ফিলিপাইনের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে ভাইস প্রেসিডেন্ট সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর। দেশটির প্রতিনিধি পরিষদে বিপুল সমর্থনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই অভিশংসন শুধু একজন নেতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নয়, বরং আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে ক্ষমতার বড় লড়াইয়ের সূচনা।
সারা দুতার্তে সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের মেয়ে এবং ফিলিপাইনের অন্যতম শক্তিশালী রাজনৈতিক পরিবারের প্রতিনিধি। ২০২২ সালের নির্বাচনে তিনি প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ “বংবং” মার্কোস জুনিয়রের সঙ্গে জোট বেঁধে ক্ষমতায় আসেন। তবে কয়েক বছরের মধ্যেই দুই পরিবারের সম্পর্ক তীব্র বিরোধে রূপ নেয়।
দুর্নীতি ও অর্থ লেনদেন নিয়ে অভিযোগ
সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হিসেবে দেখা হচ্ছে দুর্নীতি, ঘুষ এবং অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বিষয়গুলোকে। ফিলিপাইনের অর্থপাচারবিরোধী সংস্থা দাবি করেছে, তার এবং তার স্বামীর ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রায় ৬ দশমিক ৮ বিলিয়ন পেসোর সন্দেহজনক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই অভিযোগ দেশটির রাজনীতিতে বড় আলোড়ন তুলেছে।

এছাড়া ২০২৪ সালে তিনি প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য করেছিলেন যে, তার কোনো ক্ষতি হলে প্রেসিডেন্ট মার্কোস ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে হামলার নির্দেশ দেওয়া আছে। এই বক্তব্যও রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়িয়ে দেয়।
সেনেটে কঠিন সমীকরণ
অভিশংসন প্রক্রিয়ার পর এখন মামলাটি যাবে সিনেটে। সেখানে দোষী সাব্যস্ত করতে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হবে। যদিও প্রতিনিধি পরিষদে প্রেসিডেন্টপন্থিদের শক্ত অবস্থান রয়েছে, কিন্তু সিনেটে পরিস্থিতি এতটা সহজ নয়।
সারা দুতার্তের সমর্থকেরা ইতোমধ্যে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা শুরু করেছে। তার ঘনিষ্ঠ মিত্র অ্যালান পিটার কায়েতানো সম্প্রতি সিনেটে গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব পরিবর্তনে ভূমিকা রাখেন। রাজনৈতিক অঙ্গনে এটি ক্ষমতার ভারসাম্য পাল্টে দেওয়ার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুতার্তে পরিবারের প্রভাব এখনও শক্তিশালী

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্ডানাও অঞ্চলে দুতার্তে পরিবারের রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিনের। সাবেক প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো দুতার্তের বিতর্কিত মাদকবিরোধী অভিযানের কারণে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাদের পরিবার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। বর্তমানে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের মামলার মুখোমুখি রয়েছেন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, সারা দুতার্তের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ পেলে জনমতের বড় পরিবর্তন হতে পারে। তবে তার সমর্থকেরা এখনও বিশ্বাস করেন, তিনি ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী।
ফিলিপাইনের ভবিষ্যৎ কোন পথে
বর্তমান সংকট ফিলিপাইনের রাজনীতিকে দুই ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। একদিকে প্রেসিডেন্ট মার্কোস প্রশাসন নিজেদের আইনের শাসনের পক্ষে অবস্থান দেখাতে চাইছে। অন্যদিকে দুতার্তে পরিবারের রাজনীতি শক্ত অবস্থান, প্রতিশোধ এবং ক্ষমতার প্রদর্শনের ওপর দাঁড়িয়ে আছে বলেও সমালোচনা রয়েছে।
আগামী কয়েক মাসে সিনেটের বিচার প্রক্রিয়া এবং রাজনৈতিক সমঝোতাই ঠিক করবে ফিলিপাইনের ক্ষমতার ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে।

সারাক্ষণ রিপোর্ট 


















