্মূলের লক্ষ্যে এগোচ্ছিল, তখন টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি এবং সমন্বিত প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতা বড় প্রাদুর্ভাবের পথ তৈরি করেছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মোশতাক হোসেন বলেন, আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়ানোর পর এটিকে জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা প্রয়োজন ছিল। তার মতে, এমন ঘোষণা না হওয়ায় প্রতিরোধ কার্যক্রমে সমন্বয়ের ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে ভাইরোলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মাহবুবা জামিল বলেন, চলতি বছরে অস্বাভাবিক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সংক্রমণ কমতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

বিশ্বে পঞ্চম বাংলাদেশ

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এক বছরে ৫০ হাজারের বেশি হাম আক্রান্তের ঘটনা রিপোর্ট করা দেশগুলোর তালিকায় এখন বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম। এর আগে ভারত, ইউক্রেন, মাদাগাস্কার ও কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে বড় ধরনের হাম প্রাদুর্ভাব দেখা গেছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দ্রুত টিকাদান জোরদার করা না গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নাম প্রত্যাহার