০৫:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
একাধিকবার শি জিনপিংকে “মহান নেতা” বললেন ট্রাম্প, বেইজিং বৈঠকে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা ইরানে আবার যুদ্ধের শঙ্কা, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তায় তেহরানের পথে সাধারণ মানুষ কিউবায় ভয়াবহ জ্বালানি সংকট, দিনে ২২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎহীন রাজধানী কোরবানির আগে মসলার বাজারে স্বস্তি, তবে খুচরায় বাড়তি দামে চাপ ক্রেতাদের চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা স্টারমার সংকটে ব্রিটিশ রাজনীতির গভীর অসুখ ২৫ বছরের রেকর্ড ভাঙল হাম, দেশে আক্রান্ত ৫০ হাজার ছাড়াল ঢাকার শিশুদের দিনে প্রায় ৫ ঘণ্টা স্ক্রিনে আসক্তি, বাড়ছে ঘুমের সমস্যা ও মানসিক ঝুঁকি জেলবন্দী  অবস্থায়  গুরুতর অসুস্থ হওয়া  আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনের প্রথম জানাজায় মানুষের ঢল  চট্টগ্রামে গুলিবিদ্ধ শিশু রেশমির মৃত্যু, আইসিইউতে শেষ নিঃশ্বাস

চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা

বিশ্বজুড়ে চীনকে নিয়ে যে অর্থনৈতিক বিতর্ক চলছে, তার অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় প্রতিটি আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস, গবেষণা বা বিশ্লেষণে একটি কথাই ঘুরেফিরে এসেছে—চীন দ্রুত বৃদ্ধ সমাজে পরিণত হচ্ছে, আর সেটিই হয়তো তার অর্থনৈতিক উত্থানের শেষ অধ্যায় লিখবে। “ধনী হওয়ার আগেই বুড়িয়ে যাওয়া” — এই বাক্যটি এখন চীন বিশ্লেষণের প্রায় বাধ্যতামূলক উপমা।

কিন্তু বাস্তবতা কি এত সরল? জনসংখ্যা কমে যাওয়া কি অবধারিতভাবেই অর্থনৈতিক পতনের সমার্থক? নাকি আমরা এমন এক রূপান্তরকে “সংকট” হিসেবে দেখছি, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে নতুন ধরনের অভিযোজনের সক্ষমতা?

চীনের জনসংখ্যা পরিস্থিতিকে শুধুমাত্র জন্মহার কমে যাওয়া বা মৃত্যুহার বাড়ার হিসাব দিয়ে বোঝা কঠিন। কারণ এখানে সংখ্যার পাশাপাশি কাজ করছে ভূগোল, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা। ফলে এই পরিবর্তনকে যদি কেবল “জনসংখ্যাগত বিপর্যয়” বলা হয়, তাহলে তা বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়াল করে ফেলে।

Is China's Population Decline a Luxury Disaster? | Jing Daily

চীনের অভ্যন্তরে ইতোমধ্যে এক ধরনের জনসংখ্যা পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে। দেশের অধিকাংশ প্রদেশে জনসংখ্যা কমলেও উপকূলীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো—বিশেষত গুয়াংডং বা ঝেজিয়াংয়ের মতো অঞ্চল—এখনও মানুষ আকর্ষণ করছে। অর্থাৎ মানুষ কমছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তারা উৎপাদনশীল অঞ্চলগুলোতে কেন্দ্রীভূতও হচ্ছে। উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প এবং উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা এই অভিবাসনকে ত্বরান্বিত করছে।

এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসজুড়েই অর্থনৈতিক শক্তি সাধারণত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে ঘনীভূত হয়েছে। আজকের চীনেও সেটিই ঘটছে। বিশাল অভ্যন্তরীণ অঞ্চল ধীরে ধীরে কম জনবহুল হলেও উপকূলীয় অঞ্চলগুলো আরও দক্ষ, আরও উৎপাদনক্ষম হয়ে উঠছে। এর ফলে কৃষিখাতেও বড় আকারের যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হচ্ছে, যা কম শ্রমশক্তি দিয়েও বেশি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করছে।

জনসংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো শ্রমশক্তি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা। কিন্তু এখানে আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ—কী ধরনের শ্রমশক্তি কমছে? আজকের চীনা তরুণ জনগোষ্ঠী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শিক্ষিত, প্রযুক্তি-সচেতন এবং দক্ষ। ফলে মোট মানুষের সংখ্যা কমলেও মাথাপিছু উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

চীন এখন এমন এক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সস্তা শ্রম নয়, বরং উচ্চ দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন হবে মূল চালিকা শক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিকস এবং উন্নত শিল্পপ্রযুক্তি এই রূপান্তরকে আরও দ্রুত করছে। তাই “কম মানুষ মানেই দুর্বল অর্থনীতি” — এই পুরোনো ধারণা ভবিষ্যতের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খায় না।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের বৈশ্বিক কৌশল। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে বেইজিং গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার তরুণ জনসংখ্যাসম্পন্ন অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে। চীনের ভেতরে শ্রমশক্তি কমলেও বাইরের বাজার, উৎপাদন এবং মানবসম্পদের সঙ্গে সংযোগ তার জন্য বিকল্প সুযোগ তৈরি করছে।

China's bureaucrats are thinking of forcing people to have 3 kids, as population  decline accelerates - Mercator

তবে এই আশাবাদকে অন্ধ আশাবাদ ভাবারও সুযোগ নেই। কারণ সময় এখানে বড় একটি ফ্যাক্টর। চীন যদি দ্রুত জন্মহার স্থিতিশীল করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে অল্পসংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর উৎপাদন এবং সামাজিক ব্যয়ের চাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধিরও একটি সীমা আছে। একসময় “দক্ষতার উন্নতি” আর আগের মতো উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম নাও হতে পারে।

তবু চীনের অবস্থানকে জাপান বা ইউরোপের বৃদ্ধ সমাজগুলোর সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা বিভ্রান্তিকর। কারণ তাদের কেউই কখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প চালায়নি। চীনের এক সন্তান নীতি ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রকৌশলগুলোর একটি। ফলে জনসংখ্যা হ্রাসের বাস্তবতা চীনের নীতিনির্ধারণে বহু দশক ধরেই বিবেচনায় ছিল। অন্য অনেক ধনী দেশ বৃদ্ধ সমাজে পরিণত হওয়ার পর সমস্যাটি বুঝতে শুরু করেছে, কিন্তু চীনকে এই বাস্তবতা আগেভাগেই মেনে নিতে হয়েছে।

এই জায়গাটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের শক্তি শুধু তার অর্থনীতিতে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন সক্ষমতায়। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে প্রায়ই বাজারের স্বতঃস্ফূর্ত সমাধানের ওপর নির্ভর করে, সেখানে চীন রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাকে ব্যবহার করেছে কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিন্তু এটাও সত্য যে চীন অন্তত সমস্যাটিকে অস্বীকার করেনি।

বিশ্বের অনেক বিশ্লেষক চীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে “ধসের গল্প” লিখতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাস্তবতা হয়তো আরও জটিল। জনসংখ্যা কমে যাওয়া অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ, তবে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পতনের সমার্থক নয়। কখনও কখনও সংকটই নতুন ধরনের অর্থনৈতিক মডেল তৈরির সুযোগ এনে দেয়।

চীনের সামনে সেই পরীক্ষাই এখন চলছে। আর সম্ভবত বিশ্ব এখনও নিশ্চিত নয়—এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত চীনের দুর্বলতা হয়ে উঠবে, নাকি সেটিই হবে তার পরবর্তী অভিযোজন ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

China's population falls, heralding a demographic crisis

জনপ্রিয় সংবাদ

একাধিকবার শি জিনপিংকে “মহান নেতা” বললেন ট্রাম্প, বেইজিং বৈঠকে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা

চীনের জনসংখ্যা সংকট: আতঙ্কের আড়ালে অন্য এক বাস্তবতা

০৩:৫৩:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬

বিশ্বজুড়ে চীনকে নিয়ে যে অর্থনৈতিক বিতর্ক চলছে, তার অন্যতম কেন্দ্রে রয়েছে দেশটির জনসংখ্যা হ্রাস। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় প্রতিটি আন্তর্জাতিক পূর্বাভাস, গবেষণা বা বিশ্লেষণে একটি কথাই ঘুরেফিরে এসেছে—চীন দ্রুত বৃদ্ধ সমাজে পরিণত হচ্ছে, আর সেটিই হয়তো তার অর্থনৈতিক উত্থানের শেষ অধ্যায় লিখবে। “ধনী হওয়ার আগেই বুড়িয়ে যাওয়া” — এই বাক্যটি এখন চীন বিশ্লেষণের প্রায় বাধ্যতামূলক উপমা।

কিন্তু বাস্তবতা কি এত সরল? জনসংখ্যা কমে যাওয়া কি অবধারিতভাবেই অর্থনৈতিক পতনের সমার্থক? নাকি আমরা এমন এক রূপান্তরকে “সংকট” হিসেবে দেখছি, যার ভেতরে লুকিয়ে আছে নতুন ধরনের অভিযোজনের সক্ষমতা?

চীনের জনসংখ্যা পরিস্থিতিকে শুধুমাত্র জন্মহার কমে যাওয়া বা মৃত্যুহার বাড়ার হিসাব দিয়ে বোঝা কঠিন। কারণ এখানে সংখ্যার পাশাপাশি কাজ করছে ভূগোল, অভ্যন্তরীণ অভিবাসন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং দীর্ঘমেয়াদি রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনা। ফলে এই পরিবর্তনকে যদি কেবল “জনসংখ্যাগত বিপর্যয়” বলা হয়, তাহলে তা বাস্তবতার বড় একটি অংশ আড়াল করে ফেলে।

Is China's Population Decline a Luxury Disaster? | Jing Daily

চীনের অভ্যন্তরে ইতোমধ্যে এক ধরনের জনসংখ্যা পুনর্বিন্যাস শুরু হয়েছে। দেশের অধিকাংশ প্রদেশে জনসংখ্যা কমলেও উপকূলীয় অর্থনৈতিক কেন্দ্রগুলো—বিশেষত গুয়াংডং বা ঝেজিয়াংয়ের মতো অঞ্চল—এখনও মানুষ আকর্ষণ করছে। অর্থাৎ মানুষ কমছে ঠিকই, কিন্তু একই সঙ্গে তারা উৎপাদনশীল অঞ্চলগুলোতে কেন্দ্রীভূতও হচ্ছে। উন্নত অবকাঠামো, প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প এবং উচ্চ আয়ের সম্ভাবনা এই অভিবাসনকে ত্বরান্বিত করছে।

এই প্রবণতা নতুন কিছু নয়। ইতিহাসজুড়েই অর্থনৈতিক শক্তি সাধারণত নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে ঘনীভূত হয়েছে। আজকের চীনেও সেটিই ঘটছে। বিশাল অভ্যন্তরীণ অঞ্চল ধীরে ধীরে কম জনবহুল হলেও উপকূলীয় অঞ্চলগুলো আরও দক্ষ, আরও উৎপাদনক্ষম হয়ে উঠছে। এর ফলে কৃষিখাতেও বড় আকারের যান্ত্রিকীকরণ সম্ভব হচ্ছে, যা কম শ্রমশক্তি দিয়েও বেশি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করছে।

জনসংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো শ্রমশক্তি সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা। কিন্তু এখানে আরেকটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ—কী ধরনের শ্রমশক্তি কমছে? আজকের চীনা তরুণ জনগোষ্ঠী আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি শিক্ষিত, প্রযুক্তি-সচেতন এবং দক্ষ। ফলে মোট মানুষের সংখ্যা কমলেও মাথাপিছু উৎপাদনশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

চীন এখন এমন এক অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, যেখানে সস্তা শ্রম নয়, বরং উচ্চ দক্ষতা এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন হবে মূল চালিকা শক্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অটোমেশন, রোবোটিকস এবং উন্নত শিল্পপ্রযুক্তি এই রূপান্তরকে আরও দ্রুত করছে। তাই “কম মানুষ মানেই দুর্বল অর্থনীতি” — এই পুরোনো ধারণা ভবিষ্যতের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি খাপ খায় না।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনের বৈশ্বিক কৌশল। বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের মাধ্যমে বেইজিং গত এক দশকে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং আফ্রিকার তরুণ জনসংখ্যাসম্পন্ন অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক তৈরি করেছে। চীনের ভেতরে শ্রমশক্তি কমলেও বাইরের বাজার, উৎপাদন এবং মানবসম্পদের সঙ্গে সংযোগ তার জন্য বিকল্প সুযোগ তৈরি করছে।

China's bureaucrats are thinking of forcing people to have 3 kids, as population  decline accelerates - Mercator

তবে এই আশাবাদকে অন্ধ আশাবাদ ভাবারও সুযোগ নেই। কারণ সময় এখানে বড় একটি ফ্যাক্টর। চীন যদি দ্রুত জন্মহার স্থিতিশীল করতে না পারে, তাহলে ভবিষ্যতে অল্পসংখ্যক কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ওপর উৎপাদন এবং সামাজিক ব্যয়ের চাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। শিক্ষা ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রবৃদ্ধিরও একটি সীমা আছে। একসময় “দক্ষতার উন্নতি” আর আগের মতো উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম নাও হতে পারে।

তবু চীনের অবস্থানকে জাপান বা ইউরোপের বৃদ্ধ সমাজগুলোর সঙ্গে সরাসরি তুলনা করা বিভ্রান্তিকর। কারণ তাদের কেউই কখনও রাষ্ট্রীয়ভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রকল্প চালায়নি। চীনের এক সন্তান নীতি ছিল মানব ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সামাজিক প্রকৌশলগুলোর একটি। ফলে জনসংখ্যা হ্রাসের বাস্তবতা চীনের নীতিনির্ধারণে বহু দশক ধরেই বিবেচনায় ছিল। অন্য অনেক ধনী দেশ বৃদ্ধ সমাজে পরিণত হওয়ার পর সমস্যাটি বুঝতে শুরু করেছে, কিন্তু চীনকে এই বাস্তবতা আগেভাগেই মেনে নিতে হয়েছে।

এই জায়গাটিই হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ চীনের শক্তি শুধু তার অর্থনীতিতে নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অভিযোজন সক্ষমতায়। পশ্চিমা বিশ্ব যেখানে প্রায়ই বাজারের স্বতঃস্ফূর্ত সমাধানের ওপর নির্ভর করে, সেখানে চীন রাষ্ট্রীয় পরিকল্পনাকে ব্যবহার করেছে কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য। সেই পরিকল্পনা সফল হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। কিন্তু এটাও সত্য যে চীন অন্তত সমস্যাটিকে অস্বীকার করেনি।

বিশ্বের অনেক বিশ্লেষক চীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে “ধসের গল্প” লিখতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাস্তবতা হয়তো আরও জটিল। জনসংখ্যা কমে যাওয়া অবশ্যই বড় চ্যালেঞ্জ, তবে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে পতনের সমার্থক নয়। কখনও কখনও সংকটই নতুন ধরনের অর্থনৈতিক মডেল তৈরির সুযোগ এনে দেয়।

চীনের সামনে সেই পরীক্ষাই এখন চলছে। আর সম্ভবত বিশ্ব এখনও নিশ্চিত নয়—এই পরিবর্তন শেষ পর্যন্ত চীনের দুর্বলতা হয়ে উঠবে, নাকি সেটিই হবে তার পরবর্তী অভিযোজন ক্ষমতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

China's population falls, heralding a demographic crisis